Friday, February 26, 2016

বিনিয়োগ বাধায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না

-সংসদে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম তার নির্বাচনী এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জে জরুরিভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ বক্তৃতায় তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি বন্ধ হওয়ায় দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো এখনও দূর না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের সুফল মানুষ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে না আসায় দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশের প্রকৃত উন্নয়ন যেমন ঘটছে না, তেমনি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে বেকারত্ব বাড়ছে। সরকারকে অবশ্যই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। সালমা ইসলাম বলেন, সংসদে আজ জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নেও শরিক হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিও অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশে আজ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় সামগ্রিক অর্থেই মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে। স্বস্তি ফিরে এসেছে সমাজ জীবনেও।
তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে ধন্যবাদ জানান, সংসদে তার দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান ভাষণের জন্য।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বক্তব্যের শুরুতে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি ...’ ঐতিহাসিক এ গানের পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে বলেন, ভাষার এ মাসে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং ভাষার বিকৃতি রোধে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বাস্তবায়নের জন্য আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। জোর দাবি জানাচ্ছি ভাষা শহীদ ও ভাষাসৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সারা দেশে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্যও।
সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তার দুই বছর মেয়াদ পূরণ করেছে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সরকারে এবং সরকারের বাইরে থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় পার্টি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সোনার বাংলা চেয়েছিলেন। আর আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চেয়েছিলেন নতুন বাংলাদেশ গড়তে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হয়েছিল। আমরা মহাজোট সরকারের সঙ্গে থেকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গী হয়েছিলাম। একটি দল ও জোট যখন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। মানুষ মেরে, মানুষ পুড়িয়ে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছিল, সেরকম একটি পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টি আজ দেশের প্রধান বিরোধী দল। প্রধানতম রাজনৈতিক শক্তি। আমরা সরকারের সফলতার কথাও যেমন বলছি, তেমনি ব্যর্থতার কথাও জাতির সামনে তুলে ধরতে পিছপা হচ্ছি না।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আমার এলাকার সমস্যার প্রথমেই বলতে চাই, গ্যাস প্রাপ্তির কথা। রাজধানী থেকে কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইন গেছে। সেখান থেকে খুব কাছে আমার নির্বাচনী এলাকা নবাবগঞ্জ ও দোহার। এই এলাকার জনগণ গ্যাসের জন্য আশায় আশায় দিন গুনছেন। গ্যাস সংযোগ পেলে আমার এলাকায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন। নবাবগঞ্জ ও দোহারে দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য তিনি জোর দাবি জানান। শুধু তাই নয়, পদ্মার ভাঙন থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করে বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে দোহার ও নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ ধ্বংসের পথে। এ শিল্প রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন, ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। অনেকে মনে করেন ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদের শাসনামল ছিল স্বর্ণযুগ। জাতীয় পার্টির সময়ে মানুষ শান্তিতে ছিলেন, স্বস্তিতে ছিলেন। সেই সময়ে মানুষ পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ে মারা যেত না। ক্রসফায়ারে মায়ের বুক খালি হতো না। নির্বিচারে মানুষ খুন ও গুম হতো না। খাদ্যে ফরমালিন ও জীবন বিনাশী বিষ ছিল না। আর আজ কি হচ্ছে? কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষের মনে আজ শান্তি ও স্বস্তি নেই। সর্বত্রই চলছে জোর-জবরদস্তি, পুলিশি নির্যাতন। ছাত্রলীগের অত্যাচারে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাতে অহরহ নিগৃহীত হচ্ছে প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ। জাতীয় পার্টির শাসনামলে দেশে এই জুলুম-নির্যাতন ছিল না। জাতীয় পার্টি ভাংচুর, মানুষ হত্যা ও হরতাল-অবরোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জাতীয় পার্টি উন্নয়ন ও অগ্রগতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এজন্য আজ আমাদের স্লোগান হচ্ছে- পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি।
তিনি বলেন, গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের পথে হাঁটছি।
সরকারের এতসব উদ্যোগ মাঝে মধ্যেই হোঁচট খাচ্ছে বিশেষ কিছু মহলের অপতৎপরতায়। সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সরকার অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা-অপহরণ বেড়েই চলেছে। এই সেদিনও শুধু পারিবারিক ও বংশগত আধিপত্য বিস্তারের জন্য চারজন মাসুম শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আগে কয়েকটি শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় অবিশ্বাস্য দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় দেশের মানুষ আশাবাদী হয়েছেন।
এক বছর আগেও নির্বাচন বর্জনকারী কতিপয় রাজনৈতিক দল হরতাল-অবরোধের নামে ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। সরকারের যথাযথ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নাশকতা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু সেই স্বস্তি ভাব হয়তো কারও কারও কাছে সহ্য হচ্ছে না। এজন্য দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদের বীজ বিস্তার করার চেষ্টা চলছে। সরকার জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সজাগ ও সতর্ক থাকলেও আমি বলব, সরকারকে এ ক্ষেত্রে আরও সজাগ, সতর্ক ও কঠোর হওয়ার জন্য।
তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যার যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এ দেশ সেই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার নেতা, ৯ বছরের সফল রাষ্ট্রনায়ক, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার রূপকার পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি। তিনি আমাকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দিয়ে এ সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক ফার্স্ট লেডি বেগম রওশন এরশাদের প্রতি। যার দক্ষ নেতৃত্বে আমরা এ সংসদে সরকারের ভুলত্রুটি ধরতে পারছি, গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারছি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার নির্বাচনী এলাকা দোহার ও নবাবগঞ্জের সেই সব মানুষের প্রতি। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের প্রতিবাদ জানাতে আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এ মহান সংসদে পাঠিয়েছেন। সালমা ইসলাম বলেন, এটা ঠিক যে সরকারের দক্ষ পরিচালনায় অর্থনীতির সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবুও আমি মনে করি এখনও দেশে বিনিয়োগবান্ধব কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ গড়ে উঠেনি। বিদুৎ-গ্যাস সংকট এবং অবকাঠামোগত সমস্যাই বিনিয়োগে বড় বাধা। ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখনও সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মাত্রাতিরিক্ত সুদের কারণে অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারছেন না। কোনোভাবেই দূর হচ্ছে না আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা। সেবা সংস্থাগুলোতে চালু করা যায়নি ওয়ান স্টপ সার্ভিস। নানা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও প্রতারণার মতো অপরাধ।
তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ৫ বছরে গড়ে ৬ দশমিক তিন শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে মার্কিন ডলারে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৯ দশমিক তিন শতাংশ। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সার্বিকভাবে, অনুকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থ-সামাজিক খাতে লক্ষণীয় অগ্রগতি বাংলাদেশকে নিুমধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের পথে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এতেই তুষ্ট হলে চলবে না। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের সুষ্ঠু সুন্দর ও বাধাহীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর বিশাল নির্মাণ যজ্ঞ। এ সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। দেশের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা বিধানসহ পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে পুলিশের ভূমিকা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করছে। আমি বলব, ব্যক্তিবিশেষের জন্য পুরো একটি বাহিনী বিতর্কিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।
গণতান্ত্রিক দেশে মহান জাতীয় সংসদ পরিণত হয় দেশের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এ সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। হিংসা, হানাহানি ও সংঘাতের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি চায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে দেখতে। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করা। আশা করি সরকার এ দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা তারা সহজভাবে গ্রহণ করবে। নিজেদের ভুল শুধরে সঠিক পথে চলবে। তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করা সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম তার নির্বাচনী এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জে জরুরিভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ বক্তৃতায় তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি বন্ধ হওয়ায় দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো এখনও দূর না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের সুফল মানুষ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে না আসায় দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশের প্রকৃত উন্নয়ন যেমন ঘটছে না, তেমনি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে বেকারত্ব বাড়ছে। সরকারকে অবশ্যই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। সালমা ইসলাম বলেন, সংসদে আজ জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নেও শরিক হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিও অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশে আজ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় সামগ্রিক অর্থেই মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে। স্বস্তি ফিরে এসেছে সমাজ জীবনেও।
তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে ধন্যবাদ জানান, সংসদে তার দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান ভাষণের জন্য।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বক্তব্যের শুরুতে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি ...’ ঐতিহাসিক এ গানের পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে বলেন, ভাষার এ মাসে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং ভাষার বিকৃতি রোধে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বাস্তবায়নের জন্য আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। জোর দাবি জানাচ্ছি ভাষা শহীদ ও ভাষাসৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সারা দেশে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্যও।
সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তার দুই বছর মেয়াদ পূরণ করেছে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সরকারে এবং সরকারের বাইরে থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় পার্টি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সোনার বাংলা চেয়েছিলেন। আর আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চেয়েছিলেন নতুন বাংলাদেশ গড়তে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হয়েছিল। আমরা মহাজোট সরকারের সঙ্গে থেকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গী হয়েছিলাম। একটি দল ও জোট যখন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। মানুষ মেরে, মানুষ পুড়িয়ে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছিল, সেরকম একটি পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টি আজ দেশের প্রধান বিরোধী দল। প্রধানতম রাজনৈতিক শক্তি। আমরা সরকারের সফলতার কথাও যেমন বলছি, তেমনি ব্যর্থতার কথাও জাতির সামনে তুলে ধরতে পিছপা হচ্ছি না।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আমার এলাকার সমস্যার প্রথমেই বলতে চাই, গ্যাস প্রাপ্তির কথা। রাজধানী থেকে কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইন গেছে। সেখান থেকে খুব কাছে আমার নির্বাচনী এলাকা নবাবগঞ্জ ও দোহার। এই এলাকার জনগণ গ্যাসের জন্য আশায় আশায় দিন গুনছেন। গ্যাস সংযোগ পেলে আমার এলাকায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন। নবাবগঞ্জ ও দোহারে দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য তিনি জোর দাবি জানান। শুধু তাই নয়, পদ্মার ভাঙন থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করে বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে দোহার ও নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ ধ্বংসের পথে। এ শিল্প রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন, ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। অনেকে মনে করেন ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদের শাসনামল ছিল স্বর্ণযুগ। জাতীয় পার্টির সময়ে মানুষ শান্তিতে ছিলেন, স্বস্তিতে ছিলেন। সেই সময়ে মানুষ পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ে মারা যেত না। ক্রসফায়ারে মায়ের বুক খালি হতো না। নির্বিচারে মানুষ খুন ও গুম হতো না। খাদ্যে ফরমালিন ও জীবন বিনাশী বিষ ছিল না। আর আজ কি হচ্ছে? কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষের মনে আজ শান্তি ও স্বস্তি নেই। সর্বত্রই চলছে জোর-জবরদস্তি, পুলিশি নির্যাতন। ছাত্রলীগের অত্যাচারে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাতে অহরহ নিগৃহীত হচ্ছে প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ। জাতীয় পার্টির শাসনামলে দেশে এই জুলুম-নির্যাতন ছিল না। জাতীয় পার্টি ভাংচুর, মানুষ হত্যা ও হরতাল-অবরোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জাতীয় পার্টি উন্নয়ন ও অগ্রগতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এজন্য আজ আমাদের স্লোগান হচ্ছে- পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি।
তিনি বলেন, গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের পথে হাঁটছি।
সরকারের এতসব উদ্যোগ মাঝে মধ্যেই হোঁচট খাচ্ছে বিশেষ কিছু মহলের অপতৎপরতায়। সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সরকার অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা-অপহরণ বেড়েই চলেছে। এই সেদিনও শুধু পারিবারিক ও বংশগত আধিপত্য বিস্তারের জন্য চারজন মাসুম শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আগে কয়েকটি শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় অবিশ্বাস্য দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় দেশের মানুষ আশাবাদী হয়েছেন।
এক বছর আগেও নির্বাচন বর্জনকারী কতিপয় রাজনৈতিক দল হরতাল-অবরোধের নামে ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। সরকারের যথাযথ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নাশকতা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু সেই স্বস্তি ভাব হয়তো কারও কারও কাছে সহ্য হচ্ছে না। এজন্য দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদের বীজ বিস্তার করার চেষ্টা চলছে। সরকার জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সজাগ ও সতর্ক থাকলেও আমি বলব, সরকারকে এ ক্ষেত্রে আরও সজাগ, সতর্ক ও কঠোর হওয়ার জন্য।
তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যার যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এ দেশ সেই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার নেতা, ৯ বছরের সফল রাষ্ট্রনায়ক, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার রূপকার পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি। তিনি আমাকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দিয়ে এ সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক ফার্স্ট লেডি বেগম রওশন এরশাদের প্রতি। যার দক্ষ নেতৃত্বে আমরা এ সংসদে সরকারের ভুলত্রুটি ধরতে পারছি, গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারছি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার নির্বাচনী এলাকা দোহার ও নবাবগঞ্জের সেই সব মানুষের প্রতি। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের প্রতিবাদ জানাতে আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এ মহান সংসদে পাঠিয়েছেন। সালমা ইসলাম বলেন, এটা ঠিক যে সরকারের দক্ষ পরিচালনায় অর্থনীতির সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবুও আমি মনে করি এখনও দেশে বিনিয়োগবান্ধব কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ গড়ে উঠেনি। বিদুৎ-গ্যাস সংকট এবং অবকাঠামোগত সমস্যাই বিনিয়োগে বড় বাধা। ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখনও সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মাত্রাতিরিক্ত সুদের কারণে অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারছেন না। কোনোভাবেই দূর হচ্ছে না আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা। সেবা সংস্থাগুলোতে চালু করা যায়নি ওয়ান স্টপ সার্ভিস। নানা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও প্রতারণার মতো অপরাধ।
তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ৫ বছরে গড়ে ৬ দশমিক তিন শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে মার্কিন ডলারে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৯ দশমিক তিন শতাংশ। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সার্বিকভাবে, অনুকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থ-সামাজিক খাতে লক্ষণীয় অগ্রগতি বাংলাদেশকে নিুমধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের পথে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এতেই তুষ্ট হলে চলবে না। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের সুষ্ঠু সুন্দর ও বাধাহীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর বিশাল নির্মাণ যজ্ঞ। এ সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। দেশের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা বিধানসহ পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে পুলিশের ভূমিকা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করছে। আমি বলব, ব্যক্তিবিশেষের জন্য পুরো একটি বাহিনী বিতর্কিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।
গণতান্ত্রিক দেশে মহান জাতীয় সংসদ পরিণত হয় দেশের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এ সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। হিংসা, হানাহানি ও সংঘাতের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি চায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে দেখতে। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করা। আশা করি সরকার এ দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা তারা সহজভাবে গ্রহণ করবে। নিজেদের ভুল শুধরে সঠিক পথে চলবে। তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করা সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

No comments:

Post a Comment