Friday, February 5, 2016

শিক্ষকরা সোনার মানুষ গড়ার কারিগর

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার জাতীয়
প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার হাত থেকে ক্রেস্ট নেন এক শিক্ষিকা
প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষকদের সোনার মানুষ গড়ার কারিগর বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শিক্ষকতা মহান পেশা। তাদের সম্মান অনেক উপরে। এখনও আমি আমার শিক্ষকদের যেখানে পাই সম্মান জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা প্রায়ই বলতেন, ‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চাই।’ আপনারা হচ্ছেন সেই মানুষ গড়ার কারিগর। আপনারা পারেন নীতি ও মূল্যবোধের চর্চা শিখিয়ে দেশের প্রতিটি শিশুকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। ভালো-মন্দ কিংবা ন্যায়-অন্যায় বিবেচনার জ্ঞান এবং দেশাত্মবোধের শিক্ষা দেয়া আপনাদের দায়িত্ব। তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এগিয়ে এসে দেশ থেকে নিরক্ষরতাকে চিরতরে দূর করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ উদ্বোধন ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি। স্বাগত বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন খালেদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের ক্রেস্ট তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ১০৬ জন প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৬ বিজয়ী শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিদ্যানুরাগীর হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও উপহারের চেক তুলে দেন।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করার জন্য শিশুদের মিড ডে মিল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান বিদ্যানুরাগী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক-অভিভাবকরা এগিয়ে এলে আমাদের আর কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের সঙ্গে যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা, মসজিদ ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কেউ যেন ইসলামের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করেন, অন্যদিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনা করে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে নারীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করার ৪০ বছর পর আমি ২০১৩ সালে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছি। সেদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছিলাম।
দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, ’৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের পদক্ষেপের ফলে মাত্র দু’বছরে সাক্ষরতার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে সেটা তো বাড়াইনি বরং আমাদের রেখে যাওয়া হারের চেয়ে ২০ শতাংশ কমিয়ে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে আনে।
গত ৭ বছরে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে ১৯৩ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে বিনামূল্যে এত বিপুল পরিমাণ বই সরবরাহের আর কোনো নজির আছে কি না আমার জানা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশে এখন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বছর উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণও বাড়িয়েছি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বেতন এক ধাপ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের প্রাথমিকে ভর্তির হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ হার শতভাগে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ৯১টি ‘শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া ৫২টি জেলার ১৪৮টি উপজেলায় ১২ হাজার ৫৬৭টি ‘আনন্দ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment