Monday, January 25, 2016

বাজারে সবজি প্রচুর, দামও কম by মোছাব্বের হোসেন

শীতের শুরুর দিকে বাজারে শাক-সবজির দাম চড়া থাকলেও এখন এসব শাক-সবজির দাম হাতের নাগালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বাজারে সবজির সরবরাহও প্রচুর। শীতের এই পুরো সময়ে তরিতরকারির সরবরাহ ঠিক থাকলে বাকি সময়টাও দাম সাধ্যের মধ্যে থাকবে বলে জানান তাঁরা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি ১৫-২৫ টাকা, বাঁধাকপি ১৫-২০ টাকা, গাজর ১৫-২০ টাকা, শিম ১৫-২০ টাকা, টমেটো ২০-২৫ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা, চিচিঙ্গা ২৫-৩০ টাকা, বরবটি ৩০-৩৫ টাকা, বেগুন ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, লাল শাক পাঁচ টাকা, লাউ শাক ১০ টাকা, কচু শাক ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম বেশি বাড়ে নাই, অহনও কম আছে। দেখেন না, সক্কল সবজিই সস্তা।’
ফার্মগেটের বাসিন্দা সরকারি চাকুরে গোলাম ফারুক কিনছিলেন সবজি। তিনি বলেন, ‘শীতের শুরুর দিকে যেমন সব সবজির দামই অনেক বেশি ছিল, এখন তা নেই। হাতের নাগালেই আছে।’ তিনি এই সময় প্রতি বেলার খাবারের তালিকায় সবজি রাখেন বলে জানান।
বাজার থেকে লাউ কিনছিলেন নিউ ইস্কাটনের বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান। পেশায় ব্যবসায়ী এই ব্যক্তি জানালেন, কিছুদিন আগেও এই লাউ তিনি প্রতিটি কিনেছেন ৪০-৪৫ টাকায়। এখন দুটি কিনলেন ৬০ টাকায়। তিনি বলেন, ‘সব সবজির দামই ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে।’
বেশির ভাগ সবজির দাম কমলেও কিছু সবজির দাম এখনো বেশি। গতকাল সন্ধ্যায় দেখা গেল, করলা বেচাকেনা নিয়ে কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে তর্ক লেগেছে ঢাকা পলিটেকনিকের চাকুরে খগেন্দ্র নাথ সরকারের। প্রথম আলোকে খগেন্দ্র বলেন, ‘এই করলা চাইছে ৫০ টাকা কেজি। এটা তো আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে বিক্রেতার দাবি তাঁর করলা বাজারের সেরা বলে দামও বেশি।
বাজারে আলুর সরবরাহ বেড়েছে। এ মাসের শুরুর দিকে আলু প্রতিকেজি ছিল ৩০-৩৫ টাকায়। বিভিন্ন বাজারে আলু ১৬-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। তবে কাঁঠালবাগানের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, আলুর সরবরাহ বাড়লেও পুরোদমে এখনো বাড়েনি। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে এই সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন আলুর দাম আরও কমে যেতে পারে। আলু বিক্রেতা মুন্সিগঞ্জের নাসির শেখ জানান, আলুর জন্য বিখ্যাত মুন্সিগঞ্জের আলু। কিন্তু এখনো সেখানকার আলু বাজারে আসতে শুরু করেনি। এখন বাজারে দিনাজপুর বা বগুড়ার আলু বেশি।
পেঁয়াজের দামও কমেছে আগের তুলনায়। বিক্রেতা জানান, পাবনা, রাজশাহী ও ফরিদপুর থেকে প্রচুর দেশি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এ জন্য পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। পেয়াজ বিক্রেতা আজাদ দেওয়ান প্রতি পাল্লা পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন। হাতিরপুলের খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমে আসবে।

No comments:

Post a Comment