Tuesday, February 16, 2016

বিনিয়োগ আসতে পারে সিরামিক খাতে

বিনিয়োগ আসতে পারে সিরামিক খাতে। লাভজনক বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বিনিয়োগে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছে এভাবেই অপার সম্ভাবনার বার্তা দেয়া হচ্ছে। দেশে বিনিয়োগের জন্য এ মুহূর্তে যে কয়টি সম্ভাবনার খাত রয়েছে, সিরামিক তার অন্যতম। বর্তমানে দেশে ১৬টি প্ল্যান্টে বৃহৎ পরিসরে সিরামিকের বিভিন্ন উপজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব উপজাত পণ্য হচ্ছে মেলামাইন, পোরসেলিন, বোন চায়না, টাইলসওয়্যার, স্যানিটারি ওয়ার প্রভৃতি।
জানা গেছে, বিশ্বে সিরামিক পণ্যের ২০ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। দেশে সার্বিকভাবে চাহিদা রয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের। আর এ খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের। বিনিয়োগ বোর্ডের জুন, ২০১৫ সালের তথ্য মতে, দেশে ৫৪টি সিরামিক উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে। তবে নানা কারণে এর বেশিরভাগই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ১৬টি প্ল্যান্ট বৃহৎ পরিসরে সিরামিক পণ্য উৎপাদন করছে। তবে বড় তিনটি প্রতিষ্ঠানই অভ্যন্তরীণ মার্কেটের ৬০ শতাংশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতি বছর সিরামিক প্ল্যান্টগুলোয় ২৩৩ মিলিয়ন পিস সিরামিক পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এর থেকে রফতানি হচ্ছে বাইরে ৫০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ পণ্যের।
বিনিয়োগ বোর্ড সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশে রয়েছে ১৬ কোটি মানুষের বড় বাজার। প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরিবারে খুব কমসংখ্যক ঘর বা বাসাবাড়িই পাওয়া যাবে, যেখানে সিরামিক পণ্য ব্যবহহার হয় না। এর বাইরে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর আয়ের পরিধিও দিনদিন বাড়ছে। এর ফলে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। মানুষের সৌখিন প্রবণতাও বেড়েছে। এতে করে শহর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই সিরাপণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এতে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত সিরামিক পণ্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেলামাইন ও পোরসেলিনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে সারা দেশে এর বিরাট বাজার তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে গড়ে উঠছে নতুন নতুন দালান কোঠা। এসব দালান কোঠায় সিরামিক উপজাত পণ্যেরও বিরাট চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে টাইলস ওয়্যার, স্যানিটারি ওয়্যারের কদর বেড়েই চলেছে। বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) তৌহিদুর রহমান খান যুগান্তরকে বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট দেশ। এখানে বিনিয়োগ, অংশদারিত্ব এবং মুনাফার শতভাগ নিশ্চয়তা আছে। আছে নগদ সহায়তা, ট্যাক্স হলিডে সুবিধাসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। এছাড়া দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীর জন্য রয়েছে সমান সুযোগ ভোগের অধিকার। এর বাইরে বিদেশী বিনিয়োগের সুরক্ষায় ‘ফরেন প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট (প্রমোশন অ্যান্ড প্রটেকশন) অ্যাক্ট ১৯৮০’ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফার অর্থ পুনর্বিনিয়োগ কিংবা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। এদিকে মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। তাছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আইসিএসআইডি, ইউএনসিট্রল, ওপিক, মিগা, ওয়াইপা, ডব্লিউআইপিও এবং ডব্লিউটিওর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ সিরামিক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। তাই এখনই সময় বিনিয়োগের। উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে অন্য সম্ভাবনাময় খাতের মতো সিরামিককে আনতে পারেন তাদের বিনিয়োগ। তাই বিনিযোগ বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগের লাভজনক ও চাহিদাযোগ্য খাতগুলো এখন চিহ্নিত। দেশী কিংবা বিদেশী কোনো উদ্যোক্তাকেই বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আর দ্বিধায় থাকতে হবে না। কেবল বিনিয়োগের ইচ্ছা থাকলেই হল। কারণ এ দেশে জনসংখ্যা, দক্ষ কারিগর, সস্তা শ্রম, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ভৌগলিক অবস্থান ও বিশ্ববাজারের চাহিদাযোগ্য পণ্যের সম্ভাবনার বিচারে বিনিয়োগ বোর্ডের পর্যবেক্ষণে এ মুহূর্তে সিরামিক খাতও অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বিনিয়োগ নীতি সম্মেলনেও সিরামিক খাতে বিনিয়োগ সম্ভাব্যতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এ খাতে বিনিয়োগের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ বোর্ড প্রসপেক্টাসও প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সিরামিক ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিডব্লিউএমএ) তথ্যমতে, একটি মধ্যম মানের সিরামিক কারখানা স্থাপনে সাধারণত ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। সিরামিক পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশীয় কাঁচামালের অপর্যাপ্ত জোগান বড় প্রতিবন্ধক। এ কারণে এর কাঁচামালের বড় অংশ আমদানি করতে হয় চীন, ভারত, নিউজিল্যান্ড এবং জার্মানি থেকে। আর সিরামিক পণ্যের বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো।

No comments:

Post a Comment