Wednesday, February 10, 2016

মহেশখালীতে টাকা ছাড়া পাসপোর্টের তদন্ত রিপোর্ট দেয়না ডিএসবি

স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে টাকা ছাড়া পাসপোর্টের আবেদনপত্র তদন্তের রিপোর্ট দেয়না ডিএসবির কনস্টেবল মোঃ ফারুখ ও মনির। মাথা পিছু ২ হাজার থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবী আদায় না করলে রিপোর্ট দেয়না মাসের পর মাস এমন অভিযোগ ভোক্তভোগিদের। আর এতে করে বিপাকে পড়েছে এ উপজেলার অসংখ্য পাসপোর্ট আবেদনকারী । ডিএসবি কনেস্টবলদের নিকট অনেকটা অসহায়, নিরুপায় আর জিম্মি হয়ে পড়েছে পাসপোর্ট প্রার্থীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নের কিছু চিহ্নিত দালালের হাতে রয়েছে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের নিয়তি। এদের সাথে রয়েছে ফারুখ এবং মনিরের বিশেষ দহরম-মহরম সম্পর্ক। এসব দালালের কাছ থেকে প্রতিনিয়িতই মোটা অংকের মাসোহারা আদায় করে অভিযাগ রয়েছে । অন্যদিকে ওই ডিএসবি কনস্টেবলের বিরুদ্ধে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা, চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসা’সহ স্থানীয় বিভিন্ন মামলার আসামী চিহ্নিত বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতাদের সাথে দারুণ সখ্যতার ও গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা যারা বিভিন্ন মামলার আসামী তাদের পাসপোর্টের পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ওই কনস্টেবলরা। বিভিন্ন চোরাই মোটর সাইকেল কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলা থেকে এনে মহেশখালীর বিভিন্ন জনের কাছে চড়াদামে ও বিক্রির অভিযাগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অপকর্ম উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা অবগত হয়েও ডিএসবি কনস্টেবল ফারুখ, মনিরের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্থানীয়রা জানান, এ দাপুটে কনস্টেবলরা পুলিশের চট্টগ্রামের ডিআইজি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথের কাছের লোক পরিচয় দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ও করেনা। । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪মাস পূর্বে কক্সবাজার সদর থানা থেকে (ডিএসবি) এর কনস্টেবল হিসেবে মোঃ ফারুখ বিদায়ী মাহমুদের স্থলে মহেশখালী থানায় যোগদান করেন। মনির ডিএসবি বিদায়ী কনস্টেবল ইসমাঈলের স্থলভিত্তিক হন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ডিএসবি কনস্টেবল ফারুখ-মনির মহেশখালী থানায় যোগদান করেই শুরু করেন নানান অপকর্ম। কোন পাসপোর্ট আবেদনকারী তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে পাসপোর্ট আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। এদিকে গোপন সূত্রে জানা গেছে, টু কনস্টেবল মহেশখালীতে থানায় যোগদান করার পর থেকে উপজেলার হোয়ানক ছাড়া ও কালারমারছড়া ইউনিয়নের ওসমান হত্যার আসামীদের পাসপোর্ট পেয়ে দিয়েছেন। এর পিছনে নেপথ্যে রয়েছে, কিছু দালাল। পাসপোর্ট পাওয়ার েেত্র ডিএসবি কনস্টেবলদের মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করেছেন। তাদের কাছে পাসপোর্টের তদন্তের আবেদন গেলে ও কোন মামলা না থাকলে ও এক পক্ষকে ফাঁসাতে অপর পক্ষ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে আবেদনকারী পাসপোর্টে মিথ্যা তথ্যা দিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয় মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে মহেশখালী থানায় কর্মরর্ত ডিএসবি কনস্টেবল মোঃ ফারুখ এবং মনিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযাগ সরাসরি অস্বীকার করে জানান, পাসপোর্ট তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নামে তারা কাউকে আর্থিকভাবে হয়রানী করছেনা। চোরাই মোটর সাইকেলের ব্যবসার সাথে ও জড়িত নাই বলেও দাবী করেন। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার ডি আই-১ পুলিশ পরির্দশক কাজী মোঃ দিদারুল আলম বলেন, ডিএসবির দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যদি ঘুষ নেওয়ার সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে টেলিফোনে অবহিত করা হলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ এ প্রতিবেদককে বলেন, মহেশখালী থানায় কর্মরর্ত ডিএসবি কনস্টেবল ফারুখ মনিরের নানা অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment