মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা, প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ ও মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার অভিযোগ
ইউনিয়ন
পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না নির্বাচন
কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ জমা হচ্ছে ইসি
সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায়
বাধা, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রার্থীকে হুমকি, আইনশৃংখলা
রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতিত্ব ও মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার বিষয়ে রিটার্নিং
কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের অধিকাংশ
বিএনপি ও তাদের মিত্র ২০ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অভিযোগ করছেন। অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই এসব অভিযোগের ব্যাপারে একরকম নির্বিকার কমিশন ও রিটার্নিং
কর্মকর্তারা- অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই অভিযোগে কার বিরুদ্ধে, কখন ও কী অপরাধ তা উল্লেখ করতে হবে। ঢালাও অভিযোগ আমলে নেয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইসি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পায়নি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন পরিচালন বিধিতে ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া আছে। এতে অনিয়মের ঘটনায় নির্বাচন বন্ধের এখতিয়ার রয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিশন সচিবালয়ে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের প্রতিকারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাকি পাঁচ ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফকির মোহাম্মদ শামিম আহসানকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি মোরেলগঞ্জের বারইখালী ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এসএম হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেখানকার আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুর রহমান খানের ভাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মুশফিকুর রহমান নাহার বিএনপি প্রার্থী ফকির মোহাম্মদ শামিম আহসানকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে নাহার তা অস্বীকার করেন।
একই জেলার রামপালের বাঁশতলী ইউনিয়নের বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম আবদুল্লাহ আজমী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফকির শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার বিকালে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও তার লোকজন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে তাদের অপদস্থ করেছে। শাহাদাত হোসেন জানান, নির্বাচন অফিসে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডাকা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় অফিসে ঢোকার পথে মোহাম্মদ আলী চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য হুমকি দেন। এক পর্যায়ে মালেক, মোদ্দাসেরসহ বেশ কয়েকজন মারধর করে তাকে চলে যেতে বাধ্য করে। তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলে জানান। একই সময়ে হামলার শিকার বাঁশতলী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রাথী এসএম আবদুল্লাহ আজমী বলেন, কয়েকদিন ধরে নানা লোভ ও ভয়ভীতি দিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর লোকজন। তাতে কাজ না হওয়ায় মঙ্গলবার বিকালে রামপাল উপজেলার সামনে পেয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর তার সঙ্গে থাকা নির্বাচন সংক্রান্ত কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করে বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা যাবে কিনা তা নিয়ে তিনি শংকিত রয়েছেন।
বাগেরহাটের মতোই সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলামকাঠি ইউনিয়নে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এসেছে। সেখানকার চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য। তিনি বলেন, কোনো ধরনের নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কাজকর্ম করতে পারছি না। রেজাউল করিম খান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। সেখানকার থানার ওসি আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির জন্য আবেদন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৫ নম্বর ফুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ৪ নম্বর সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলকাছ উদ্দিন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন- সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফুলপুরের কার্যালয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য গেলে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে- এ অজুহাত তুলে মনোনয়নপত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনজন একসঙ্গে প্রতিবাদ করলে মনোনয়নপত্র নেয়া হয়। তবে কোনো প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার সহকারী রিটার্নিং অফিসার যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন সেখানে তাদের নাম নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিন প্রার্থী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, জেলার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সনৎকাটি গ্রামের জনৈক আবদুর রাজ্জাক উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি তার অভিযোগে বলেছেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা নির্বাচনীবিধি ও নির্দেশনা অমান্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত টানানো ব্যানার ও পোস্টার এখনও সরিয়ে ফেলেননি। এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার হজরত আলী বলেন, যে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কয়রা উপজেলার জায়গীর মহল শাখা অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাগালী ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী সুভাষ চন্দ্র বৈরাগীর বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তার ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া তেরখাদা, ফুলতলা, রূপসা, ডুমুরিয়া, দাকোপ উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো প্রার্থী বা সাধারণ মানুষ অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলা সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা, পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম, এলাকায় এলাকায় হুমকি-ধমকি, মহড়া, তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রার্থীদের অজান্তে ভোটার নাম স্থানান্তর করার চক্রান্তসহ নানা অভিযোগ প্রতিদিনের ঘটনা হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় দুটি মামলা এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে মাত্র একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন অফিসে অভিযোগ না দিয়ে অনেকেই থানা পুলিশ ও আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সফিকুল হক জানান, তার দফতরে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এটি হচ্ছে পশ্চিম ইলিশা এলাকায় আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন এলাকায় মহড়া দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছেন। ঘর থেকে বের হলে পায়ের রগ কেটে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। প্রচারণা শুরু না হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই প্রার্থীর পক্ষে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলবহর নিয়ে এলাকায় মহড়া দেন বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। তিনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে উত্তর দিঘদী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী লিয়াকত হোসেন মনসুর জানান, তার ওপর বিএনপির প্রার্থী রাইসুল আলম হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেন। এ ব্যাপারে তারা থানায় মামলা দিয়েছেন। আবার ধনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী এমদাদ হোসেন কবিরের ওপর হামলা করেন মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেব হোসেন। ওই ঘটনায় সোহেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র বৈধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজন ইউপি সদস্য প্রার্থী প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন বৃহস্পতিবার উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আ. করিম ও সোনারামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আবু রাসেলের (কালাই চাঁন) মনোনয়নপত্র বাতিল করেন নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস ছন্দ ও অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন মোটা অংকের বিনিময়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। অনেক প্রার্থীর কাছ থেকে বাতিলের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস ছন্দ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছি। আমার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ সঠিক না। সামান্য ত্রুটির কারণে কয়েকজনের মনোনয়নপত্র ঠিক করে দিয়েছি এটা সত্য, তবে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেইনি।’ এ বিষয়ে ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী আ. করিম বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ফুল মিয়া ও নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। আমার কাছ থেকেও মনোনয়নপত্র বৈধ করে দেয়ার কথা বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস ৬০ হাজার টাকা নিয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। এ ব্যাপারে সোনারামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী আবু রাসেল (কালাই চাঁন) অভিযোগে বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইকবাল আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আমার মনোনয়নপত্র অবৈধভাবে বাতিল করে দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে আপিল করব। ছলিমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মদন মিয়া চিশতি জানান, ‘উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সোনারামপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী জুলেখা খাতুন বলেন, ‘আমি ২২ ফেব্র“য়ারি বিকাল পৌনে ৫টায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা না নিয়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’ এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই-খাজা আলামীন বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস ছন্দ যদি কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা দেয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা নিয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের এক ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। সেটা কোনোভাবে কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই যাচাই-বাছাইয়ের পর ফের তালা ও কলারোয়ার কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নৌকা প্রতীকধারীদের তোপের মুখে পড়েছেন। তারা মুক্তভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না। বিষয়টি তারা পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।
কলারোয়ার যুগিখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওজিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র কেনার পর নৌকা প্রতীকধারী প্রার্থী রবিউল হাসান ও তার বাহিনীর তোপের মুখে আমি পুলিশ পাহারায় কাটিয়েছিলাম কয়েক ঘণ্টা। পরে জমা দিতেও বেগ পেয়েছি অনেক। এখন আমাকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপনের নির্দেশনায় তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলেছে।’ এ উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ জাকির হোসেন জানান, আমাকে তো উপজেলা চেয়ারম্যান তার কক্ষে নিয়ে মারধর করেছেন। তারপরও এখন যাতে প্রচারণা চালাতে না পারি সেজন্য লাঠিয়াল বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন। আমাকে দেখলেই আবারও মারধরের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারছি না’ বলে জানান তিনি। একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সায়েদ আলি গাজী বলেন, ‘আমার কাজেও বাধা পাচ্ছি। যাতে এলাকায় নির্বাচনী জোট গঠন করতে না পারি সেজন্যও বাধা দিচ্ছেন নৌকা প্রতীকধারী প্রার্থী আসলামুল আলম।’ এ উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন জানান, ‘মনোনয়ন জমা দেয়ায় আমাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল স্বপন-শাহজাদা সিন্ডিকেট। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’ তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে আমি বা আমার লোকজন মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। কারণ নানাভাবে থ্রেট করে বলা হচ্ছে অনেক আজেবাজে কথা।’ তালার ইসলামকাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সুভাষ সেন ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী মিরাজউদ্দিন একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ওসির কাছে পৃথক পৃথক অভিযোগ করেছেন। এতে তারা বলেছেন, তারা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সন্ত্রাসী মহড়ার মুখে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারছেন না। এ ইউনিয়নে বিএনপিদলীয় প্রার্থী খান রেজাউল করিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এদিকে তালার খলিসখালি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোজাফফর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এলাকার গাছাসহ কয়েক গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গিয়ে ভয় দেখিয়েছেন। বলেছেন, নৌকার প্রার্থী এলে তাকে বের করে দেবেন। আর আমরাও তাকে এসব এলাকায় ঢুকতে দেব না।’ মোজাফফর রহমান আরও বলেন, ‘এ ইউনিয়নে কমপক্ষে দু’জন চেয়ারম্যান এবং বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক লোক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুন হয়েছেন। সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদের হুমকিতে আমিও সে ধরনের ভয় পাচ্ছি।’
ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ : দিনাজপুরের বিরামপুর থানার ওসি মো. আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরজমিন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ওসি আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার একটি চিঠি জারি করে এ আদেশ দেয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই অভিযোগে কার বিরুদ্ধে, কখন ও কী অপরাধ তা উল্লেখ করতে হবে। ঢালাও অভিযোগ আমলে নেয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইসি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পায়নি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন পরিচালন বিধিতে ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া আছে। এতে অনিয়মের ঘটনায় নির্বাচন বন্ধের এখতিয়ার রয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিশন সচিবালয়ে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের প্রতিকারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাকি পাঁচ ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফকির মোহাম্মদ শামিম আহসানকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি মোরেলগঞ্জের বারইখালী ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এসএম হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেখানকার আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুর রহমান খানের ভাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মুশফিকুর রহমান নাহার বিএনপি প্রার্থী ফকির মোহাম্মদ শামিম আহসানকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে নাহার তা অস্বীকার করেন।
একই জেলার রামপালের বাঁশতলী ইউনিয়নের বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম আবদুল্লাহ আজমী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফকির শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার বিকালে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও তার লোকজন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে তাদের অপদস্থ করেছে। শাহাদাত হোসেন জানান, নির্বাচন অফিসে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডাকা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় অফিসে ঢোকার পথে মোহাম্মদ আলী চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য হুমকি দেন। এক পর্যায়ে মালেক, মোদ্দাসেরসহ বেশ কয়েকজন মারধর করে তাকে চলে যেতে বাধ্য করে। তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলে জানান। একই সময়ে হামলার শিকার বাঁশতলী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রাথী এসএম আবদুল্লাহ আজমী বলেন, কয়েকদিন ধরে নানা লোভ ও ভয়ভীতি দিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর লোকজন। তাতে কাজ না হওয়ায় মঙ্গলবার বিকালে রামপাল উপজেলার সামনে পেয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর তার সঙ্গে থাকা নির্বাচন সংক্রান্ত কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করে বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা যাবে কিনা তা নিয়ে তিনি শংকিত রয়েছেন।
বাগেরহাটের মতোই সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলামকাঠি ইউনিয়নে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এসেছে। সেখানকার চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য। তিনি বলেন, কোনো ধরনের নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কাজকর্ম করতে পারছি না। রেজাউল করিম খান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। সেখানকার থানার ওসি আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির জন্য আবেদন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৫ নম্বর ফুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ৪ নম্বর সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলকাছ উদ্দিন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন- সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফুলপুরের কার্যালয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য গেলে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে- এ অজুহাত তুলে মনোনয়নপত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনজন একসঙ্গে প্রতিবাদ করলে মনোনয়নপত্র নেয়া হয়। তবে কোনো প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার সহকারী রিটার্নিং অফিসার যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন সেখানে তাদের নাম নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিন প্রার্থী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, জেলার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সনৎকাটি গ্রামের জনৈক আবদুর রাজ্জাক উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি তার অভিযোগে বলেছেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা নির্বাচনীবিধি ও নির্দেশনা অমান্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত টানানো ব্যানার ও পোস্টার এখনও সরিয়ে ফেলেননি। এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার হজরত আলী বলেন, যে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কয়রা উপজেলার জায়গীর মহল শাখা অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাগালী ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী সুভাষ চন্দ্র বৈরাগীর বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তার ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া তেরখাদা, ফুলতলা, রূপসা, ডুমুরিয়া, দাকোপ উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো প্রার্থী বা সাধারণ মানুষ অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলা সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা, পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম, এলাকায় এলাকায় হুমকি-ধমকি, মহড়া, তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রার্থীদের অজান্তে ভোটার নাম স্থানান্তর করার চক্রান্তসহ নানা অভিযোগ প্রতিদিনের ঘটনা হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় দুটি মামলা এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে মাত্র একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন অফিসে অভিযোগ না দিয়ে অনেকেই থানা পুলিশ ও আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সফিকুল হক জানান, তার দফতরে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এটি হচ্ছে পশ্চিম ইলিশা এলাকায় আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন এলাকায় মহড়া দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছেন। ঘর থেকে বের হলে পায়ের রগ কেটে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। প্রচারণা শুরু না হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই প্রার্থীর পক্ষে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলবহর নিয়ে এলাকায় মহড়া দেন বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। তিনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে উত্তর দিঘদী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী লিয়াকত হোসেন মনসুর জানান, তার ওপর বিএনপির প্রার্থী রাইসুল আলম হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেন। এ ব্যাপারে তারা থানায় মামলা দিয়েছেন। আবার ধনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী এমদাদ হোসেন কবিরের ওপর হামলা করেন মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেব হোসেন। ওই ঘটনায় সোহেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র বৈধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজন ইউপি সদস্য প্রার্থী প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন বৃহস্পতিবার উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আ. করিম ও সোনারামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আবু রাসেলের (কালাই চাঁন) মনোনয়নপত্র বাতিল করেন নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস ছন্দ ও অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন মোটা অংকের বিনিময়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। অনেক প্রার্থীর কাছ থেকে বাতিলের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস ছন্দ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছি। আমার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ সঠিক না। সামান্য ত্রুটির কারণে কয়েকজনের মনোনয়নপত্র ঠিক করে দিয়েছি এটা সত্য, তবে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেইনি।’ এ বিষয়ে ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী আ. করিম বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ফুল মিয়া ও নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। আমার কাছ থেকেও মনোনয়নপত্র বৈধ করে দেয়ার কথা বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস ৬০ হাজার টাকা নিয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। এ ব্যাপারে সোনারামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী আবু রাসেল (কালাই চাঁন) অভিযোগে বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইকবাল আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আমার মনোনয়নপত্র অবৈধভাবে বাতিল করে দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে আপিল করব। ছলিমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মদন মিয়া চিশতি জানান, ‘উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সোনারামপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী জুলেখা খাতুন বলেন, ‘আমি ২২ ফেব্র“য়ারি বিকাল পৌনে ৫টায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা না নিয়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’ এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই-খাজা আলামীন বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস ছন্দ যদি কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা দেয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা নিয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের এক ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। সেটা কোনোভাবে কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই যাচাই-বাছাইয়ের পর ফের তালা ও কলারোয়ার কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী নৌকা প্রতীকধারীদের তোপের মুখে পড়েছেন। তারা মুক্তভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না। বিষয়টি তারা পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।
কলারোয়ার যুগিখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওজিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র কেনার পর নৌকা প্রতীকধারী প্রার্থী রবিউল হাসান ও তার বাহিনীর তোপের মুখে আমি পুলিশ পাহারায় কাটিয়েছিলাম কয়েক ঘণ্টা। পরে জমা দিতেও বেগ পেয়েছি অনেক। এখন আমাকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপনের নির্দেশনায় তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলেছে।’ এ উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ জাকির হোসেন জানান, আমাকে তো উপজেলা চেয়ারম্যান তার কক্ষে নিয়ে মারধর করেছেন। তারপরও এখন যাতে প্রচারণা চালাতে না পারি সেজন্য লাঠিয়াল বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন। আমাকে দেখলেই আবারও মারধরের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারছি না’ বলে জানান তিনি। একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সায়েদ আলি গাজী বলেন, ‘আমার কাজেও বাধা পাচ্ছি। যাতে এলাকায় নির্বাচনী জোট গঠন করতে না পারি সেজন্যও বাধা দিচ্ছেন নৌকা প্রতীকধারী প্রার্থী আসলামুল আলম।’ এ উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন জানান, ‘মনোনয়ন জমা দেয়ায় আমাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল স্বপন-শাহজাদা সিন্ডিকেট। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’ তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে আমি বা আমার লোকজন মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। কারণ নানাভাবে থ্রেট করে বলা হচ্ছে অনেক আজেবাজে কথা।’ তালার ইসলামকাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সুভাষ সেন ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী মিরাজউদ্দিন একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ওসির কাছে পৃথক পৃথক অভিযোগ করেছেন। এতে তারা বলেছেন, তারা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সন্ত্রাসী মহড়ার মুখে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারছেন না। এ ইউনিয়নে বিএনপিদলীয় প্রার্থী খান রেজাউল করিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এদিকে তালার খলিসখালি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোজাফফর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এলাকার গাছাসহ কয়েক গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গিয়ে ভয় দেখিয়েছেন। বলেছেন, নৌকার প্রার্থী এলে তাকে বের করে দেবেন। আর আমরাও তাকে এসব এলাকায় ঢুকতে দেব না।’ মোজাফফর রহমান আরও বলেন, ‘এ ইউনিয়নে কমপক্ষে দু’জন চেয়ারম্যান এবং বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক লোক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুন হয়েছেন। সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদের হুমকিতে আমিও সে ধরনের ভয় পাচ্ছি।’
ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ : দিনাজপুরের বিরামপুর থানার ওসি মো. আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরজমিন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ওসি আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার একটি চিঠি জারি করে এ আদেশ দেয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

No comments:
Post a Comment