Wednesday, February 24, 2016

হত্যা অপহরণ ও মাদক মামলার আসামি ছাত্রলীগের কমিটিতে

ছিনতাইকারী, অছাত্র, চাঁদাবাজ ও বিবাহিতরাও গুরুত্বপূর্ণ পদে * পদ পেয়েছে ছাত্রদলের নেতাও
হত্যা মামলার আসামি, অপহরণ ও মাদক মামলার আসামি, ছিনতাইকারী, অছাত্র, বিবাহিত, চাঁদাবাজ, কুকর্মের জন্য বিভিন্ন সময় সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত এবং কর্মজীবীদের দিয়ে ছাত্রলীগের বিতর্কিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে একদিকে বাদ পড়েছে দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা অসংখ্য ত্যাগী নেতা। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছে ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের বড় একটি অংশ। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে যারা বর্তমান কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তাদেরকে এবারের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ‘সাইজ’ করা হয়েছে। কমিটি গঠনে নির্দিষ্ট এলাকা এবং ব্যক্তির অনুসারীদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া কথিত ‘সিন্ডিকেট’-এর বলয়মুক্ত হতে পারেনি কমিটি।
গত বছরের ২৬-২৭ জুলাই ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি গঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় সাত মাস পর সোমবার রাতে সংগঠনটির ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটিতে সহ-সভাপতি ৪১ জন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ১০ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১০ জনসহ মোট ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। ফলে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে গঠনতন্ত্র লংঘন করা হয়েছে।
দীর্ঘ সাত মাস সময় নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ এই কমিটিতে যেসব বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আসছে, তারা হচ্ছেন- ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাকিব হাসান সুইমকে নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান ফারুক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর রাতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের গোলাগুলিতে মারা যায় ফারুক। এ ঘটনার পরই সুইমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়।
ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। গত বছর ক্যাম্পাসে প্রাইভেট কার চাপা দিয়ে এক রিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চাঁদাবাজি ও ঢাবি ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ আছে এই নেতার বিরুদ্ধে।
মহসীন হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ইয়াবা চালানের সময় আটক হওয়া ব্যক্তিরা জবানবন্দিতে মেহেদির নাম বলেন। ওই সময় মহসীন হল থেকে ১২শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পলাশি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে শামসুন্নাহার হলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নিশিতা ইকবাল নদীর বিরুদ্ধে। ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চারুকলা অনুষদের এক ছাত্রীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে নদীর বিরুদ্ধে। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সম্পাদক ইশরাত জাহান অর্চির বিরুদ্ধেও রয়েছে ছাত্রী নির্যাতন, সিট বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ। সাবেক উপক্রীড়া সম্পাদক ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সৃজন ঘোষকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। চাঁদা না দেয়ায় ২০১৪ সালে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তিনি ৬ মাস জেলে ছিলেন বলেও জানা যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে এ ঘটনায় তাকে তিন মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া ২০১২ সালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নেতৃত্বদানের অভিযোগেও তাকে একবার বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এছাড়া গত বছরের শেষের দিকে ইসলামনগর বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ পুরো কার্যালয়ে তাণ্ডব চালায়।
সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি কাজী এনায়েতের বিরুদ্ধে শাহবাগের ফুলের দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
বিএম এহতেশাম হয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি কবি জসীমউদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক। দর্শন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী। ঠিকমতো শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ না নেয়ায় তিনি ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামও নানা অপরাধে জড়িয়ে ছাত্রজীবন শেষ করতে পারেননি। ৫ জন সহ-সভাপতিসহ অন্তত ১৩ জন নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থাকার অভিযোগ রয়েছে। আবদুল বাসেত গালীব হয়েছেন সহ-সভাপতি। তিনি গত কমিটির উপ-সম্পাদক ছিলেন। কয়েক মাস আগে ঢাকা কলেজে পুলিশের অভিযানে গুলিসহ আটক হয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় তিনি জেল খাটেন বলেও জানা যায়। তার নির্ধারিত ২৯ বছর নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান সহ-সভাপতি এবং সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল গঠিত হওয়া সূর্যসেন হল ছাত্রদলের ৯নং সদস্য ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনাকালীনও তিনি অন্য সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিবাহিতদেরও স্থান হয়েছে। বিয়ে করেছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল হক রানা। বিবাহের অভিযোগ রয়েছে আরও ৪ জন সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে। এছাড়া জীবন বৃত্তান্ত জমা না দিয়েও কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেশ কয়েকজন পদ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
চাকরিতে যোগ দিলে পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেয়া হবে- কমিটির নিচে লিখিতভাবে এমনটি উল্লেখ থাকলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৬ সাংবাদিককে কমিটিতে পদায়ন করা হয়েছে। এদেরকে ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতেও অংশ নিতে দেখা যায়নি।
বঞ্চিত হয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা নেতারাও : নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিগত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা অনেক নেতাই বঞ্চিত হয়েছেন। সংগঠনে গ্রুপিংয়ের শিকার হয়েই তারা পদ বঞ্চিত হয়েছেন। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতার এলাকায় বাড়ি হওয়াতেও অনেককে পদবঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ- একই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী বাড়াতে চান না বলেই নেতারা এমনটি করেছেন। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপনের অনুসারীদেরকে কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাতের অনুসারী কেউ পদে আসেনি। বাদ পড়েছেন সাবেক উপ-আইন সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশের মতো নেতারাও।
বাদ গিয়েছেন বিগত কমিটির স্কুলবিষয়ক সম্পাদক হাসানুল হক বান্না, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সভাপতি মেহেদী হাসান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক বিপুল, রাকিক আহমেদ ও সদস্য মাহবুব খান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-সম্পাদক এইচএম সাদ্দাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক শামস ই নোমান, অমর একুশে হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, এফএইচ হলের সভাপতি এবং শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদকও।
কথার ফুলঝুরি, কাজে নেই : কমিটি গঠনের আগে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে মুখরোচক বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, অতীতে দলের জন্য ত্যাগ শিকার করেছেন এমন নেতাকর্মীদেরই কমিটিতে রাখা হবে। এছাড়া কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত এমন কাউকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেয়া হবে না। কিন্তু কমিটি গঠনের পর বাস্তব চিত্র তার ঠিক উল্টো দেখা যায়। ফলে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে সাবেক বেশ কয়েকজন নেতাকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ত্যাগে নয়, শীর্ষ নেতাদের সুনজরেই পদ : কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে রাজপথে অতীত অবস্থানে থেকেও নেতাদের সুনজরের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীও বাদ পড়েছেন। প্রাধান্য দেয়া হয়েছে নির্দিষ্ট এলাকাকেও। দফতর সম্পাদক করা হয়েছে দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদাকে। তবে শাহজাদা রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত অপরিচিত। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ফলেই তার পদটি এসেছে বলে জানা গেছে। সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ভালো পদে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সিলেট জেলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে অনেক জুনিয়র নেতাকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছেন তিনি।
ছাত্র রাজনীতির প্রথম পদই কেন্দ্রে : অতীতে ছাত্রলীগে কোনো পদ ছিল না- এমন অনেককেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ওপরের চার সাংবাদিক। এছাড়া অতীতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি থানা শাখার সদস্য ছিলেন এমন একজনকে প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি হলেন প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু। তিনি টিপু-বাদশা কমিটিতে ঢাবির মহসীন হল ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। এছাড়া পরে তার কোনো পদ ছিল না। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তাকে এ পদটি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ থাকলেই হবে না, তা প্রমাণিত হতে হবে। অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আছে, কিন্তু তার কোনো প্রমাণ নেই।’ ইতিপূর্বে যারা অপরাধের দায়ে জেল খেটেছেÑ তারা কেন পদে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোাগ প্রমাণিত হয়নি। বিবাহের ব্যাপারে তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজ নিয়ে কমিটি দিয়েছি। এখানে বিবাহিত থাকার সুযোগ নেই। এরপরেও যদি অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে বর্ধিত সভা ডেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেটের বিবাহিত শহিদ : সিলেট ব্যুরো জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন সিলেটের বিবাহিত শহীদ চৌধুরী। কমিটিতে উল্লেখ করা হয়, এই কমিটির কেউ ব্যবসা ও চাকরিতে যোগদান করলে তাদেরকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেয়া হবে। আর ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ২৩-এর (ক) ধারায় উল্লেখ আছে, কোনো সদস্য বিয়ে করলে সংগঠনের পদপ্রাপ্তির যোগ্যতা হারাবেন। গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিবাহিত শহিদ চৌধুরী ঠাঁই পান সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শহিদ চৌধুরী ছাড়াও সিলেটের নেতাদের মধ্যে উপ-গণযোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক পদে মঈনুল ইসলাম ফয়সাল (সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি), উপ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক পদে শামীম মোল্লা (সিলেট কৃষি বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি), উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক পদে মাহিবুল হাসান মুকিত (শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা) ও উপ-সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক পদে রহমত উল্লাহ শাকুর (শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা) ঠাঁই পেয়েছেন।
ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য : এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়েছি। যেসব অভিযোগ আমরা পেয়েছি, তা যাচাই করে সত্যতা পাইনি। ফলে শুধু অভিযোগের ওপর নির্ভর করে আমরা কাউকে পদবঞ্চিত করিনি। কমিটিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কারও ব্যক্তি সংগঠন নয়। এখানে পক্ষপাতিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই। যার যার যোগ্যতা এবং সংগঠনে অতীত ভূমিকা পর্যালোচনা করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment