Thursday, February 4, 2016

ডিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মী আবরার আহমেদ খানকে সোমবার ডিবি পুলিশ আটক করেছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ ঘটনার পাল্টা হিসেবে ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশী কর্মী জাহাঙ্গীর হোসেনকে কোন রকম অভিযোগ ছাড়া শুধু হয়রানির উদ্দেশে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জোর করে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পরদিন পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে যে ‘প্রতিবাদ নোট’ দেয়া হয়েছে সেখানে এসব অভিযোগ করা হয়। ওই নোটে ঘটনার পর দেশটির তরফে সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের সদস্যদের জড়িয়ে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে তা পুরোপুরি নাকচ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দায়িত্বরত সদস্যরা ডিবি জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। তারা আবরারকে আটকের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছেন। সংশ্লিষ্টরা এতে পরিচয় গোপনের কোন চেষ্টা করেননি। কিন্তু তারপরও হাইকমিশন চাঁদা চাওয়ার যে গল্প বানিয়েছে এবং সেখানে ক্রসফায়ার এবং নদীতে লাশ ফেলে দেয়ার ‘হুমকি’র যে তথ্য দিয়েছে তা অসত্য। বাংলাদেশ এমন আচরণের নিন্দা জানায়। প্রতিবাদ নোটে বলা হয়- আটকের সময় আবরার কোন আইডি কার্ড দেখাতে পারেননি। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিরও তার নামে কোন কাগজপত্র ছিল না। এমনকি কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সও তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে নোটে ইসলামাবাদে বাংলাদেশী কর্মী নিখোঁজের বিষয়ে বলা হয়- জাহাঙ্গীর আলমকে যারা তুলে দিয়েছিল তারা তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তাকে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে হিসেবে এটি স্পষ্ট যে, দেশটির কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়রানির জন্য কাজটি করেছিল। জেনেভা কনভেনশন মতে বিদেশীদের নিরাপত্তা দেয়া যেখানে তাদের দায়িত্ব, সেখানে তারা তার তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে। এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে জন্য সতর্ক  করে দেয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে লিখিত ওই প্রতিবাদ নোটটি দেয়া ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম এবং সচিব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মিজানুর রহমান প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হাইকমিশনারের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন।

No comments:

Post a Comment