Wednesday, February 3, 2016

এডিবির ১২৪ কোটি টাকা ফেরত

অর্থ ব্যয়ে অক্ষমতায় দাতা সংস্থার সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে। এর আগে এডিবি একাধিক প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে অর্থ ব্যয় করতে না পারায় অর্থ প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। এবার তিতাস গ্যাস ফিল্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১২৪ কোটি টাকা ফেরত যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যয় করতে না পারা ও ব্যয় জটিলতার অজুহাতে প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আলী মোক্তেজার রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় কূপ ওয়ার্কওভারসংক্রান্ত কম্পোনেন্ট বাতিল করে নিজস্ব অর্থায়নে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। মূলত এডিবির অর্থ ব্যবহারে কঠিন শর্তের কারণে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যদিও এটি আমাদের প্রয়োজন। এজন্য জটিলতায় না গিয়ে নতুন প্রকল্প নেয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রীর ওপর ভ্যাট ও কর হার বেড়ে যাওয়ায় দেশী অর্থায়ন থেকে ব্যয় বাড়ছে।
জানতে চাইলে এডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ঋণ চুক্তির ৫ বছর পর জটিলতার কথা বলা অবান্তর। তবে ঋণ নেয়া ছাড়াই যদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা যায়- সেটা ভালো। তিনি বলেন, অর্থায়ণকৃত সব প্রকল্পেই সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কিছু তদারকি করতে হয়। এটি মেনে নিয়েই অর্থ ব্যয় করতে হবে। এডিবির অর্থ সহায়তায় ২০১০ সালে ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে উদগীরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ফিল্ডের মূল্যায়ন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। পরে আরও এক বছরের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও প্রকল্পের খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এই প্রকল্পে এডিবি ৮১০ কোটি টাকার সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়। কিন্তু সময়মতো অর্থ ব্যয়ে করতে না পারায় এখন প্রকল্প থেকে ১২৪ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও দেশীয় অর্থায়ন থেকে প্রকল্পের ৩৩ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সংশোধিত মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৯০৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়।
পেট্রোবাংলার আওতাধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় অনুমোদনে পাঠানো প্রস্তাবে ২০১৭ সালের জুন নাগাদ মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে জটিলতার বিষয়টি মানতে নারাজ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একাধিক কর্মকর্তার মতে, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই শর্ত নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়। এ জন্য ৫ বছর পর এসে এ ধরনের কথা বলা মূলত অক্ষমতা ছাড়া কিছু না।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, বৈদেশিক আশীর্বাদপুষ্ট এই প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শকের সুপারিশ, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ও ইআরডির অনুমতি ছাড়াই এর একটি কম্পোনেন্ট (৫টি কূপ ওয়ার্কওভার) বাতিল করে নতুন প্রকল্প কিভাবে নেয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৪টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত কোন প্রতিবেদনের আলোকে নেয়া হয়েছে তাও জানানোর কথা বলেছে কমিশন। বিজিএফসিএল প্রস্তাবনায় ব্যয় সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উদগীরণ এলাকায় কূপগুলোর ওয়ার্কওভার অংশ বাতিল, স্পিড বোর্ড, জেটি বা ঘাট নির্মাণ ও নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা, অধিগ্রহণকৃত জমিতে নির্মিত ওয়াল রক্ষায় মাস্টার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, অনুমোদিত ৪টি কূপ খননের জন্য রিগ ফাউন্ডেশন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, খননসংক্রান্ত মালামাল ক্রয়ে ব্যয় সংস্থান করতে হবে। এছাড়া সরকারের ভ্যাট ও কর হারে পরিবর্তনের ফলে ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment