স.ম.ইকবালবাহার
চৌধুরীঃ বেড়িবাঁধ বিলীন হওয়ায় বিগত চার বছর থেকে অরক্ষিত কক্সবাজারের
মহেশখালী উপজেলার উপদ্বীপ ধলঘাটা। বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষাকালে প্রতি
মুহূর্ত অজানা আতংকে ধলঘাটার বঞ্চিত জনপদ। বিগত চারটি বছর অরক্ষিত বেড়িবাঁধ
নিয়ে জানমালের ঝুঁকিতে দিনাতিপাত করলেও টেঁকসই বেড়িবাঁধ নিমার্ণে কার্যকরী
পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেকেই জানান, জন
প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে
নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলেই দ্বীপের এ অবস্থা।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম ঝুকিপূর্ন উপদ্বীপ ধলঘাটার প্রায় পশিচ
হাজার মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে ধুক ধুকে মরছে একটি টেকঁসই বেড়িবাঁধের জন্য।
টেকঁসই বেড়িবাঁধ না থাকায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল উপকূলীয় এলাকায় হানা দেয়া
স্বরনকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, মূহূর্তেই লন্ডভন্ড করে দেয় উপকূলের মানুষের
সাজাঁনো সংসার। কোটি কোটি টাকার সস্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি
ঘটলেও টেকঁসই বেড়িবাঁধ না থাকায় এখনো আতংকে ধলঘাটাবাসি। প্রতি বছরই ২৯
এপ্রিলের পূর্বে সংবাদ কর্মীরা গেলে আক্ষেপের সাথে কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে
থাকেন অনেক অসহায়ত্বের কথা। কিন্তু কে শুনে কার কথা। এদের শান্তনা দেবে কে ?
একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও ধলঘাটার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি কোন
কালে। সরেজমিনে না গেলে বুঝার কোন উপায় নেই, আশ্রয়হীন দ্বীপবাসি কথটা
ব্যাথিত। তাদের চেহেরায় ভর করে আছে সহায় সম্বল, ভিটে মাটি ও স্বজন হারানোর
চিত্র। ১৯৯১ সালের পর লন্ডভন্ড বেড়িবাঁধের সংস্কার, পূণঃনির্মানের জন্য
দফায় দফায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারী আমলা,
টিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের লুটপাটের ফলে মান সম্মতভাবে নির্মিত হয়নি
উপকূলবাসীর প্রাণের দাবী টেঁকসই বেড়িবাঁধ। তাই এখনো উদ্বাস্তুর মত ভাংগা
বেড়িবাঁধের উপর ঝুপড়ি বেঁধে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে শত শত জেলে
পরিবার। কয়েক বার দায়সারা ভাবে বেড়িবাঁধ নির্মিত হওয়ায় ১৯৯৭ সালের
ঘুর্নীঝড়ে মূহূর্তেই ভেঙ্গে যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ধলঘাটাবাসি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সরকার বিভিন্ন সময় বেড়িবাঁধ নির্মানে বরাদ্ধ
দিলেও তদারকীর অভাবে বরাদ্ধকৃত টাকা লুটপাট করে নামে মাত্র বেড়িবাঁধ
নির্মিত হওয়ায় একদিকে ঝুকিতে ধলঘাটাবাসি অন্যদিকে বেড়িঁবাধ নির্মাণের নামে
অপচয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। জরুরী ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন
উপদ্বীপে চলছে জোয়ার ভাটা, ভিটেমাটি হারিয়েছে হাজারো পরিবার। ব্যাহত হচ্ছে
দ্বীপবাসির জীবিকার প্রধান উৎস লবণ ও চিংড়ি চাষ। সরেজমিনে দেখা যায়, ধলঘাটা
দ্বীপের পশ্চিমাংশের নির্মিত বেড়িবাঁেধর প্রায় ৩ কিলোমিটার সম্পূর্ন
বিধ্বস্ত ও দক্ষিন পূর্বাংশের বেড়িবাঁধ সম্পূর্ন অরক্ষিত থাকায় আবারো
বর্ষা মৌসুমে জনবসতি ও চিংড়িঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থেকেই
যাচ্ছে। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে অনেকটা ঝুঁিকতে লবণ চাষ শুরু হলেও
বেড়িঁবাধ না হওয়ায় মারাত্মক ঝুকিতে ধলঘাটার চিংড়ি চাষ। বেড়িবাঁধ বিষয়ে
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্ছু বলেন- ধলঘাটবাসির প্রানের দাবী
টেকসই বেড়িবাঁধের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষনিক
যোগাযোগ করে চলেছেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু হচ্ছেন বলেও জানান
চেয়ারম্যান। অবহেলিত ধলঘাটাবাসির বেড়িবাঁধ বিষয়ে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন
কিনা জানাতে চাইলে পাউবো (কক্সবাজার)‘র নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সবিবুর
রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পূর্নবাসন প্রকল্পের আওতায় ধলঘাটার বেড়িবাঁধ
নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অল্প কিছু দিনের
মধ্যে কাজ শুরু হবে। তবে স্থানীয় অনেক সচেতন মহল জানান-সামনে দু মাস পর
বর্ষা শুরু হবে। কাজ শুরু করতে করতে বর্ষাকাল চলে আসবে। তখন প্রতিবারের
ন্যায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের নামে লুটপাট হওয়ার আশংখা স্থানীয়দের। এভাবে
চলতে থাকাই প্রতিবারই বেড়িবাঁধ নির্মানের নামে কোটি কোটি টাকা অপচয় হেেচ্ছ
বলে দাবী করেন দ্বীপবাসি। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সর্বোপরি
আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে অনেকটা উপেক্ষিত হলেও তবু দ্বীপবাসির কোন দুঃক্ষ
নেই। নেই কোন উচ্চ বিলাসি আকাঙ্খা। তাদের চাওয়া পাওয়া। দাবী শুধু একটাই
বাচাঁর জন্য চাই টেঁকসই বেড়িবাঁধ। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে মহেশখালী
কুতুবদিয়ার উন্নয়নের রুপকার আশেক উল্লাহ রফিক এমপি’র তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা
করেন আশ্রয়হীন ধলঘাটাবাসি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment