আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিলের চাপের
মধ্যে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। শাসক দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল
২৮ মার্চ এবং বিএনপির ১৯ মার্চ। আইনি বাধ্যবাধকতায় ২৮ মার্চের মধ্যে ইসিকে
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতেই হবে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউপি
নির্বাচন হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূলে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের
জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে। কাজেই নির্বাচনী ডামাডোলে বড় দুই দলের কাউন্সিল ব্যাহত
হওয়ার আশংকা আছে। এ অবস্থায় শাসক দল ২০ মার্চের মধ্যে এবং কাউন্সিলকে
ব্যাহত করবে না এমন তারিখে নির্বাচন চায় বিএনপি। নির্বাচন কমিশন (ইসি)
মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম ধাপের সাত শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদের
নির্বাচন শেষ করতে চায়। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচন কমিশন যে তারিখে ইউপি
নির্বাচন করতে চাচ্ছে, তা শাসক দলের প্রত্যাশিত তারিখের প্রায় কাছাকাছি।
এক্ষেত্রে সরকারি দল সুবিধা পেলেও বিএনপির কাউন্সিল নিয়ে ভরাডুবির শংকা
করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের ভোট নেয়ার চিন্তা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখা যাক কী হয়।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, ভোটের তারিখ নির্ধারণে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দাবি বিবেচনা নয়, বাস্তবভিত্তিক সমস্যাগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। তারা জানান, আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। ২৫ মার্চ শুক্রবার হওয়ায় ওই দিন ভোটের রেওয়াজ নেই। এসব বিবেচনায় কমিশন ১৫-২৪ মার্চের মধ্যে ভোটের চিন্তা করছে। ভোট গ্রহণের ৩৫-৪০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। এ হিসাবে চলতি সপ্তাহে প্রথম ধাপের তফসিল হতে পারে।
ইসি, আ’লীগ ও বিএনপির কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ বিষয়ে দুই দলের নেতারা ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগ চায় ২০ মার্চের মধ্যে প্রধম ধাপের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত হোক। এতে ভোট গ্রহণ থেকে দলের কাউন্সিল পর্যন্ত এক সপ্তাহ সময় পাবেন দলটির নীতি-নির্ধারকরা। কেননা কাউন্সিলে দলটির উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও অংশ নেবেন। এক সপ্তাহ সময় পাওয়ায় নির্বাচন শেষ করেই কাউন্সিলে অংশ নিতে পারবেন নেতারা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবউল আলম হানিফ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ করবে। কমিশন তাদের সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন করলে আমাদের বলার কিছু নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০ মার্চের মধ্যে ভোট গ্রহণের বিষয়ে ইসিকে আনুষ্ঠানিক (ফরমাল) কিছু বলেনি। কমিশন তাদের মতো করে ইউপি নির্বাচন করবে। আমরা দলীয় কাউন্সিল করব। দলীয় কাউন্সিলের সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের যোগসূত্র নেই।
অপরদিকে ১৯-২৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচন হলে বিএনপি কাউন্সিল নিয়ে রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে পড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী জেতাতে দলটির নেতারা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। একই সময় কাউন্সিল হলে তারা কোনো প্রস্তুতিই নিতে পারবেন না। আবার কাউন্সিলের ওপর গুরুত্ব দিলে নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মীর সহায়তা পাবে না। সেক্ষেত্রে ফল বিপর্যয়ের আশংকা আছে। এ অবস্থায় বিএনপি ইউপি নির্বাচন করবে নাকি কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেবে তা নিয়ে উভয় সংকটে পড়বেন দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকেই অভিযোগ করেন সরকারি দলকে সুবিধা দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবেই কাজটি করা হচ্ছে। দলটির আশা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কাউন্সিলের বিষয়টি মাথায় রাখবে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের পরই সরকার ও নির্বাচন কমিশন নানা ধরনের কৌশল আঁটছে- কীভাবে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করা যায়। তিনি বলেন, ইসিসহ সবাই অবহিত হয়েছেন, ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। তৃণমূলের নেতারা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগেই ঢাকায় চলে আসবেন। কাউন্সিলের আগে বা পরপরই যদি ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নির্বাচন উৎসবমুখর করতে বিষয়টি কমিশনকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে ইসি সচিবালয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা, এইচএসসি পরীক্ষা, বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিল, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রেখে ভোটের সময় চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে কমিশন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে আজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইসি কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকের পর কতটি ধাপে, কোন তারিখে ভোট হবে তার প্রস্তাবনা তৈরি করবে কমিশন সচিবালয়।
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে এখনও কমিশনের কাছে আসেনি। এছাড়া সামনে এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে, কয় ধাপে কতটি ইউপি নির্বাচন করা হবে তা নির্ধারণের বিষয় রয়েছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে সারা দেশে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বিধান রয়েছে। এ হিসাবে আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট গ্রহণের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। সে অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকার ৭৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ভোট গ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। ওইসব ইউপিতে চলতি সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এমন পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শেষ করে আনছে কমিশন সচিবালয়। অপরদিকে আগামী ১৯ মার্চ বিএনপি ও ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাউন্সিল ঘিরে দুই দলের জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এদিকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে রাজনৈতিক দল ও দলীয় প্রতীকনির্ভর। এ কারণে এ নির্বাচন দলগুলোর মর্যাদা ও জনসমর্থন প্রমাণের লড়াইয়ে পরিণত হতে চলেছে। এরই মধ্যে দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন। গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক, রাজনৈতিকসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে জনসংযোগ, দলীয় ও স্থানীয় সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে প্রার্থিতার আগাম বার্তা দিচ্ছেন ভোটারদের। পাশাপাশি দলীয় সমর্থন পেতে আগেভাগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের সিনিয়র নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এর আগে গত ডিসেম্বরে দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ২০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের ভোট নেয়ার চিন্তা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখা যাক কী হয়।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, ভোটের তারিখ নির্ধারণে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দাবি বিবেচনা নয়, বাস্তবভিত্তিক সমস্যাগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। তারা জানান, আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। ২৫ মার্চ শুক্রবার হওয়ায় ওই দিন ভোটের রেওয়াজ নেই। এসব বিবেচনায় কমিশন ১৫-২৪ মার্চের মধ্যে ভোটের চিন্তা করছে। ভোট গ্রহণের ৩৫-৪০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। এ হিসাবে চলতি সপ্তাহে প্রথম ধাপের তফসিল হতে পারে।
ইসি, আ’লীগ ও বিএনপির কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ বিষয়ে দুই দলের নেতারা ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগ চায় ২০ মার্চের মধ্যে প্রধম ধাপের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত হোক। এতে ভোট গ্রহণ থেকে দলের কাউন্সিল পর্যন্ত এক সপ্তাহ সময় পাবেন দলটির নীতি-নির্ধারকরা। কেননা কাউন্সিলে দলটির উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও অংশ নেবেন। এক সপ্তাহ সময় পাওয়ায় নির্বাচন শেষ করেই কাউন্সিলে অংশ নিতে পারবেন নেতারা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবউল আলম হানিফ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ করবে। কমিশন তাদের সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন করলে আমাদের বলার কিছু নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০ মার্চের মধ্যে ভোট গ্রহণের বিষয়ে ইসিকে আনুষ্ঠানিক (ফরমাল) কিছু বলেনি। কমিশন তাদের মতো করে ইউপি নির্বাচন করবে। আমরা দলীয় কাউন্সিল করব। দলীয় কাউন্সিলের সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের যোগসূত্র নেই।
অপরদিকে ১৯-২৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচন হলে বিএনপি কাউন্সিল নিয়ে রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে পড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী জেতাতে দলটির নেতারা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। একই সময় কাউন্সিল হলে তারা কোনো প্রস্তুতিই নিতে পারবেন না। আবার কাউন্সিলের ওপর গুরুত্ব দিলে নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মীর সহায়তা পাবে না। সেক্ষেত্রে ফল বিপর্যয়ের আশংকা আছে। এ অবস্থায় বিএনপি ইউপি নির্বাচন করবে নাকি কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেবে তা নিয়ে উভয় সংকটে পড়বেন দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকেই অভিযোগ করেন সরকারি দলকে সুবিধা দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবেই কাজটি করা হচ্ছে। দলটির আশা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কাউন্সিলের বিষয়টি মাথায় রাখবে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের পরই সরকার ও নির্বাচন কমিশন নানা ধরনের কৌশল আঁটছে- কীভাবে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করা যায়। তিনি বলেন, ইসিসহ সবাই অবহিত হয়েছেন, ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। তৃণমূলের নেতারা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগেই ঢাকায় চলে আসবেন। কাউন্সিলের আগে বা পরপরই যদি ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নির্বাচন উৎসবমুখর করতে বিষয়টি কমিশনকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে ইসি সচিবালয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা, এইচএসসি পরীক্ষা, বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিল, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রেখে ভোটের সময় চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে কমিশন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে আজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইসি কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকের পর কতটি ধাপে, কোন তারিখে ভোট হবে তার প্রস্তাবনা তৈরি করবে কমিশন সচিবালয়।
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে এখনও কমিশনের কাছে আসেনি। এছাড়া সামনে এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে, কয় ধাপে কতটি ইউপি নির্বাচন করা হবে তা নির্ধারণের বিষয় রয়েছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে সারা দেশে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বিধান রয়েছে। এ হিসাবে আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট গ্রহণের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। সে অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকার ৭৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ভোট গ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। ওইসব ইউপিতে চলতি সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এমন পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শেষ করে আনছে কমিশন সচিবালয়। অপরদিকে আগামী ১৯ মার্চ বিএনপি ও ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাউন্সিল ঘিরে দুই দলের জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এদিকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে রাজনৈতিক দল ও দলীয় প্রতীকনির্ভর। এ কারণে এ নির্বাচন দলগুলোর মর্যাদা ও জনসমর্থন প্রমাণের লড়াইয়ে পরিণত হতে চলেছে। এরই মধ্যে দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন। গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক, রাজনৈতিকসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে জনসংযোগ, দলীয় ও স্থানীয় সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে প্রার্থিতার আগাম বার্তা দিচ্ছেন ভোটারদের। পাশাপাশি দলীয় সমর্থন পেতে আগেভাগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের সিনিয়র নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এর আগে গত ডিসেম্বরে দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ২০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

No comments:
Post a Comment