![]() |
| সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির এই পর্যায়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অবস্থানই মজবুত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ছবি: এএফপি |
সিরিয়ায়
চিকিৎসক আর স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে এখন অখণ্ড অবসর। গত শনিবার সে দেশে
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তাঁদের কাজকর্ম অনেকটাই কমে গেছে। বোমা
হামলা, গোলাবর্ষণ আর সংঘর্ষ থেমে যাওয়ায় এখন ব্যাপক প্রাণহানি বা হতাহতের
আশঙ্কা কমে গেছে। এতে চিকিৎসকদের হতাহতের পাশে ছোটাছুটি কমে গেছে।
স্বেচ্ছাসেবীরা এখন উদ্ধার তৎপরতার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি থেকে দম ফেলার একটু
ফুরসত পাচ্ছেন।
এএফপির খবরে জানানো হয়, কাজ নেই বলে অনেকে এখন খোলা মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলায় মেতেছে। সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর আলেপ্পোয় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। যুদ্ধকবলিত মানুষের সেবায় কাজ করেছেন—এমন একজন স্বেচ্ছাসেবী হচ্ছেন আবদুর রহমান। সাদা হেলমেটধারী এই স্বেচ্ছাসেবী বলেন, সিরিয়া জুড়ে ১১৪টি জরুরি সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি করে ফোন আসত। এখন তা নেই। কাজেই হাতে তাঁদের এখন প্রচুর অবকাশ।
কিন্তু যুদ্ধ থেমে গেছে বলেই সিরিয়ায় এখন হাই তুলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার জো নেই। সামনে পড়ে আছে অনেক কাজ। সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া আর কিছু ঘটেনি। পাঁচ বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখের বেশি মানুষের প্রাণ ঝরেছে। বাস্তুচ্যুত হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে হাজারো সিরীয়। তাদের সর্বশেষ খবর হচ্ছে, কানাডায় আশ্রয় পেতে যাচ্ছে ২৫ হাজার সিরীয় শরণার্থী। সিরিয়ার এমন শরণার্থী রয়েছে দুনিয়াজুড়ে। যুদ্ধ থেমে গেছে বলেই যে তারা চট করে দেশে ফিরবে, এমন আশা করার অবকাশ কম। কারণ সিরিয়া জুড়েই রয়েছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেসব জায়গায় কোনো ঘরবাড়ি আর অক্ষত নেই।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলেই যে সেখানে সংঘাত থেমে থাকবে, এরই বা নিশ্চয়তা কী? বিবিসির খবরে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গত শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কর আশপাশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। তবে এসব গোলা কারা ছুড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই মুরব্বির মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা কতটুকু টেকসই হবে, এ নিয়ে সংশয়ের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কারণ দেশটির ভেতর বিষফোড়ার মতো ঘাপটি মেরে আছে আইএস এবং আল-কায়েদার সঙ্গে থাকা আল নুসরা ফ্রন্টের মতো জঙ্গিগোষ্ঠী। এসব সংগঠনের জঙ্গিরা সময়-সুযোগমতো থাবা মেরে স্থিতিশীলতায় বাগড়া দিতে পারে। তবে এ মুহূর্তে রাশিয়ার চাপে জঙ্গিরা বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের মদদ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে পশ্চিমা মিত্ররা। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল যে বাশারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতায় সামরিক শক্তিবলে ক্ষমতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বাশার। যুদ্ধবিরতির এই পর্যায়ে বাশারের অবস্থানই মজবুত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরান, ইসলামপন্থী সশস্ত্র শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও রাশিয়ার সহযোগিতায় বাশার প্রায় আগের অবস্থানে ফিরে গেছেন। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল এখন তাঁর অনুগত বাহিনীর দখলে। বিদ্রোহীরা একসময় আলেপ্পো দখল করে যে কৌশলগত সুবিধা বাগিয়ে ছিল, সেটিও নস্যাৎ করে দিয়েছে বাশারের সেনারা। এখন তারা চাইছে তুর্কি ও জর্ডানি সীমান্ত বন্ধ করে বিদ্রোহীদের সব রকমের সহযোগিতা আসা বন্ধ করে দিতে। সিরিয়া এখন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। সেখানে তাদের মজবুত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে শক্তি বাড়াবে। এসব দিক বিবেচনা করলে এটুকু বলা যায়, সিরিয়ায় ঘুরেফিরে সেই বাশারের শক্তির পাল্লাই ভারী।
এএফপির খবরে জানানো হয়, কাজ নেই বলে অনেকে এখন খোলা মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলায় মেতেছে। সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর আলেপ্পোয় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। যুদ্ধকবলিত মানুষের সেবায় কাজ করেছেন—এমন একজন স্বেচ্ছাসেবী হচ্ছেন আবদুর রহমান। সাদা হেলমেটধারী এই স্বেচ্ছাসেবী বলেন, সিরিয়া জুড়ে ১১৪টি জরুরি সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি করে ফোন আসত। এখন তা নেই। কাজেই হাতে তাঁদের এখন প্রচুর অবকাশ।
কিন্তু যুদ্ধ থেমে গেছে বলেই সিরিয়ায় এখন হাই তুলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার জো নেই। সামনে পড়ে আছে অনেক কাজ। সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া আর কিছু ঘটেনি। পাঁচ বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখের বেশি মানুষের প্রাণ ঝরেছে। বাস্তুচ্যুত হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে হাজারো সিরীয়। তাদের সর্বশেষ খবর হচ্ছে, কানাডায় আশ্রয় পেতে যাচ্ছে ২৫ হাজার সিরীয় শরণার্থী। সিরিয়ার এমন শরণার্থী রয়েছে দুনিয়াজুড়ে। যুদ্ধ থেমে গেছে বলেই যে তারা চট করে দেশে ফিরবে, এমন আশা করার অবকাশ কম। কারণ সিরিয়া জুড়েই রয়েছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেসব জায়গায় কোনো ঘরবাড়ি আর অক্ষত নেই।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলেই যে সেখানে সংঘাত থেমে থাকবে, এরই বা নিশ্চয়তা কী? বিবিসির খবরে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গত শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কর আশপাশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। তবে এসব গোলা কারা ছুড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই মুরব্বির মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা কতটুকু টেকসই হবে, এ নিয়ে সংশয়ের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কারণ দেশটির ভেতর বিষফোড়ার মতো ঘাপটি মেরে আছে আইএস এবং আল-কায়েদার সঙ্গে থাকা আল নুসরা ফ্রন্টের মতো জঙ্গিগোষ্ঠী। এসব সংগঠনের জঙ্গিরা সময়-সুযোগমতো থাবা মেরে স্থিতিশীলতায় বাগড়া দিতে পারে। তবে এ মুহূর্তে রাশিয়ার চাপে জঙ্গিরা বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের মদদ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে পশ্চিমা মিত্ররা। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল যে বাশারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতায় সামরিক শক্তিবলে ক্ষমতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বাশার। যুদ্ধবিরতির এই পর্যায়ে বাশারের অবস্থানই মজবুত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরান, ইসলামপন্থী সশস্ত্র শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও রাশিয়ার সহযোগিতায় বাশার প্রায় আগের অবস্থানে ফিরে গেছেন। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল এখন তাঁর অনুগত বাহিনীর দখলে। বিদ্রোহীরা একসময় আলেপ্পো দখল করে যে কৌশলগত সুবিধা বাগিয়ে ছিল, সেটিও নস্যাৎ করে দিয়েছে বাশারের সেনারা। এখন তারা চাইছে তুর্কি ও জর্ডানি সীমান্ত বন্ধ করে বিদ্রোহীদের সব রকমের সহযোগিতা আসা বন্ধ করে দিতে। সিরিয়া এখন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। সেখানে তাদের মজবুত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে শক্তি বাড়াবে। এসব দিক বিবেচনা করলে এটুকু বলা যায়, সিরিয়ায় ঘুরেফিরে সেই বাশারের শক্তির পাল্লাই ভারী।

No comments:
Post a Comment