এএইচআরসি
বাংলাদেশে
মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর অপ্রতিহত আক্রমণের
ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্স (সিভিকাস)
ও এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের (এএইচআরসি) সহযোগী সংগঠন এশিয়ান লিগ্যাল
রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি)। যৌথ বিবৃতিতে তারা এ উদ্বেগ জানিয়েছে।
এএইচআরসির ওয়েসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সিভিকাসের নীতি ও গবেষণার প্রধান মানদিপ তিয়ানা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের ওপর দমন অভিযানের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর সাংবিধানিক সংকটে রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বাধীন নাগরিক সমাজের ওপর আক্রমণের ঘটনায় স্থিতিশীলতা এবং দেশের কয়েক বছরের অর্জিত অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলো ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও সাধারণ ধর্মঘট পালন করেছিল। বরাবরের মতো পুলিশ এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং অন্যান্য নাগরিক কর্মসূচি প্রতিহত করে। এজন্য তারা মারাত্মক বলপ্রয়োগ, গণগ্রেফতার এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গোষ্ঠীগুলোর ওপর নির্যাতন চালায়।
৫ জানুয়ারির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় সব ধরনের প্রতিবাদ এবং সভার ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় কমপক্ষে ১৪ হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে নির্বিচারে গ্রেফতার ও কারাগারে আটকে রাখা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ব্যাপকসংখ্যক এখনও কারাগারে রয়েছেন বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে।
এছাড়াও সারা দেশে পুলিশ ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আক্রমণে অন্তত ১০০ জন নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন। গত বছরের ১৭ মার্চ কুড়িগ্রামে হরতালের সমর্থনে বিরোধীপন্থী কর্মীদের কর্মসূচিতে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। সহিংসতার খবর প্রচার-প্রকাশ করায় নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি গণমাধ্যমও। বিরোধী দল সমর্থক বলে পরিচিত বেশকিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি এবং দৈনিক আমার দেশ।
বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতিশীল সাংবাদিককেও মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও সিইও আবদুস সালামকে গত বছরের ৬ জানুয়ারি গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান প্রচারের অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবের তিন সাংবাদিক রবিউল্লাহ রবি, রফিক মোহাম্মদ ও আহমেদ আতিককে বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে পত্রিকা অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। মিথ্যা-বানোয়াট খবর প্রকাশের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। এ সাংবাদিকরা জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনও চলমান।
এএলআরসির নির্বাহী পরিচালক বিজো ফ্রান্সিস বলেন, ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ বাংলাদেশের মৌলিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রায়নের পথে প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে। বাকস্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়া ও সমাবেশ করার অধিকার এবং নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ডের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন বাংলাদেশে মৌলবাদী কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
নাগরিকদের ন্যায়সঙ্গত উদ্বেগ নিরসন এবং দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিভিকাস ও এএলআরসি। এর মধ্যে বাকস্বাধীনতা চর্চার জন্য নির্বিচারে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়া, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ব্যাহত করতে অতিরিক্ত ও মারাত্মক বলপ্রয়োগের ঘটনা বন্ধ ও তদন্ত করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগগুলো বাতিল করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে তারা।
সিভিকাসের নীতি ও গবেষণার প্রধান মানদিপ তিয়ানা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের ওপর দমন অভিযানের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর সাংবিধানিক সংকটে রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বাধীন নাগরিক সমাজের ওপর আক্রমণের ঘটনায় স্থিতিশীলতা এবং দেশের কয়েক বছরের অর্জিত অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলো ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও সাধারণ ধর্মঘট পালন করেছিল। বরাবরের মতো পুলিশ এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং অন্যান্য নাগরিক কর্মসূচি প্রতিহত করে। এজন্য তারা মারাত্মক বলপ্রয়োগ, গণগ্রেফতার এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গোষ্ঠীগুলোর ওপর নির্যাতন চালায়।
৫ জানুয়ারির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় সব ধরনের প্রতিবাদ এবং সভার ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় কমপক্ষে ১৪ হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে নির্বিচারে গ্রেফতার ও কারাগারে আটকে রাখা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ব্যাপকসংখ্যক এখনও কারাগারে রয়েছেন বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে।
এছাড়াও সারা দেশে পুলিশ ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আক্রমণে অন্তত ১০০ জন নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন। গত বছরের ১৭ মার্চ কুড়িগ্রামে হরতালের সমর্থনে বিরোধীপন্থী কর্মীদের কর্মসূচিতে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। সহিংসতার খবর প্রচার-প্রকাশ করায় নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি গণমাধ্যমও। বিরোধী দল সমর্থক বলে পরিচিত বেশকিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি এবং দৈনিক আমার দেশ।
বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতিশীল সাংবাদিককেও মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও সিইও আবদুস সালামকে গত বছরের ৬ জানুয়ারি গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান প্রচারের অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবের তিন সাংবাদিক রবিউল্লাহ রবি, রফিক মোহাম্মদ ও আহমেদ আতিককে বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে পত্রিকা অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। মিথ্যা-বানোয়াট খবর প্রকাশের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। এ সাংবাদিকরা জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনও চলমান।
এএলআরসির নির্বাহী পরিচালক বিজো ফ্রান্সিস বলেন, ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ বাংলাদেশের মৌলিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রায়নের পথে প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে। বাকস্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়া ও সমাবেশ করার অধিকার এবং নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ডের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন বাংলাদেশে মৌলবাদী কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
নাগরিকদের ন্যায়সঙ্গত উদ্বেগ নিরসন এবং দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিভিকাস ও এএলআরসি। এর মধ্যে বাকস্বাধীনতা চর্চার জন্য নির্বিচারে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়া, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ব্যাহত করতে অতিরিক্ত ও মারাত্মক বলপ্রয়োগের ঘটনা বন্ধ ও তদন্ত করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগগুলো বাতিল করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে তারা।

No comments:
Post a Comment