Saturday, February 27, 2016

ইরানে একইদিনে দুই নির্বাচন

তেহরানের একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সঙ্গীদের
(দেখা যাচ্ছে না) কালিমাখা তর্জনী দেখাচ্ছেন এই
ইরানি নারী। এবারই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে
দুই নির্বাচনের ভোট দিচ্ছেন ইরানিরা
(পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদ
নির্বাচন)। শুক্রবারের ছবি
চাপে রুহানি চিন্তায় খামেনি
ইরানে সংসদ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের পর্ষদ (যারা সরকারকে উপদেশ দেবেন) নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করার পর অনুষ্ঠিত এ ভোটকে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির জন্য ‘গণভোট বা অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর এএফপির। এদিকে এবারের আলেম পর্ষদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। জরিপ বলছে, এবারের এ নির্বাচনের মাধ্যমে ২৫ বছর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন হতে পারে। ইরানের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে ভোটকেন্দ্রগুলো আরও অধিক সময় ধরে খোলা রাখা হবে। গত চার বছর আগে যে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল, তার চেয়ে এবার অধিক ভোট পড়বে। তবে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যত ভোট পড়েছিল এবারের নির্বাচন তা ডিঙাতে পারবে না। চার বছরের জন্য ২৯০ জনকে ইরানি পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত করা হবে। পাশাপাশি ভোটাররা ৮৮ বিশিষ্ট বিজ্ঞ আলেমদের নিয়ে গঠিত একটি পর্ষদ নির্বাচিত করবেন যারা আট বছরের জন্য দায়িত্ব থাকবেন। তবে এ পর্ষদের সবাইকে দেশটির প্রধান ধর্মীয়নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুমোদন পেতে হবে।
নির্বাচনে ইরানি প্রেসিডেন্ট রুহানির সমর্থনে দেশটির সংস্কারবাদী ও মধ্যপন্থীরা ইতোমধ্যে একটি জোট গঠন করেছেন। হাসান রুহানির প্রচেষ্টায় পশ্চিমাদেশের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়েছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশগুলো।
ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রাণ ফিরে এসেছে। এজন্য প্রেসিডেন্ট সমর্থিত জোট এবার ভালো ফল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইরানে বিবিসির সংবাদকর্মী আলী হামিদানি জানান, নির্বাচনে অর্থনীতির বিষয়টি প্রধান ইস্যু। যেহেতু ইরানের ওপর থেকে অধিকাংশ পশ্চিমা অবরোধ ওঠে গেছে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এদেশে আসছেন, সেহেতু ইরানের জনগণ এমন নেতাই নির্বাচন করবেন, যার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হয়।

No comments:

Post a Comment