![]() |
| প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা: সামর্থ্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। পাশে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান |
সরকার
পর্যায়ক্রমে জেলা হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার ইউনিট চালু করবে। গত বুধবার
প্রথম আলো-বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য ও
পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার
ক্যানসার, হৃদ্রোগ ও কিডনি রোগের চিকিৎসা সম্প্রসারণের কথা ভাবছে।
‘বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা: সামর্থ্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মোহাম্মদ নাসিম সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় ধনীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কত শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যাংকমালিককে দেখি। কাউকে দেখলাম না সরকারি হাসপাতালে একটা যন্ত্র কিনে দিয়েছেন।’
৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।
বৈঠকে আলোচকেরা ক্যানসার যেন না হয় সে ব্যাপারে নজর দেওয়ার কথা বলেন। তাঁদের আলোচনায় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে।
সেবা অপ্রতুল: বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব হাসপাতালে অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও কেমোথেরাপি এবং বিকিরণের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, সেগুলোকে ক্যানসার হাসপাতাল বলা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬০টি ক্যানসার হাসপাতাল দরকার। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে এমন হাসপাতাল আছে মাত্র নয়টি। সরকারি-বেসরকারি খাতে সব মিলে আছে ১৮টি। সারা দেশে অল্প টাকায় মানসম্মত সেবা নেই বলে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ও বিকিরণসেবা পেতে মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। তবে ক্যানসারের ওষুধের দাম কমায় রোগীরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বীকনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশেই ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করছে। ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর নিয়মিত ওষুধ পরীক্ষা করে দেখে। মানসম্মত না হলে এমনকি উৎপাদন বন্ধ রাখা হয় বলে জানান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান ক্যানসারের মতো ওষুধ তৈরিতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রণোদনার কথা উল্লেখ করেন।
বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এবাদুল করিম বলেন, ওষুধের দাম মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় একটা সময় চিকিৎসকেরা অনেক রোগীকে সান্ত্বনাসূচক পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দিতেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধ উৎপাদন করায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন দাম কমিয়েছে।
তবে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক মোয়াররফ হোসেন বিকিরণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় সমস্যার কথা তোলেন।। তিনি বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিকিরণসেবা দিয়েও রোগীর চাপ কমানো যাচ্ছে না। ঢাকার বাইরে অন্য হাসপাতালগুলোয় যেসব যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো ২০ বছরের পুরোনো। আমরা আশা করি, পুরোনো যন্ত্রের পরিবর্তে নতুন যন্ত্রপাতি আসবে।’
ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে ক্যানসার চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীরা সময়মতো সেবা পাবেন না। একই পরামর্শ দেন ইনস্টিটিউটের আরেকজন অধ্যাপক পারভিন শাহিদা আখতার।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোখলেস উদ্দিন আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিকিরণসেবা দেওয়ার জন্য যে যন্ত্রটি আসবে, সেটি যেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দেওয়া হয়। লোকবল থাকলেও শুধু যন্ত্রপাতির অভাবে তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসক আছেন, শুধু অবকাঠামোগত দুর্বলতার জন্য রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
‘বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা: সামর্থ্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মোহাম্মদ নাসিম সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় ধনীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কত শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যাংকমালিককে দেখি। কাউকে দেখলাম না সরকারি হাসপাতালে একটা যন্ত্র কিনে দিয়েছেন।’
৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।
বৈঠকে আলোচকেরা ক্যানসার যেন না হয় সে ব্যাপারে নজর দেওয়ার কথা বলেন। তাঁদের আলোচনায় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে।
