Monday, January 25, 2016

খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা গ্রহণে আজ সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ এ আবেদন করেন।
পরে মমতাজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নালিশি মামলা নিতে তিনি (আবেদনকারী) সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন জমা দিয়েছেন। বেলা ১১টার দিকে আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা।
মমতাজ উদ্দিন বলেন, আবেদনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা আমলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আরজি জানানো হয়েছে।
‘স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে’—খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের পর মমতাজ উদ্দিনের একটি আবেদন পর্যালোচনা করে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মমতাজ উদ্দিন ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে সহায়তা চান। এর পর সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওই আইনজীবী। মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার তাঁকে মামলা করার অনুমতি দেয়।
মমতাজ উদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়া যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি মনে করেন সেটা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এখন আদালত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন, রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ হয়েছে কি হয়নি। মামলার পর ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারায় আবেদন আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখবেন। অপরাধ হয়েছে কি হয়নি, খতিয়ে দেখে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিতে পারেন, সমন দিতে পারেন।
আইনজীবীর আবেদনে জানানো হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।
তবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য এ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। রাষ্ট্রদ্রোহ হয় যদি কেউ সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে। যদি কেউ সরকারের প্রতি জনগণকে উসকে দেওয়ার জন্য বক্তৃতা দেয়, তাহলে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ। এখানে খালেদা জিয়া কোনো রাষ্ট্রদ্রোহ করেননি।
গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।
খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন সংগঠন।

No comments:

Post a Comment