Thursday, February 25, 2016

৫১তে বাধা ১৯টিতে প্রার্থী পায়নি বিএনপি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মির্জা গোলাম কিবরিয়া রিপনকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সোমবার বিকাল ৩টায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পৌঁছতেই তার মনোনয়নপত্র ছিনতাই হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সামনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর লোকজন তার মনোনয়নপত্র ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে বুধবার যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেন মির্জা গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ওই সময় তার মনোনয়নপত্র উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান দিলুর হাতে ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন তার হাত থেকেই এটি ছিনিয়ে নেন। এ সময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। এমনকি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও ক্ষমতাসীন দলের বাধার কারণে প্রার্থী হতে পারেননি বলে জানান রিপন।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, উল্লিখিত ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন হাওলাদার। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত তিনি। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে একই দল থেকে বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন শাহাদাৎ হোসেন হাওলাদার। এখানে তার ছেলে সামসুদ্দিন হাওলাদারকে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই পিতা-পুত্র একে অন্যের প্রতিপক্ষ হয়েছেন। শেষ মুহূর্তে এসে পিতাকে ওয়াকওভার দিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়াবেন সামসুদ্দিন হাওলাদার। এমনটি হলে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হবেন শাহাদাৎ হোসেন হাওলাদার। এক্ষেত্রে বাধা ছিলেন মির্জা গোলাম কিবরিয়া রিপন। আর তাই মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে প্রার্থীই হতে দেয়া হয়নি তাকে।
বিএনপির অভিযোগ- ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদের মতো বিভিন্ন স্থানে এ রকম অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ অধু্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি। তবে এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব কারণে ৫১টি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এছাড়া ১৯টিতে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ক্ষমতাসীনদের ভয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির কেউ ভোটে অংশ নেয়ার সাহস দেখাননি। সব মিলিয়ে ৭০টিতে ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এর মধ্যে ২৫টিতে বিএনপি ছাড়াও অন্য কোনো দল থেকে অথবা স্বতন্ত্র হিসেবে কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
যুগান্তরের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে উল্লিখিত সব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। নির্বাচন কমিশনের উচিত পরিস্থিতি শক্ত হাতে সামাল দেয়া।
‘ভোটের নামে প্রহসন চলছে’- দাবি করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বুধবার যুগান্তরকে বলেন, বাধার পর এখন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের হুমকি দেয়া হচ্ছে বিএনপির প্রার্থীদের।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি নিজেরাই হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। দলটির অস্তিত্ব এখন বিপন্নের পথে। অনেক স্থানে তারা প্রার্থী দেয়ার মতো কাউকে খুঁজে পায়নি। বিএনপি আসলে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে অপপ্রচারে নেমেছে। এটা তাদের পুরনো অভ্যাস।
তৃণমূল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এ জেলার ১৯ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। অভিযোগ রয়েছে, এই জেলায় বিএনপিসহ সমমনা দলের কোনো প্রার্থী যাতে নির্বাচনী মাঠে না থাকে তার জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যার ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে ৬৪ জনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও ভয়ভীতির ও বাধার কারণে তাদের অধিকাংশই মনোনয়ন দাখিল করতে পারেনি।
জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ ছালাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা আমাদের দলের ৩৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়ন দাখিল করতে দেয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নির্বাচনের নামে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানদের জোর করে ক্ষমতায় বসাতে চায়। ইতিমধ্যে বাগেরহাট সদরের বারইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী লিয়াকত আলী দুলুকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যানদের বিপরীতে মনোনয়ন জমা দিয়ে এলাকা ছেড়ে কাড়াপাড়ার প্রার্থী ফকির তৌহিদুল ইসলাম পালিয়ে খুলনা অবস্থান করতে হচ্ছে। হুমকির পর কয়েকজন বিএনপির প্রার্থী হামলার আতংকে তাদের মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ রাখছেন।
তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে জেলার মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলার ক্ষেত্রে। এখানের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থা দৃঢ় হওয়ায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন তারা- এমন দাবি আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। এখানে ভিন্নমতের প্রার্থী খুঁজে পাওয়া দায়। যারা অন্য রাজনৈতিক দলের অনুসারী তাদের অনেকেই সে াতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেন। ফলে এখানে রাজনৈতিক বিরোধীদের তেমন একটা দেখা যায় না।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভপতি এমএ সালাম যুগান্তরকে বলেন, চিতলমারী ও মোল্লাহাটে তাদের কোনো প্রার্থীকেই মনোনয়ন জমা দিতে দেয়া হয়নি। মনোনয়ন জমা দেয়ার আগের রাতে পুলিশি গ্রেফতার ও শাসক দলের ক্যাডারদের হামলার ভয়ে কেউই তাদের মনোনয়ন দাখিল করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমানের সমর্থককে বাড়ি থেকে ধরে এনে নির্বাচন অফিসে এনে সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অপকৌশল চালিয়েছে। একই অবস্থা ঘটিয়েছে রাখালগাছী ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেনের সমর্থকের ক্ষেত্রে। বিষ্ণুপুর ও গোটাপাড়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাছাড়া করেছে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন।
এ ছাড়া ফকিরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে শিরিনা আক্তার কিসলু ও মূলঘর ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট হিটলার গোলদার এই দুই আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপরীতে কোনো মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া শরিফুল ইসলাম বাবুল বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসার পথে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা তার মনোনয়নপত্র পথেই ছিনতাই করেছে। এখন তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সরকারদলীয় প্রার্থীদের মারমুখী আচরণের মুখে ১২টি ইউনিয়নের ৫টিতে বিএনপি কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। তবে একটিতে বিএনপির প্রার্থীর স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অপরদিকে কালীগঞ্জের চাম্পাফুল ইউনিয়নে বিএনপিদলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোড়ল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থীর দাপটের মুখে বিএনপির অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর প্রার্থী হতে আগ্রহী হননি।
কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়নে পরপর তিনবারের চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব মোল্লা এবার বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হননি। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ঘাড়ে একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকদিন আগে জেল থেকে বেরিয়েছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, তার বাড়িতে আগের রাতে পুলিশ হানা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আতংকিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আগ্রহী হননি।
কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘দলীয় প্রার্থিতা পেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মামলার কারণে আমি নিজে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাইনি। আমার বাবা ইউনুস আলির মাধ্যমে সেটি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বাবাকে সন্ত্রাসীরা উপজেলা চত্বরে মারধর করেছে। তার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়েছে স্বপন বাহিনীর লোকজন।’ এসব কারণে তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সম্ভব হয়নি।
কলারোয়ার দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি জানান, প্রথম দিনে তার স্ত্রীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র কেড়ে নেয় কলারোয়ার স্বপন-শাহজাদা সিন্ডিকেট। দ্বিতীয় দিনেও একইভাবে তার স্ত্রীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র কেড়ে নেয় ওই সিন্ডিকেট। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে নির্দেশনা অনুযায়ী তার ছিনতাই হওয়া মনোনয়নপত্রটি উদ্ধার করে জমা করানোর নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় তার স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমা পারভিনের মনোনয়নপত্র জমা নেন রিটার্নিং অফিসার।
খুলনার তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও তেরখাদা সদর ইউপির বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচএম মহিবুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, এবারের ইউপি নির্বাচনে তেরখাদা সদর ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। নাশকতার মামলার আসামি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র জমার দায়িত্ব দেয়া হয় তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি কওসার চৌধুরীকে। কিন্তু জামানতের টাকা জমা দিয়ে ফেরার পথে তার মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়। তিনি আর মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।
একই জেলার দাকোপ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অসিত সাহা বলেন, উপজেলার ৯টি ইউপির মধ্যে ৪টিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নেই। এই ৪টি ইউপি বর্তমানে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানে ভয়ভীতি আছে। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যোগ্য প্রার্থীর সংকটও রয়েছে। সব মিলিয়ে এখানে বিএনপির প্রার্থী দেয়া সম্ভব হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরের শিবচরে বিএনপির দু’গ্রুপকে ১০টি ও ৬টি করে চেয়ারম্যান পদ ভাগ করে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। শিবচর বিএনপি নেতা জামাল কামাল নুরুদ্দীন মোল্লা সমর্থক কুতুবপুর ও ভাণ্ডারিকান্দি ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেয়ার পরও তা জমা দেননি। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে তারা মনোনয়ন জমা দেয়া থেকে বিরত থাকেন। ভাণ্ডারিকান্দির মনোনীত প্রার্থী সোহরাব হাওলাদার গুরুতর অসুস্থ। তিনি নির্বাচন করবেন না। তারপরও তার নামে প্রত্যয়নপত্র নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। নুরুদ্দীন মোল্লার সমর্থক শিরুয়াল ও কাদিরপুর ইউপিতে মনোনয়ন জমা দিলেও তারা নির্বাচন করবেন না বলে আওয়ামী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছেন বলে জানা গেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা চৌধুরী মিঠু সমর্থককে কাঁঠালবাড়ী ও ভাণ্ডারিকান্দি ইউপিতে প্রথমে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়। পরে নুরুদ্দীন মোল্লা কেন্দ্রের কয়েক নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে ওই দুই ইউপিতে তার সমর্থকদের জন্য মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। উভয় ইউপিতে দু’গ্রুপ থেকে বিএনপির চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বন্দরখোলা ইউপিতে খোকন বেপারীকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেয়ার আগের রাতে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজাম বেপারীর লোকজন খোকনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। রাতের মধ্যেই তাকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়। প্রাণ বাঁচাতে ওই রাতেই তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে আসেন। ফলে তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা চৌধুরী মিঠু যুগান্তরকে বলেন, নিজাম বেপারীর হুমকির কারণে প্রাণে বাঁচতে এলাকা ছেড়ে বিএনপি প্রার্থী খোকন বেপারী রাতের অন্ধকারে ঢাকা পালিয়ে যান। যার কারণে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ১নং বড়শালঘর ইউপিতে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। যোগ্য প্রার্থী না থাকায় তৃণমূল থেকে কারও নাম পাঠানো সম্ভব হয়নি। ওই ইউনিয়নে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই হবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর।
শালঘর গ্রামের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে বিএনপির এত ভোট থাকলেও কেউ প্রার্থী হলেন না। তিনি বলেন, আমরা তো মনের মতো প্রতীক ও প্রার্থীতে ভোট দিতে পারব না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন বলেন, ১নং বড়শালঘর ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন দিতে আমরা কোনো প্রার্থী পাইনি। তিনি বলেন, ওই ইউনিয়নে আমাদের দলের বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতা এবং ইউনিয়নটিতে আমাদের ভোটব্যাংক থাকলেও মনোনয়নের জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। মামলা, হামলা ও ভয়ভীতির কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেউ নির্বাচন করতে সাহস পাননি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও বাধার কারণে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহম্মদ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিএনপির নাসির উদ্দিন জানান, সোমবারে তিনি মনোনয়নপত্র নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আখতারুজ্জামান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর তা ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের পর বের করে দেয়া হয়। পরে তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি অবহিত করেন এবং মনোনয়নপত্রের আরেকটি কপি ভাইয়ের ছেলের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠান। কিন্তু তাকেও মারধর করে ফেরত পাঠানো হয়।
বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়ন, বুড়িরচর ইউনিয়ন, কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন এবং আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। বদরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মতিউর রহমান বিএনপি দলের হলেও কৌশলগত কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বুড়িরচর ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আজিজ শরীফ মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা তার মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তিনি তা জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সরকারদলীয় প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান চেয়াম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ আস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আমার সমর্থকরা জড়িত নয়। কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী পাওয়া যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে এবং জেলার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নে মতিউর রহমান নামে একজনের নাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলেও তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়নি। এ কারণে তিনি অভিমান করে মনোনয়নপত্র জমা দেন নাই।
হাতিয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়ন নির্বাচনে চরকিং ও চর ঈশ্বর এ দুই ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী পায়নি। এ ব্যপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে ২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে দলের কেউ আগ্রহ দেখায়নি। যার কারণে চরকিং ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নে বিএনপি কাউকে প্রার্থী করতে পারেনি। বিজয়ী হওয়ার মতো জনপ্রিয় প্রার্থী না পাওয়ায় ওই ২ ইউনিয়নে বিএনপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছে না।
হামলা-মামলার ভয়ে গোপালগঞ্জে কেউ বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আগ্রহ দেখাননি। যার কারণে এ জেলায় প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনসুর আলী যুগান্তরকে বলেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম জিলানী টুঙ্গিপাড়ার ৫ ইউনিয়নে ৫ প্রার্থীর নামের তালিকা কেন্দ্রে জমা দেন। কিন্তু যাদের নাম দেয়া হয়েছিল পরবর্তীতে তারা কেউ আর মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তার ভাষ্য মতে, গোপালগঞ্জে বিএনপির রাজনীতির জন্য দুঃসময় চলছে। মামলা-হামলার ভয়ে কেউ বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করতে সাহস দেখাননি।

No comments:

Post a Comment