ভালো
ফলাফলের আশায় কোমলমতি শিশুদের চাপ না দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে
তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পড়াশোনার
নামে মা-বাবা তথা অভিভাবকদের ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে
হবে। ভালো ফলের জন্য শিশু বয়সে চাপ দিলে আপাত ভালো হলেও পরে ভালো হয় না।
খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার সকালে তাঁর কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা উপকরণের মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল সংস্করণের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ, সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক মাইকেল ম্যাকগ্রা প্রমুখ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের আলোকে সরকার ২০১৪ সালে ১৭টি বইয়ের ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কনটেন্ট’ তৈরির কর্মসূচি নিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল গতানুগতিক ও একঘেয়ে শিক্ষার বদলে শ্রেণিকক্ষে সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়া। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিয়ে ব্র্যাক ১২টি ও সেভ দ্য চিলড্রেন পাঁচটি বই ডিজিটালে রূপান্তরের দায়িত্ব নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যারা বিত্তবান বা সমাজে একটু প্রতিষ্ঠিত, তাঁরা নিজ নিজ স্কুলে, অন্তত যে স্কুলে আপনারা লেখাপড়া করেছেন, সেখানে একটা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বা রুমের সামগ্রী উপহার দেবেন। সমগ্র জাতীয় মাধ্যমে আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
শিশুদের পড়ালেখায় চাপ দেওয়ার ক্ষতি প্রসঙ্গে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বা রেহানা কখনো আমাদের বাচ্চাদের পড়ার জন্য চাপ দিইনি। পড়ার জন্য চাপাচাপি করতে হবে কেন, তারা নিজ আগ্রহেই পড়বে।’ এখনকার শিশুদের মেধা বিশ্বমানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুরা প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। আমার ছেলের কাছ থেকে এখনো আমি শিখছি। শিক্ষায় কোনো লজ্জা নেই।’
আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের পড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে, তা নয়।
শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ডিজিটাল ক্লাসরুম করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬৩ হাজার ৬০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত একটি করে হলেও আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেব। তিনি বলেন, ‘মনে আছে, আগে কম্পিউটার কিনতে অনেক টাকা লাগত। পার্টির জন্য একটা কম্পিউটার কিনেছিলাম। ধার করে ৩ লাখ টাকায়, অ্যাপল কম্পিউটার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব আমরা সহজ করে দিয়েছি। এখন একটা ল্যাপটপ কিনতে বেশি টাকা লাগে না। আমরা সারা দেশে সবকিছু ডিজিটাল করে দিয়েছি। সবকিছু এখন সহজ হয়ে গেছে।’ প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নির্বাচনী ঘোষণা ছিল। অনেকে বিদ্রূপ করত। তখন বিদ্যুতের সমস্যা ছিল। বিদ্যুৎ চলে গেলেই তারা কেউ কেউ ঠাট্টা-তামাশা করত ডিজিটাল বিদ্যুৎ গেল। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আর কেউ উপহাস করে না।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসের পাঠ্যসূচি হিসেবে শব্দ, ছবি ও অ্যানিমেশনের সমন্বয়ে তৈরি ডিজিটাল কনটেন্টের সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন। একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। সিডির মোড়ক উন্মোচন ছাড়াও ‘ট্যাব’-এ চাপ দিয়ে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট শিক্ষাসামগ্রীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন।
ব্র্যাকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানোর জন্য ব্র্যাক ২০০৫ সালেই কম্পিউটার এইডেড লার্নিং কার্যক্রম শুরু করে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার, যখন নতুন নতুন উদ্ভাবন আর উন্নততর অবকাঠামোর কল্যাণে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর আধুনিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো একই মানের শিক্ষা লাভ করতে পারবে।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার সকালে তাঁর কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা উপকরণের মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল সংস্করণের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ, সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক মাইকেল ম্যাকগ্রা প্রমুখ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের আলোকে সরকার ২০১৪ সালে ১৭টি বইয়ের ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কনটেন্ট’ তৈরির কর্মসূচি নিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল গতানুগতিক ও একঘেয়ে শিক্ষার বদলে শ্রেণিকক্ষে সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়া। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিয়ে ব্র্যাক ১২টি ও সেভ দ্য চিলড্রেন পাঁচটি বই ডিজিটালে রূপান্তরের দায়িত্ব নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যারা বিত্তবান বা সমাজে একটু প্রতিষ্ঠিত, তাঁরা নিজ নিজ স্কুলে, অন্তত যে স্কুলে আপনারা লেখাপড়া করেছেন, সেখানে একটা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বা রুমের সামগ্রী উপহার দেবেন। সমগ্র জাতীয় মাধ্যমে আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
শিশুদের পড়ালেখায় চাপ দেওয়ার ক্ষতি প্রসঙ্গে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বা রেহানা কখনো আমাদের বাচ্চাদের পড়ার জন্য চাপ দিইনি। পড়ার জন্য চাপাচাপি করতে হবে কেন, তারা নিজ আগ্রহেই পড়বে।’ এখনকার শিশুদের মেধা বিশ্বমানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুরা প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। আমার ছেলের কাছ থেকে এখনো আমি শিখছি। শিক্ষায় কোনো লজ্জা নেই।’
আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের পড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে, তা নয়।
শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ডিজিটাল ক্লাসরুম করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬৩ হাজার ৬০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত একটি করে হলেও আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেব। তিনি বলেন, ‘মনে আছে, আগে কম্পিউটার কিনতে অনেক টাকা লাগত। পার্টির জন্য একটা কম্পিউটার কিনেছিলাম। ধার করে ৩ লাখ টাকায়, অ্যাপল কম্পিউটার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব আমরা সহজ করে দিয়েছি। এখন একটা ল্যাপটপ কিনতে বেশি টাকা লাগে না। আমরা সারা দেশে সবকিছু ডিজিটাল করে দিয়েছি। সবকিছু এখন সহজ হয়ে গেছে।’ প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নির্বাচনী ঘোষণা ছিল। অনেকে বিদ্রূপ করত। তখন বিদ্যুতের সমস্যা ছিল। বিদ্যুৎ চলে গেলেই তারা কেউ কেউ ঠাট্টা-তামাশা করত ডিজিটাল বিদ্যুৎ গেল। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আর কেউ উপহাস করে না।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসের পাঠ্যসূচি হিসেবে শব্দ, ছবি ও অ্যানিমেশনের সমন্বয়ে তৈরি ডিজিটাল কনটেন্টের সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন। একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। সিডির মোড়ক উন্মোচন ছাড়াও ‘ট্যাব’-এ চাপ দিয়ে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট শিক্ষাসামগ্রীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন।
ব্র্যাকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানোর জন্য ব্র্যাক ২০০৫ সালেই কম্পিউটার এইডেড লার্নিং কার্যক্রম শুরু করে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার, যখন নতুন নতুন উদ্ভাবন আর উন্নততর অবকাঠামোর কল্যাণে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর আধুনিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো একই মানের শিক্ষা লাভ করতে পারবে।’

No comments:
Post a Comment