Sunday, February 7, 2016

তাইওয়ানে ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকা ১৩২

শক্তিশালী ভূমিকম্পে দক্ষিণ তাইওয়ানের তাইনান শহরে বিধ্বস্ত ১৭ তলা আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১৩২ জন আটকা পড়ে আছেন। খবর বিবিসির। আটকা পড়াদের মধ্যে ২৯ জনের কাছে পৌঁছানো সম্ভব বলে উদ্ধারকারীরা মনে করছেন। বাকিরা ধ্বংসস্তূপের অনেক নিচে আটকা পড়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাতে ২০ লাখ অধিবাসীর তাইনান শহরে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এদের মধ্যে ১৬ জন ধসের সময় ১৭ তলা ভবনের ভেতরে মারা যায়। তাদের মধ্যে ১০ দিনের একটি মেয়েশিশুও রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ৯২ জনকে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় তাইনান শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ২৩ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পরে আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে বলে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে।
ভূমিকম্পে তাইনান শহরের আরও নয়টি বহুতল ভবন হেলে পড়ে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে আটশ’র বেশি সেনা সদস্য উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তাইনানের মেয়র উইলিয়াম লাই বলেন, তারা ধারণা করছেন ভবনের ধ্বংসস্তূপে প্রায় ১৩২ জন বাসিন্দা আটকা আছে। তাদের মধ্যে ১০৩ জন অনেক গভীরে চাপা পড়েছে। তাদের উদ্ধার করে আনা খুবই কঠিন।
তিনি বলেন, ভবনের কিছু অংশ দুমড়েমুচড়ে পাশের দুটি টাওয়ারের নিচে পড়েছে। সেখানে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পে বহুতল ভবন ও এর আশপাশের ভবনের কাঠামো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য দুমড়েমুচড়ে যাওয়া টাওয়ারগুলোতে কিছু সংস্কারকাজ করে উদ্ধারের জন্য খননকাজ করতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।
তাইওয়ানের সরকারি হিসেব বলছে, ওই ভবনে ২৬০ জন বাসিন্দা ছিল। তবে মেয়র লাই বলেছেন, তার ধারণা ভূমিকম্পের সময় সেখানে ৩০০ জন বাসিন্দা ছিল। নতুন চান্দ্রবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে অনেকেই ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। অনেকের আত্মীয়স্বজনও বেড়াতে এসেছিল। ১৭ তলা ওই ভবনটিতে ১০০টির মতো ফ্ল্যাট ছিল।
ভবনটির কর্তৃপক্ষ বলছে, অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন না করেই ওই ভবনে ভাড়াটে হিসেবে ছিল।
তাইওয়ানে এর আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০১৩ সালে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে চারজনের মৃত্যু ও ব্যাপক ভূমিধস হয়। আর ১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে ২ হাজার ৩০০ জন প্রাণ হারায়।

No comments:

Post a Comment