সেবা অপ্রতুল: বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব হাসপাতালে অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও কেমোথেরাপি এবং বিকিরণের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, সেগুলোকে ক্যানসার হাসপাতাল বলা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬০টি ক্যানসার হাসপাতাল দরকার। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে এমন হাসপাতাল আছে মাত্র নয়টি। সরকারি-বেসরকারি খাতে সব মিলে আছে ১৮টি। সারা দেশে অল্প টাকায় মানসম্মত সেবা নেই বলে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ও বিকিরণসেবা পেতে মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। তবে ক্যানসারের ওষুধের দাম কমায় রোগীরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বীকনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশেই ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করছে। ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর নিয়মিত ওষুধ পরীক্ষা করে দেখে। মানসম্মত না হলে এমনকি উৎপাদন বন্ধ রাখা হয় বলে জানান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান ক্যানসারের মতো ওষুধ তৈরিতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রণোদনার কথা উল্লেখ করেন।
বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এবাদুল করিম বলেন, ওষুধের দাম মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় একটা সময় চিকিৎসকেরা অনেক রোগীকে সান্ত্বনাসূচক পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দিতেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধ উৎপাদন করায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন দাম কমিয়েছে।
তবে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক মোয়াররফ হোসেন বিকিরণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় সমস্যার কথা তোলেন।। তিনি বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিকিরণসেবা দিয়েও রোগীর চাপ কমানো যাচ্ছে না। ঢাকার বাইরে অন্য হাসপাতালগুলোয় যেসব যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো ২০ বছরের পুরোনো। আমরা আশা করি, পুরোনো যন্ত্রের পরিবর্তে নতুন যন্ত্রপাতি আসবে।’
ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে ক্যানসার চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীরা সময়মতো সেবা পাবেন না। একই পরামর্শ দেন ইনস্টিটিউটের আরেকজন অধ্যাপক পারভিন শাহিদা আখতার।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোখলেস উদ্দিন আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিকিরণসেবা দেওয়ার জন্য যে যন্ত্রটি আসবে, সেটি যেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দেওয়া হয়। লোকবল থাকলেও শুধু যন্ত্রপাতির অভাবে তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসক আছেন, শুধু অবকাঠামোগত দুর্বলতার জন্য রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
![]() |
| রাজধানীর কারওয়ান বাজারের প্রথম আলো কার্যালয়ে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা: সামর্থ্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আয়োজক ও আলোচকেরা |
ক্যানসারের লক্ষণগুলো কী:
কাটাছেঁড়া জায়গা সহজে ভালো না হলে, হঠাৎ শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে
রক্তপাত হলে, তিল ও আঁচিলের রং পরিবর্তন হলে, ঢোঁক গিলতে অসুবিধা হলে বা
গলা ফ্যাস ফ্যাসে হয়ে থাকলে, প্রস্রাব-পায়খানার যে সাধারণ অভ্যাস তাতে হঠাৎ
পরিবর্তন দেখা দিলে, কোনো কারণ ছাড়াই জ্বর হলে বা ভীষণ ক্লান্ত লাগলে
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড
হসপিটালের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এ এম এম শরিফুল আলম।
কী করলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে: জাতীয় ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শুধু ধূমপান না করলেই ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। ক্যানসার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, এটিকে ডায়াবেটিসের মতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ল্যাবএইডের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান পরামর্শক মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ধূমপান, মদ্যপান, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে মানুষের ক্যানসার হচ্ছে। এ তথ্যগুলো বারবার প্রচার করতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ক্যানসার আক্রান্ত একজন রোগী হাজি মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। দেশেই নিয়মিত চিকিৎসার পর তিনি এখন সুস্থ আছেন।
পরিসংখ্যান ও গবেষণা দরকার: ক্যানসারের সেবার আওতা বাড়াতে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দরকার বলে উল্লেখ করেন অ্যাপোলো হাসপাতালের অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে ক্যানসার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা কত, রোগীদের মধ্যে পুরুষ বেশি না নারী বেশি, কোন ধরনের ক্যানসার বেশি হচ্ছে, কোন এলাকায় হচ্ছে সে সম্পর্কে একটা তথ্যভান্ডার থাকা দরকার। এর ভিত্তিতে চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি ওষুধের মান ভালো হলেও দেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হওয়ায় এগুলো কতটা কার্যকর, সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সারোয়ার আলম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের প্রধান গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক গবেষণার কাজে যাঁরা ওষুধ উৎপাদন করছেন, যন্ত্রপাতির ব্যবসা করছেন, তাঁদের লভ্যাংশের একটা অংশ ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নে খরচ করার আহ্বান জানান।
নিম্নমানের, নিষিদ্ধ ও নকল ওষুধ ঝুঁকি তৈরি করছে: ইউনাইটেড হাসপাতালের পরামর্শক ফেরদৌস শাহরিয়ার সাইদ বলেন, প্রায়ই রোগীরা বিদেশ থেকে ওষুধ এনে চিকিৎসকদের মাত্রা ঠিক করে দেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। ওষুধটির মান সম্পর্কে কখনো কখনো তাঁরা নিশ্চিত না হয়েও মাত্রা ঠিক করে দিতে বাধ্য হন।
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের প্রধান পরামর্শক পারভিন আক্তার বানু বলেন, শুধু ওষুধের মান খারাপ হলে ক্যানসারের পুরো চিকিৎসা অকার্যকর হয়ে যেত পারে।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি: সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আলোচকেরা। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যাপক মো. এহতেশামুল হক ওষুধ উৎপাদন ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে আরও বেশি ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে করে রোগীদের চিকিৎসার যে ব্যয়, তা কমাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার কী সুযোগ আছে জানতে চাইলে সিএমএইচের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্যানসারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সুযোগ সিএমএইচে দেওয়া হয়। এ সুযোগ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।
কী করলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে: জাতীয় ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শুধু ধূমপান না করলেই ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। ক্যানসার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, এটিকে ডায়াবেটিসের মতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ল্যাবএইডের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান পরামর্শক মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ধূমপান, মদ্যপান, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে মানুষের ক্যানসার হচ্ছে। এ তথ্যগুলো বারবার প্রচার করতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ক্যানসার আক্রান্ত একজন রোগী হাজি মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। দেশেই নিয়মিত চিকিৎসার পর তিনি এখন সুস্থ আছেন।
পরিসংখ্যান ও গবেষণা দরকার: ক্যানসারের সেবার আওতা বাড়াতে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দরকার বলে উল্লেখ করেন অ্যাপোলো হাসপাতালের অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে ক্যানসার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা কত, রোগীদের মধ্যে পুরুষ বেশি না নারী বেশি, কোন ধরনের ক্যানসার বেশি হচ্ছে, কোন এলাকায় হচ্ছে সে সম্পর্কে একটা তথ্যভান্ডার থাকা দরকার। এর ভিত্তিতে চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি ওষুধের মান ভালো হলেও দেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হওয়ায় এগুলো কতটা কার্যকর, সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সারোয়ার আলম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনকোলজি বিভাগের প্রধান গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক গবেষণার কাজে যাঁরা ওষুধ উৎপাদন করছেন, যন্ত্রপাতির ব্যবসা করছেন, তাঁদের লভ্যাংশের একটা অংশ ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নে খরচ করার আহ্বান জানান।
নিম্নমানের, নিষিদ্ধ ও নকল ওষুধ ঝুঁকি তৈরি করছে: ইউনাইটেড হাসপাতালের পরামর্শক ফেরদৌস শাহরিয়ার সাইদ বলেন, প্রায়ই রোগীরা বিদেশ থেকে ওষুধ এনে চিকিৎসকদের মাত্রা ঠিক করে দেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। ওষুধটির মান সম্পর্কে কখনো কখনো তাঁরা নিশ্চিত না হয়েও মাত্রা ঠিক করে দিতে বাধ্য হন।
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের প্রধান পরামর্শক পারভিন আক্তার বানু বলেন, শুধু ওষুধের মান খারাপ হলে ক্যানসারের পুরো চিকিৎসা অকার্যকর হয়ে যেত পারে।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি: সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আলোচকেরা। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যাপক মো. এহতেশামুল হক ওষুধ উৎপাদন ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে আরও বেশি ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে করে রোগীদের চিকিৎসার যে ব্যয়, তা কমাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার কী সুযোগ আছে জানতে চাইলে সিএমএইচের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্যানসারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সুযোগ সিএমএইচে দেওয়া হয়। এ সুযোগ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।


No comments:
Post a Comment