Friday, February 5, 2016

প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে কোটি টাকা জরিমানা, ১৪ বছর জেল -শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি বিজ্ঞপ্তি

ফেসবুকসহ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ালে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ১৪ বছর জেল ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিটি আইনের বিতর্কিত ও ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারা প্রয়োগের হুমকি দেয়। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁসের যে কোনো ধরনের চেষ্টা চালালে পাবলিক পরীক্ষা আইনে চার বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসিতে দেশের ২৮ হাজার ১১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী তিন হাজার ১৪৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এসএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা গুজব বলে উড়িয়ে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই ঘটনা এবার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার মন্ত্রণালয় থেকে এর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে জরিমানার হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং পরীক্ষা আইনে জেল ও জরিমানার কথা বলা হচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রী পরীক্ষার প্রথম দিনই বলেছেন, এখন থেকে বিজিপ্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কারও পক্ষে প্রশ্নপত্র আর ফাঁস করা সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাই তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানান।
তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মিথ্যা কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যার দ্বারা কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, তার অপরাধের শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা। ওই আইনের এ ধারা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মালিক ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর নেতৃবৃন্দ সবচেয়ে বেশি সোচ্চার।

No comments:

Post a Comment