Sunday, February 21, 2016

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে ভাষা শহীদের
প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে ভাষা শহীদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর তারা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ফুল দেয়ার মাধ্যমে শুরু হয় একুশে ফেব্রুয়ারির মূল কর্মসূচি।
পরে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও পর্যায়ক্রমে ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বেদীতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হলে সেখানে ঢল নামে সব শ্রেণী-পেশা ও বয়সের মানুষের। শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে উঠে শহীদ বেদী।
একই সময়ে চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে রোববার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। সমগ্র জাতি অপার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে মৃত্যুঞ্জয়ী ভাষা শহীদদের।
১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা।
তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরে নয় মাস পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
২১ ফেব্রুয়ারি একদিকে শোকাবহ হলেও অন্যদিকে এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে। কারণ পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি, যারা ভাষার জন্য এদিন জীবন দিতে পেরেছিল।
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment