![]() |
| ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। বাসাবো, কদমতলা এলাকার বাসিন্দারা পাম্পে ভিড় জমাচ্ছেন |
শীতলক্ষ্যা
নদীর পানির দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের পানির লাইনে।
শীতলক্ষ্যার পানি শোধন করে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার। কিন্তু পানি এতটাই
দূষিত হয়ে পড়েছে যে, সে পানি শোধন করা শোধনযন্ত্রের ক্ষমতার বাইরে চলে
যাচ্ছে। তাই এখান থেকে সরবরাহ করা পানি পুরোপুরি বিশুদ্ধ থাকছে না।
ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, অতীতেও নদীর পানি দূষিত হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দূষিত পানি সরবরাহ করতে হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ খুব বেড়ে গেছে। পানি সরবরাহের আগে একটি ‘প্রাক্-শোধনযন্ত্র’ কাজ করে। প্রায় ৬০ কোটি টাকায় সেটি বসানো হয়েছিল। সায়েদাবাদ দুটি শোধনাগার থেকে ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হয়।
সূত্রমতে, এই শোধনাগারের পানির একটি লাইন মালিবাগ হয়ে রামপুরা সেতু, আরেকটি লাইন মগবাজার, পান্থপথ, রাসেল স্কয়ার হয়ে মিরপুর বাঙলা কলেজ পর্যন্ত, আরেকটি লাইন তেজগাঁও হয়ে গুলশান শুটিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত গেছে। এ ছাড়া ফকিরের পুল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, গ্রিন রোড, গোপীবাগসহ পুরান ঢাকার কিছু অংশে এই পানি যায়। যেসব এলাকায় এই পানি সরবরাহ হয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় স্থানীয় গভীর নলকূপের পানি, যা আন্তসংযোগের মাধ্যমে একাকার হয়ে যায়। ফলে যেসব এলাকায় সায়েদাবাদের পানি যায় না, সেসব এলাকায়ও পানি দূষিত হয়ে যায়। পানি বিশুদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত ক্লোরিন দেওয়া হচ্ছে অনেক এলাকায়। তাতে নতুন বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে নগরের অনেক এলাকায় পানিতে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ধরনের অভিযোগও আসছে প্রথম আলো কার্যালয়ে। পূর্ব রামপুরার টিভি রোড এলাকা থেকে চঞ্চল নামের এক গ্রাহক জানান, প্রায় এক মাস ধরে পানিতে দুর্গন্ধ। সপ্তাহ খানেক আগে এলাকাবাসী স্থানীয় পাম্প স্টেশনে গিয়ে অভিযোগ জানান। সেখান থেকে বলা হয়, সায়েদাবাদের পানি দূষিত হওয়ায় পানিতে দুর্গন্ধ। ওই এলাকার ভুক্তভোগীরা বলেন, বাসায় পানির কল খুললে যে পানি পাওয়া যায়, তা পান করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। খাওয়ার পানি সংগ্রহ করেন সরাসরি পাম্পের কল থেকে।
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় পাম্পে পানির পাত্র নিয়ে ভিড় করেছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তিতাস রোডেও একটি নতুন পাম্প বসানো হয়েছে। সেখান থেকেও গ্রাহক বা তাঁদের প্রতিনিধি পানি সংগ্রহ করেন।
মৌচাক-মগবাজার এলাকায়ও পানিতে দুর্গন্ধ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে শীতলক্ষ্যার পানির সমস্যা ছাড়াও উড়ালসড়ক নির্মাণের কারণে অনেক স্থানে ওয়াসার পানির লাইন ফেটে গেছে। ফাটা পাইপে ঢুকছে ময়লা পানি। তা যাচ্ছে বাসাবাড়ির কলে। মগবাজারের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ১০ দিন আগে তাঁদের বাড়িতে ওয়াসার পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকায় প্রথমে রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
পুরান ঢাকার গোপীবাগ, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, পেয়াদা পাড়া এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় বালুর মাঠ পাম্প এবং রামকৃষ্ণ মিশন পাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করেন এলাকাবাসী। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বালুর মাঠ পাম্পে অন্তত ৩০ জনকে পানি সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। গত শনিবার বিকেল চারটার দিকে বিভিন্ন ধরনের পাত্র নিয়ে গ্রাহকদের একইভাবে পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায় রামকৃষ্ণ মিশন পাম্পে। তিনটি জার নিয়ে অভয় দাস লেন থেকে পানি নিতে এসেছে এক কিশোরী গৃহকর্মী। সে বলে, বাসার পানি খাওয়ার মতো নয়, তাই প্রতিদিন আসতে হয়। কষ্টও হয়।
বাসাবো কদমতলা পানির পাম্প, রাজারবাগ পুলিশ লাইন পানির পাম্পেও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে মানুষের ভিড় দেখা যায়।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, শীতলক্ষ্যার পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ খুব বেড়ে যাওয়ায় শোধনে সমস্যা হচ্ছে। সরবরাহ করা পানিতে ওষুধও দিতে হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টি হলেই দূষণ কমে যাবে। তিনি বলেন, অবৈধ সংযোগসহ বিভিন্ন কারণে পাইপ ফুটো হয়ে যাওয়ায়ও অনেক এলাকার পানি দূষিত হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, অতীতেও নদীর পানি দূষিত হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দূষিত পানি সরবরাহ করতে হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ খুব বেড়ে গেছে। পানি সরবরাহের আগে একটি ‘প্রাক্-শোধনযন্ত্র’ কাজ করে। প্রায় ৬০ কোটি টাকায় সেটি বসানো হয়েছিল। সায়েদাবাদ দুটি শোধনাগার থেকে ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হয়।
সূত্রমতে, এই শোধনাগারের পানির একটি লাইন মালিবাগ হয়ে রামপুরা সেতু, আরেকটি লাইন মগবাজার, পান্থপথ, রাসেল স্কয়ার হয়ে মিরপুর বাঙলা কলেজ পর্যন্ত, আরেকটি লাইন তেজগাঁও হয়ে গুলশান শুটিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত গেছে। এ ছাড়া ফকিরের পুল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, গ্রিন রোড, গোপীবাগসহ পুরান ঢাকার কিছু অংশে এই পানি যায়। যেসব এলাকায় এই পানি সরবরাহ হয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় স্থানীয় গভীর নলকূপের পানি, যা আন্তসংযোগের মাধ্যমে একাকার হয়ে যায়। ফলে যেসব এলাকায় সায়েদাবাদের পানি যায় না, সেসব এলাকায়ও পানি দূষিত হয়ে যায়। পানি বিশুদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত ক্লোরিন দেওয়া হচ্ছে অনেক এলাকায়। তাতে নতুন বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে নগরের অনেক এলাকায় পানিতে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ধরনের অভিযোগও আসছে প্রথম আলো কার্যালয়ে। পূর্ব রামপুরার টিভি রোড এলাকা থেকে চঞ্চল নামের এক গ্রাহক জানান, প্রায় এক মাস ধরে পানিতে দুর্গন্ধ। সপ্তাহ খানেক আগে এলাকাবাসী স্থানীয় পাম্প স্টেশনে গিয়ে অভিযোগ জানান। সেখান থেকে বলা হয়, সায়েদাবাদের পানি দূষিত হওয়ায় পানিতে দুর্গন্ধ। ওই এলাকার ভুক্তভোগীরা বলেন, বাসায় পানির কল খুললে যে পানি পাওয়া যায়, তা পান করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। খাওয়ার পানি সংগ্রহ করেন সরাসরি পাম্পের কল থেকে।
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় পাম্পে পানির পাত্র নিয়ে ভিড় করেছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তিতাস রোডেও একটি নতুন পাম্প বসানো হয়েছে। সেখান থেকেও গ্রাহক বা তাঁদের প্রতিনিধি পানি সংগ্রহ করেন।
মৌচাক-মগবাজার এলাকায়ও পানিতে দুর্গন্ধ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে শীতলক্ষ্যার পানির সমস্যা ছাড়াও উড়ালসড়ক নির্মাণের কারণে অনেক স্থানে ওয়াসার পানির লাইন ফেটে গেছে। ফাটা পাইপে ঢুকছে ময়লা পানি। তা যাচ্ছে বাসাবাড়ির কলে। মগবাজারের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ১০ দিন আগে তাঁদের বাড়িতে ওয়াসার পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকায় প্রথমে রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
পুরান ঢাকার গোপীবাগ, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, পেয়াদা পাড়া এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় বালুর মাঠ পাম্প এবং রামকৃষ্ণ মিশন পাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করেন এলাকাবাসী। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বালুর মাঠ পাম্পে অন্তত ৩০ জনকে পানি সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। গত শনিবার বিকেল চারটার দিকে বিভিন্ন ধরনের পাত্র নিয়ে গ্রাহকদের একইভাবে পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায় রামকৃষ্ণ মিশন পাম্পে। তিনটি জার নিয়ে অভয় দাস লেন থেকে পানি নিতে এসেছে এক কিশোরী গৃহকর্মী। সে বলে, বাসার পানি খাওয়ার মতো নয়, তাই প্রতিদিন আসতে হয়। কষ্টও হয়।
বাসাবো কদমতলা পানির পাম্প, রাজারবাগ পুলিশ লাইন পানির পাম্পেও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে মানুষের ভিড় দেখা যায়।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, শীতলক্ষ্যার পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ খুব বেড়ে যাওয়ায় শোধনে সমস্যা হচ্ছে। সরবরাহ করা পানিতে ওষুধও দিতে হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টি হলেই দূষণ কমে যাবে। তিনি বলেন, অবৈধ সংযোগসহ বিভিন্ন কারণে পাইপ ফুটো হয়ে যাওয়ায়ও অনেক এলাকার পানি দূষিত হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment