Friday, February 26, 2016

শাস্তি কমলেও আশাহত ব্লাটার-প্লাতিনি

আজই ফিফার সভাপতি পদে হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত নির্বাচন। সব ঠিক থাকলে মিশেল প্লাতিনির হাতে ব্যাটন তুলে দিয়ে হয়তো ফিফার মসনদ ছাড়তেন সেপ ব্লাটার। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়ে দু’জনই এখন ফুটবল থেকে অনেক দূরে। বিশ্ব ফুটবলের দুই সাবেক শীর্ষ কর্তা অনেক আশা নিয়ে ফিফার আপিল কমিটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আশা ছিল নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন। কিন্তু আপিল কমিটির রায়ে শাস্তি কমলেও আশাহত দু’জনই। কারণ যে অপরাধের অভিযোগে শাস্তি হয়েছিল তা থেকে মুক্তি মেলেনি ব্ল­াটার ও প্লাতিনির। সাবেক ফিফা সভাপতি ব্লাটার ও নিষিদ্ধ উয়েফা প্রধান মিশেল প্লাতিনির শাস্তির মেয়াদ দু’বছর করে কমেছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপিল কমিটি দু’জনের ফুটবল সংক্রান্ত সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ছয় বছর করেছে।
গত ডিসেম্বরে ফিফার নৈতিকতা কমিটি বিশ্ব ফুটবলের দুই মহারথীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে দু’জনকেই আট বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
তদন্তে ২০১১ সালে প্লাতিনিকে ‘অবৈধ উপায়ে’ ব্লাটারের ২০ লাখ ডলার দেয়ার অভিযোগের সত্যতা মেলে। একই অপরাধে ব্লাটারকে ৫০ হাজার ও প্লাতিনিকে ৮০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমলেও সন্তুষ্ট নন ব্লাটার। কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আগে থেকেই অস্বীকার করে আসা ৭৯ বছর বয়সী এই সুইস এক বিবৃতিতে জানান, ‘ফিফার আপিল কমিটির সিদ্ধান্তে আমি ভীষণ হতাশ। আমি বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে নিয়ে যাব।’
ফিফার আপিল কমিটির এই রায়ে নিজের অসন্তুষ্টি ও হতাশার কথা জানিয়ে প্লাতিনিও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে এর মীমাংসা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনিও আগে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে তদন্তে দু’জনের বিরুদ্ধেই ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছিল নৈতিকতা কমিটি।
গত বছর ২৯ মে পঞ্চমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিন পরেই ফিফাকে ঘিরে ঘুষ কেলেংকারি ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়ায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্লাটার। আজ হতে যাওয়া সভাপতি নির্বাচনের আগেই সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফা প্রধানের দায়িত্বে থাকা সুইস বুড়ো।
ব্লাটারের পদত্যাগের ঘোষণার পরবর্তী সময়ের শুরুতে তার উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল ৬০ বছর বয়সী প্লাতিনিকে। গত অক্টোবরে ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্রও জমা দেন প্লাতিনি। কিন্তু এর ক’দিন পরেই তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে সংস্থাটির নৈতিকতা কমিটি। আর ওই তদন্ত শেষেই তাদের নিষিদ্ধ করা হয়। ওয়েবসাইট।

No comments:

Post a Comment