Thursday, February 4, 2016

মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স কমেছে বাংলাদেশের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় সেটির ধাক্কা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের ওপর পড়তে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে সে তুলনায় জানুয়ারি মাসে প্রায় ১২% কম এসেছে।  কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিমাসে রেমিট্যান্স বাবদ বাংলাদেশে প্রায় গড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলারের আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।  কিন্তু গতমাস অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এসে ওই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বড় একটি ধাক্কা লাগল।
 বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল জানান, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স সবচেয়ে বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব প্রথম স্থানে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর পরেই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
 অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কোম্পানিগুলিতে ছাঁটাইয়ের হুমকি বাড়ছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি আরবে ৯৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে যেটি বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় অর্ধেক।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টি বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যাওয়ার একটি কারণ বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রধান অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের নির্ধারিত কর্ম ঘণ্টার বাইরে যে ওভারটাইম কাজ করতেন সেটিও কমে গেছে। যে কারণে অনেকে আগের তুলনায় দেশে কম পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছেন।
তেলের দাম কমে যাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক ছোট-খাটো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই চাকরি হারানোর আতংকে আছেন।
তবে, তেলের দাম কমে যাওয়ায় রেমিট্যাটেন্সের প্রবাহ কমলেও বাংলাদেশ আরেকটি উপায়ে লাভবান হচ্ছে। তেল আমদানি বাবদ অনেক ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। রেমিট্যান্স কমে যে ক্ষতি হচ্ছে সেটি পুষিয়ে যাচ্ছে তেল আমদানি থেকে অর্থ সাশ্রয় করে।
যোগ-বিয়োগে সমান হলেও বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসার বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। রেমিট্যান্সটা যখন আসে সেটা গ্রামে-গঞ্জে চলে যায়। এটা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগ প্রবণতার ব্যাপক শক্তি বাড়ায়।

No comments:

Post a Comment