প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের শক্তি জনগণ আর সেনাবাহিনী জনগণের অবিচ্ছেদ্য
অংশ। তাই সেনাবাহিনীকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে।
দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত
করা হয়েছে। গতকাল রংপুরের পাগলাপীর খলেয়াগঞ্জিপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর ৬৬
পদাতিক ডিভিশনের শীতকালীন মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনীর
দরবার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাহিনী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তারই সাক্ষ্য বহন করছে রংপুর সেনানিবাসের রক্তগৌরব স্মৃতিসৌধটি। দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তা আজো অম্লান। সব শহীদের আত্মত্যাগ সেনাবাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনে আরও উজ্জীবিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সামরিক শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ যেমন অপরিহার্য, তেমনি সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
একুশ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই সামরিক বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রেখে ওই সময়ে সেনাবাহিনীতে একটি কম্পোজিট ব্রিগেড, একটি পদাতিক ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনসহ একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্ট, রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, পদাতিক সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন, ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স ও ডিভ অর্ডিন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেনাবাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তখন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং, বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্ট, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর কল্যাণ তহবিলের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাস্ট ব্যাংক ও হোটেল রেডিসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিগত বছরে আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ধারা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সেনাসদস্যদের রসদ বৃদ্ধি করেছি। নতুন পে-কমিশন গঠন করে ইতিমধ্যেই অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সেনাসদস্যদেরও বেতন-ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই আমাদের সরকার স্বশস্ত্র বাহিনীর মানোন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও অগ্রগতির অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে এবং বরিশাল-পটুয়াখালীর লেবুখালীতে সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামও সংযোজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ আর ক্ষুধা, দারিদ্র্য-পীড়িত নয়। এখন দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে এসেছি। কমেছে মানুষের আয়বৈষম্য। মাথাপিছু গড় আয়ু বেড়ে ৫৪৩ ডলার থেকে এখন ১৩১৪ ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২ ভাগ। আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে। পালটে গেছে মানুষের জীবনমান। গড় আয়ু বেড়ে ৭০ বছর ৭ মাসে পৌঁছেছে।
এর আগে খলেয়া হেলিপ্যাডে পৌঁছালে সেনা, বিমান, নৌবাহিনীর প্রধানরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত- ‘ব্রিগেড গ্রুপ আক্রমণ’ মহড়া দেখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাহিনী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তারই সাক্ষ্য বহন করছে রংপুর সেনানিবাসের রক্তগৌরব স্মৃতিসৌধটি। দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তা আজো অম্লান। সব শহীদের আত্মত্যাগ সেনাবাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনে আরও উজ্জীবিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সামরিক শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ যেমন অপরিহার্য, তেমনি সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
একুশ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই সামরিক বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রেখে ওই সময়ে সেনাবাহিনীতে একটি কম্পোজিট ব্রিগেড, একটি পদাতিক ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনসহ একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্ট, রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, পদাতিক সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন, ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স ও ডিভ অর্ডিন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেনাবাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তখন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং, বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্ট, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর কল্যাণ তহবিলের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাস্ট ব্যাংক ও হোটেল রেডিসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিগত বছরে আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ধারা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সেনাসদস্যদের রসদ বৃদ্ধি করেছি। নতুন পে-কমিশন গঠন করে ইতিমধ্যেই অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সেনাসদস্যদেরও বেতন-ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই আমাদের সরকার স্বশস্ত্র বাহিনীর মানোন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও অগ্রগতির অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে এবং বরিশাল-পটুয়াখালীর লেবুখালীতে সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামও সংযোজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ আর ক্ষুধা, দারিদ্র্য-পীড়িত নয়। এখন দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে এসেছি। কমেছে মানুষের আয়বৈষম্য। মাথাপিছু গড় আয়ু বেড়ে ৫৪৩ ডলার থেকে এখন ১৩১৪ ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২ ভাগ। আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে। পালটে গেছে মানুষের জীবনমান। গড় আয়ু বেড়ে ৭০ বছর ৭ মাসে পৌঁছেছে।
এর আগে খলেয়া হেলিপ্যাডে পৌঁছালে সেনা, বিমান, নৌবাহিনীর প্রধানরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত- ‘ব্রিগেড গ্রুপ আক্রমণ’ মহড়া দেখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা।

No comments:
Post a Comment