![]() |
| প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি ২০১৫-১৬ কোর্সের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েটদের সনদ প্রদান করেন |
মিরপুর সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের সুনাম সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ
সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তার সরকার এক্ষেত্রে কোনো রকম
অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ
হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। আমাদের
সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড আমরা
বরদাশত করব না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম
অক্ষুণ্ণ থাকবে। যে যেখানেই নিয়োজিত থাকুন না কেন নিজেদের দায়িত্ব মর্যাদার
সঙ্গে পালন করবেন।’ বৃহস্পতিবার সকালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড
স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) ২০১৫-’১৬ কোর্সের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা
কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানে তিনি গ্রাজুয়েটদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।
ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, তিন বাহিনীর প্রধানরা, সংসদ সদস্যরা, কূটনীতিক, জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত সদস্যদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনোভাবেই সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেয়া হবে না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতা শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও অনেক সুনাম কুড়িয়েছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার পাশাপাশি কর্মরত দেশগুলোতে গণতন্ত্রের বিকাশ, আর্থ-সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে ব্যাপক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করে বলেছেন, এই কার্যক্রমে বাংলাদেশ নেতৃত্বের স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ।
তিনি বলেন, বিশ্বে মোট শান্তিরক্ষীর ১০ জনের একজন বাংলাদেশের। ১৯৮৮ সালে এ মিশন শুরুর প্রথম বছর ‘পর্যবেক্ষক’ থেকে পরবর্তীতে পরিচালিত মোট ৬৬টি মিশনের মধ্যে বাংলাদেশ ৪৫টিতে অংশ নেয়। বর্তমানে পরিচালিত ১৬টি মিশনের ১১টিতে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৫০১ শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাহিনী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ক্ষমতা কাঠামোর অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান।
জাতির পিতা এই উপলব্ধি থেকে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সুশৃংখল ও পেশাদার একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই স্টাফ কলেজে সেনাবাহিনীর ৪০টি, নৌ বাহিনীর ৩৪টি এবং বিমান বাহিনীর ৩৬টি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম ৩৮টি দেশের ৯২৭ জন অফিসার এ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
স্টাফ কলেজটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনন্য এক প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী কলেজের কমান্ড্যান্ট, অনুষদ সদস্য এবং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এ বছর মোট ১১ জন মহিলা অফিসার এই কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর মহিলা অফিসারদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ বর্তমান সরকারের ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ নীতির সাফল্যের আরেকটি স্বাক্ষর।”
শেখ হাসিনা বক্তৃতার শুরুতেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদ, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে জীবন দানকারী বাংলাদেশের ১২৮ বীর সৈনিককে স্মরণ করেন। তিনি স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
২০১৫-১৬ বর্ষে ডিএসসিএসসি থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫৮ জন, নৌবাহিনীর ২৩ জন এবং বিমান বাহিনীর ২০ জনসহ মোট ৬৮ জন কর্মকর্তা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
এছাড়া, ব্রাজিল, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপিন্স, সৌদি আরব, সিয়েরালিওন, শ্রীলংকা, সুদান, তানজানিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাম্বিয়ার ৬৭ জন কর্মকর্তা এ বছর এই কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, তিন বাহিনীর প্রধানরা, সংসদ সদস্যরা, কূটনীতিক, জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত সদস্যদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনোভাবেই সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেয়া হবে না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতা শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও অনেক সুনাম কুড়িয়েছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার পাশাপাশি কর্মরত দেশগুলোতে গণতন্ত্রের বিকাশ, আর্থ-সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে ব্যাপক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করে বলেছেন, এই কার্যক্রমে বাংলাদেশ নেতৃত্বের স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ।
তিনি বলেন, বিশ্বে মোট শান্তিরক্ষীর ১০ জনের একজন বাংলাদেশের। ১৯৮৮ সালে এ মিশন শুরুর প্রথম বছর ‘পর্যবেক্ষক’ থেকে পরবর্তীতে পরিচালিত মোট ৬৬টি মিশনের মধ্যে বাংলাদেশ ৪৫টিতে অংশ নেয়। বর্তমানে পরিচালিত ১৬টি মিশনের ১১টিতে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৫০১ শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাহিনী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ক্ষমতা কাঠামোর অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান।
জাতির পিতা এই উপলব্ধি থেকে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সুশৃংখল ও পেশাদার একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই স্টাফ কলেজে সেনাবাহিনীর ৪০টি, নৌ বাহিনীর ৩৪টি এবং বিমান বাহিনীর ৩৬টি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম ৩৮টি দেশের ৯২৭ জন অফিসার এ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
স্টাফ কলেজটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনন্য এক প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী কলেজের কমান্ড্যান্ট, অনুষদ সদস্য এবং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এ বছর মোট ১১ জন মহিলা অফিসার এই কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর মহিলা অফিসারদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ বর্তমান সরকারের ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ নীতির সাফল্যের আরেকটি স্বাক্ষর।”
শেখ হাসিনা বক্তৃতার শুরুতেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদ, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে জীবন দানকারী বাংলাদেশের ১২৮ বীর সৈনিককে স্মরণ করেন। তিনি স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
২০১৫-১৬ বর্ষে ডিএসসিএসসি থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫৮ জন, নৌবাহিনীর ২৩ জন এবং বিমান বাহিনীর ২০ জনসহ মোট ৬৮ জন কর্মকর্তা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
এছাড়া, ব্রাজিল, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপিন্স, সৌদি আরব, সিয়েরালিওন, শ্রীলংকা, সুদান, তানজানিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাম্বিয়ার ৬৭ জন কর্মকর্তা এ বছর এই কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

No comments:
Post a Comment