Sunday, February 21, 2016

মানিকগঞ্জে ভাগ্নের হাতে ২ মামা খুন

লাশ সামনে রেখে স্বজনদের আহাজারি
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামে জমি ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে ২ মামাকে খুন করেছেন জাহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ভাগ্নে। রোববার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাগ্নে জাহিদুল ইসলাম (৪৫), রশিদ হোসেন (৩৮) ও জসিম উদ্দিনের (৩০) নেতৃত্বে ৮-১০ জন নিজ ঘরে আটকে লাঠি, বল্লম ও ধারাল দা দিয়ে কুপিয়ে দুই মামাকে খুন করেন। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের মৃত রহিম মোল্লার ছেলে আজিজ মোল্লা (৫৫) ও দিরগজ মোল্লার ছেলে টেনডল মোল্লা (৫০)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। এ সময় ভাগ্নে ও তাদের লোকজনের হামলায় টেনডলের স্ত্রী কমেলা বেগম (৪০), ভাই করিম মোল্লা (৪০), ছেলে আল-আমিন (১৩), শ্যালক রমজান হোসেন (২৮) ও আলমগীর হোসেন (৩০) আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, বাহরাইনে টেনডলের বোন হাসিনা ও আরেক বোনের ছেলে রশিদ একই সঙ্গে থাকতেন। পাঁচ মাস আগে বাহরাইনে হাসিনা মারা গেলে সেখানে দাফন করা হয়।
হাসিনা নিঃসন্তান থাকায় তার প্রায় ২৮ লাখ টাকা ও নিজ গ্রামে কেনা ৩৬ শতাংশ জমি রশিদ, জাহিদুল ও জসিমরা হাতিয়ে নেয়। এই আর্থিক ও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে টেনডলের সঙ্গে ভাগ্নেদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে এ নিয়ে ভাগ্নেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন টেনডল। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানাপুলিশ টেনডলকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেয়ার রায় দেয়া হয়।
থানার সালিশের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্থানীয় জামটি মার্কেটের নুরুল ইসলামের চায়ের দোকানে নিহতদের ওপর হামলা চালায় সামছুল ও তার ছেলেরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে আজিজ, টেনডল ও করিম পাশে ভাগ্নেদের বাড়ি যায় এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামাদের ঘরে আটকে কুপিয়ে জখম করে।
এতে ঘটনাস্থলেই আজিজ ও টেনডল নিহত হন। আর করিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অন্যদের ঘোনাপাড়াস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্বজনরা।
তাদের মধ্যে করিমের অবস্থা আশংকাজনক বলে স্বজনদের জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সিংগাইর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান মাহবুবুর রহমান মিঠু বলেন, মৃত হাসিনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠকে মীমাংসা না হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌসুমী সরকার রাখীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সিংগাইর থানার ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান বলেন, এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মীমাংসা করে দেয়া হয়েছিল। সে মীমাংসা সামছুল পক্ষ মেনে না নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment