Thursday, February 11, 2016

আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা : মুফতি হান্নানসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড
হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান
সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
এ ছাড়া মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রেখেছেন আদালত। পাঁচ আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।  বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের রায়ে এই সাজা বহাল রাখেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক কামাল উদ্দিন নিহত হন। পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন।
পুলিশ ওই দিনই সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম, হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। যথাযথ ঠিকানা না থাকায় মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম প্রথমে বাদ দেয়া হলেও পরে তাকে যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছর নভেম্বরে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
৫৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামীম মো. আফজাল রায় ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাঁচ আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে।
নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০০৮ সালে আসামিদের ডেথরেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) হাইকোর্টে শুনানির জন্য আসে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে ওইসব ডেথরেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার নবম দিনের মতো এ মামলার শুনানি হয়। শুনানি গ্রহণ শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

No comments:

Post a Comment