Wednesday, February 24, 2016

ক্ষুব্ধ বিএনপির হাইকমান্ড ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

ইউপিতে মনোনয়ন ‘বাণিজ্য’
পৌরসভার মতো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বিএনপিতে। একটি সিন্ডিকেট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে না জানিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে একই ইউপিতে দু’জনকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। অর্থের পাশাপাশি দলের মধ্যে নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে পাঁচটি ইউপিতে তারা দু’জন করে মনোনয়ন দেয়। ওই সিন্ডিকেট কোথাও কোথাও তৃণমূলের সুপারিশকেও বদলে দিয়েছে। গুরুতর এসব অনিয়ম জানার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ডেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, গত পৌরসভা নির্বাচনেও বিপুল অর্থের বিনিময়ে একই সিন্ডিকেট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামিকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এ নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টি তদন্ত করে মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও সিন্ডিকেটের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। এবার যাতে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে না থাকে, সে ব্যাপারে এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে দলের হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সব স্তরের নেতাকর্মী।
জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা চৌধুরী (মিঠু) ও সম্পাদক নুরুদ্দিন মোল্লা আলাদাভাবে চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠান। চূড়ান্ত তালিকা করার আগে ওই দু’জনকে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান কয়েক দফা বৈঠক করেন। শিবচরের ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথমে দুই গ্র“প থেকে সমানভাবে মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু নুরুদ্দিন মোল্লা তা মানেননি। কেন্দ্রের মনিটরিং টিমের কয়েকজন সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে ১০টি ইউপিতে তার সমর্থকদের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নুরুদ্দিন মোল্লার তালিকা থেকে ১০ জনকে ও মিঠু চৌধুরীর তালিকা থেকে ৬ জনকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে প্রত্যয়নপত্রও দেয়া হয়। নিজের গ্র“পের ১০ জনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেও থেমে থাকেননি নুরুদ্দিন মোল্লা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোহাম্মদ শাহজাহানকে না জানিয়ে মনিটরিং টিমের দুই সদস্যকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেন তিনি। মিঠু চৌধুরী গ্রুপের পাওয়া ছয়টি চেয়ারম্যান পদ থেকে দুটি নুরুদ্দিন মোল্লার সমর্থকদের দেয়া হবে বলে ওই দুই নেতা নিশ্চিত করেন। শাহজাহানকে না জানিয়ে ওই দুই নেতা দুটি ইউনিয়নের দুটি প্রত্যয়নপত্র প্রিন্ট করেন। পরে তা নিয়ে যান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে। তিনি দুটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করে দেন। শিবচরের বাঁশকান্দি ইউপিতে মো. শাহিন মিয়া ও কাঁঠালবাড়ীতে আবদুস সালাম শেখকে প্রথমে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়। তারা মিঠু চৌধুরীর সমর্থক। কিন্তু পরে ওই সিন্ডিকেট নুরুদ্দিন মোল্লার সমর্থক কাঁঠালবাড়ীতে আলতাফ হোসেন বেপারি ও বাঁশকান্দিতে শহীদকে প্রত্যয়নপত্র দেন। সোমবার দুই ইউপিতে বিএনপির দু’জন করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই সিন্ডিকেট প্রত্যয়নের সঙ্গে একটি চিঠিও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর দেন। গত পৌরসভা নির্বাচনেও নুরুদ্দিন মোল্লা বড় অংকের টাকা দিয়ে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের হামলা মামলার আসামিকে মনোনয়ন পাইয়ে দেন। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তা ধামাচাপা দেন। অভিযোগ রয়েছে, নুরুদ্দিন মোল্লা ফেঁসে যাবেন- এমন আশংকায় অর্থের বিনিময়ে তদন্ত ধামাচাপা দেন। পিরোজপুরে চরবিশ্বাস ইউপিতে বিএনপির রেণু আখতারকে ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দেয়া হয়। ২১ ফেব্র“য়ারি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমান মতিকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়। মতি কৃষক দলের সহ-কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার ভাই। তারা দু’জনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একই ইউনিয়নে কোনো দলের দু’জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলে উভয়ের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। সে হিসেবে যেসব ইউপিতে বিএনপির দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তা বাতিল হয়ে যাবে। শিবচরের যে দুটি ইউপিতে বিএনপির দু’জন করে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাদের প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না। জানা গেছে, শুধু প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতি নয়, তৃণমূলের সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে অনেক এলাকায় কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রার্থী বদলে দেয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের ফুলপুরের রামভদ্রপুর ইউপিতে প্রার্থী বদলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের সুপারিশ না মানার বিষয়টি চেয়ারপারসনকেও অবহিত করা হয়েছে। সোমবার রাতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ডেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া।

No comments:

Post a Comment