Wednesday, February 10, 2016

গবেষণা ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়েছি বলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছে। আমরা সব ধরনের গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। গবেষণা ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়। বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ এবং বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে স্বল্পমূল্যে বাজারে শাক-সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এটি এমনি এমনি হয়নি, গবেষণার ফসল। কৃষি গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়েছি বলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছে। আমরা সব ধরনের গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। গবেষণা ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এসময় শিক্ষাখাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরাই শিক্ষাকে বহুমুখি করেছি। শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে অনেক কিছুই আগে করেছি, যেটা বিএনপি-জামায়াত জোট এসে বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য এবার সব কিছু্ই একটা ট্রাস্ট গঠন করে করছি। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এসে বন্ধ না করতে পারে। বঙ্গবন্ধু সাইন্স এন্ড আইসিটি ফেলোশিপ প্রকল্প খুব শিগগিরই ট্রাস্টে রূপান্তরিত করার ঘোষণাও দেন তিনি। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক মেধাবী,  আমাদের চেয়েও বেশি মেধাবী। তারা এই যুগের ডিজিটাল বাচ্চা হিসেবে বড় হচ্ছে। ২০৪১ সালে আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন উন্নত জীবন পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের যারা শিশু তারাই আগামী দিনে কর্ণধার হবে। আর সেটা হতে হবে আরো বেশি শিক্ষিত  হয়ে, জ্ঞান অর্জন করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ছাড়া, শিক্ষিত জাতি ছাড়া এদেশ  কোনো দিন উন্নত হবে না।
তাই অন্য কোনো দিকে মন না দিয়ে সবার আগে লেখাপড়া এবং এরপর জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার দিকে শিক্ষার্থীদের মন দেয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সায়েন্স অ্যান্ড আইসিটি’ প্রকল্প থেকে এসব ফেলোশিপ ও অনুদান দেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বিদেশে ৫০ জন এমএস, ৬০ জন পিএইচডি, দেশে ১০০ জন পিএইচডি এবং ১১ জন পিএইচডি উত্তর গবেষণা ফেলোশিপ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বিদেশে ৩৭ জন এমএস, ৩০ জন পিএইচডি এবং দেশে ৩৮ জন পিএইচডি ও ৮ জন পিএইচডি উত্তর কোর্সে গবেষণা কার্যক্রম শেষ করেছেন।
মন্ত্রণালয় এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি উত্তর শিক্ষার্থীদের ‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ দিচ্ছে। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৭২ জন তরুণ গবেষকের মধ্যে ৩১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা ফেলোশিপ দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩৮ জন গবেষককে ৮ কোটি  ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০০ টাকা দেয়া হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় প্রণোদনা হিসেবে মন্ত্রণালয় ‘গবেষণা অনুদান’ দিচ্ছে। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা গবেষণা অনুদান দিয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে ৩৯০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ কোটি ৮ লাখ টাকা দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বিশ্বটা কিন্তু হাতের মুঠোয়। আমরাও তার সুফলকে কাজে লাগাচ্ছি। ইতোমধ্যে সারা বাংলাদেশে ইন্টারনেট চালু করেছি। ৩৩২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছি। ভার্চুয়াল প্রযুক্তিতে বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল পুস্তক ও জার্নাল সহজলভ্য করেছি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গবেষণা প্রণোদনা প্রকল্প ৪৯৭ থেকে ১ হাজার ২৮২টি করেছি। ইউজিসি ২৬৭ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি, ১৩৮ জনকে এমফিল এবং ২১ জন শিক্ষককে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ দিয়েছে। গবেষণার জন্য সার্ক ফেলোশিপ, রোকেয়া চেয়ার ও ইউজিসি প্রফেসরশিপ প্রবর্তন করা হয়েছে।
৭শ’ ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ‘উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। উচ্চশিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ৮৯৬ কোটি ২৬ লাখ থেকে ২ হাজার ১১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা করেছি। ইউএসডিএ ও জাইকার অর্থানুকূল্যে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

No comments:

Post a Comment