Saturday, February 6, 2016

ইতিহাস- দারুণ লড়াই, দারুণ জয়

দারুণ লড়াই, দারুণ জয়। ইতিহাস গড়েই মাঠ ছাড়লেন মেহেদি হাসান আর জাকির হাসান। এদের দুজনের অনড়-অটল দৃঢ়তায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। কেবল ক্রিকেট নয়, যে কোনো দলীয় খেলায় বিশ্বকাপ পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতায় এটাই প্রথম বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনালে প্রবেশ। গতকাল মিরপুরের শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এবারের সবচেয়ে অঘটনঘটনপটিয়সী দল নেপালকে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বড়রা যা কখনও পারেনি তাই করে দেখালেন তরুণ-যুবারা। ইতিহাসে ঢুকে পড়লো বাংলাদেশ, যার কৃতিত্ব যুবাদের। আর এই অনন্য সাফল্যের কাণ্ডারি হিসেবে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিভাবে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে হয় তা দেখিয়েছেন সবাইকে। লক্ষ্যটা খুব বেশি ছিল না। সোমবার পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষেই ১১ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ লড়বে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ২০০৬ সালে কলম্বোতে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ দল। সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রজন্মের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, রকিবুল হাসানরা গুটিয়ে গিয়েছিল ১৫৫ রানে। ৫ উইকেটে হেরে প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন বর্তমান জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। এরপর অবশ্য ২০০৮ সালে সোহরাওয়ার্দী শুভর নেতৃত্বে ও ২০১২ সালে এনামুল হক বিজয়ের নেতৃত্বে আরও দুই বার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু পূরণ হয়নি সেমিফাইনালের স্বপ্ন।
নেপালের বিপক্ষে এর আগে একবার বাংলাদেশ দল খেলেছিল আর তাতেই পেয়েছিল হারের স্বাদ। এবার সেই নেপাল নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখিয়ে ওঠে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাই তাদের দিকে আলাদা নজর ছিল সবার। তবে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস ছিল নেপালকে হারানোর। টসে জিতে নেপাল আগে ব্যাট করে তুলেছিল ২১১ রান। ওরা ৯ উইকেট হারালেও বাংলাদেশের বোলাররা পায় মাত্র পাঁচ উইকেট। বাকি চারজন রান আউট। বোলাররা খানিক হতাশ হলেও ২১২ রানের লক্ষ্যটা সহজই ছিল। কিন্তু ৯৮ রানে যখন চার উইকেটের পতন ঘটে তখন জেগে ওঠে সংশয়-শঙ্কা। কি জানি কি হয়! ব্যাটিং স্তম্ভ পিনাক ঘোষ আর নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায় নিয়েছেন। ২৯তম ওভার থেকে শুরু জাকির-মিরাজের লড়াই। আগের খেলাগুলোতে জাকির ছিলেন নিষ্প্রভ। সর্বোচ্চ ছিল ১৯ রান। ৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ১০৪/৪। পা ফসকালেই বিপদ। দেশ জুড়ে ক্রিকেটভক্তের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা আর প্রার্থনা। কিন্তু ক্রিজে থাকা দুই তরুণ যেন নির্ভার। তারা এক-দুই করে রান নিয়ে এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। ৪০ ওভার শেষে সংগ্রহ ১৪৪/৪। অর্থাৎ ১০ ওভারে আসে ৪০ রান। শেষ ১০ ওভারে লক্ষ্যপূরণে দরকার ৬৮ রান। বলের চেয়েও রান বেশি। এরকম অবস্থায় থেকে তবুও স্বস্তি, উইকেট পড়েনি। ৪১ থেকে ৪৫তম ওভারে ওঠে ৩১ রান। এরপরে ৩০ বলে লক্ষ্য ২৭। হালকা হতে থাকে দর্শকদের মন। আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে জয়ের। তিন ওভারে ৫, ৫ ও ১০ রান নিলে খেলা চলে আসে হাতের মুঠোয়। ১২ বলে প্রয়োজন মাত্র ৭ রানের। স্পিনাররা ব্যর্থ হলে পেসার দিপেন্দ্র আইরিকে আনেন রাজু রিজাল। কিন্তু তর সইছিল না বাঁহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের। আর তাতেও চড়াও জাকির। প্রথম বলে চার, পরের বলে ইনিংসের প্রথম ছক্কা। ১০ বল হাতে রেখেই জয়। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ খেলা শেষে বলেন, আমরা ইচ্ছা করেই ধীরে খেলছিলাম। উইকেট না হারানোই ছিল লক্ষ্য। তাদের উদ্দেশ্য সফল। আপাতত লক্ষ্য পূরণ। এখন অপেক্ষা স্বপ্ন পূরণের। স্বপ্নটা এবার কাপ ছোঁয়া। জাকির ৭৫ আর মেহেদি মিরাজ ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। খেলেন যথাক্রমে ৭৭ আর ৬৫ বল।  ম্যাচ সেরা হন মেহেদি মিরাজই।

No comments:

Post a Comment