![]() |
| শুক্রবার ইরানের দশক জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি |
তেহরানের
পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ব্যাপারে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তি
স্বাক্ষরের পর প্রথমবারের মতো ইরানে পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট বা মজলিশের নির্বাচন আকর্ষণের
কেন্দ্রবিন্দু হলেও এবার বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনটিকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ
বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ২৫ বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
পরিবর্তন হতে পারে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত হতে পারেন। আর সর্বোচ্চ
নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের হাতে। এদিকে
আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতার কারণে পার্লামেন্ট
নির্বাচনের দিকেও চোখ রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের।
বিশেষজ্ঞ পরিষদ নির্বাচন কি? : ইরানে তিন দশক আগে গঠন করা হয় বিশেষজ্ঞ পরিষদ। প্রতি ৮ বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদের জন্য ৮৮ জন ধর্মীয় নেতাকে বেছে নেয়া হয়। এ বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরাই সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে বাছাই করে থাকেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরিষদ চাইলে সর্বোচ্চ নেতাকে উৎখাতও করতে পারে। তবে মজার ব্যাপার হলো গত তিন দশকের মধ্যে ইরানে মাত্র দু’জন সর্বোচ্চ নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
১৯৮৯ সালে, ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। আর সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বহাল আছেন। তবে খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে পরবর্তী বিশেষজ্ঞ পরিষদকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বয়স ৭৬ বছর। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে খামেনির দেহে অস্ত্রোপচার হয়। তার প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে এবং শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুব একটা স্থিতিশীল নেই বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর সেদিক থেকে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন বিশেষজ্ঞ পরিষদ সদস্যদের ভূমিকা থাকতে পারে। কারণ, সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারাই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। এক্ষেত্রে ইরানি জনগণের কণ্ঠস্বর প্রান্তিক থেকে যায়।
সর্বোচ্চ নেতার কী ক্ষমতা রয়েছে? : রুহুল্লাহ খোমেনির ইসলামি সরকারের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভূমিকা নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা উৎখাত না করলে আজীবন মেয়াদ পান সর্বোচ্চ নেতা। যদিও বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন, তারপরও বলা যায় তার বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারও কাছে জবাবদিহি করার ব্যাপারে তিনি দায়বদ্ধ নন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নানাবিধ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতার অধিকারী। এরমধ্যে আছে-বিচারিক প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের নেতৃত্ব ঠিক করে দেয়া এবং ১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ৬ জুরিকে নিয়োগ দেয়া। গার্ডিয়ান কাউন্সিল বা অভিভাবক পরিষদ ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীসহ সব প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করেন ও যাচাই-বাছাই করেন। অভিভাবক পরিষদ ইরানের পার্লামেন্টে পাস করা আইনগুলো পর্যালোচনা করে থাকে।
পার্লামেন্ট নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ? : নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চার বছরের জন্য মজলিশ বা পার্লামেন্ট সদস্যদের বেছে নেন ইরানিরা। মজলিশের সদস্যদের আইন প্রণয়নের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশের ক্ষমতা রয়েছে। ইরান সরকারের ওপর পার্লামেন্টের কী ভূমিকা রয়েছে তা পরিমাপ করা এক অর্থে খুব কঠিন। একদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়ন্ত্রণ আবার সরকারের মন্ত্রীদের নিয়োগের কাজটি করে থাকে পার্লামেন্ট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করার একটি অন্যতম ভেন্যুও পার্লামেন্ট। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুমোদনও পার্লামেন্ট থেকে নিতে হয়। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, দেশটির নীতিমালায় পরিবর্তন আসবে।
ইরানের এবারের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ফেরত যেতে শুরু করায় জীবন মানোন্নয়নে আশাবাদ বেড়েছে। সংস্কারবাদী এবং মধ্যপন্থীরা বিদেশী বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। আর তাদের ও প্রচারণা ইরানের তরুণদের আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ইরানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তরুণ হলেও দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ। তবে রক্ষণশীলদের দাবি, দেশের ভেতরকার উৎপাদনের মাধ্যমেই শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। ইরানের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদে এক দশকের রক্ষণশীল আধিপত্যের অবসানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সংস্কারবাদী দলের নেতারা।
জয়ের জন্য চেষ্টায় বিন্দুমাত্র কমতি রাখতে চান না তারা। আর সে কারণে দলের অনেকে প্রার্থিতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত না হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মিত্র বলে বিবেচিত মধ্যপন্থীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন সংস্কারপন্থীরা। অন্যদিকে ‘প্রিন্সিপলিস্টস’ বা রক্ষণশীলরাও গোলাম আলী হাদদাদ আদেলের নেতৃত্বে একটি জোট গঠন করেছে। গোলাম আলীর পরবর্তী পার্লামেন্টারি স্পিকার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, আলমন্টর, আলজাজিরা
বিশেষজ্ঞ পরিষদ নির্বাচন কি? : ইরানে তিন দশক আগে গঠন করা হয় বিশেষজ্ঞ পরিষদ। প্রতি ৮ বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদের জন্য ৮৮ জন ধর্মীয় নেতাকে বেছে নেয়া হয়। এ বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরাই সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে বাছাই করে থাকেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরিষদ চাইলে সর্বোচ্চ নেতাকে উৎখাতও করতে পারে। তবে মজার ব্যাপার হলো গত তিন দশকের মধ্যে ইরানে মাত্র দু’জন সর্বোচ্চ নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
১৯৮৯ সালে, ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। আর সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বহাল আছেন। তবে খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে পরবর্তী বিশেষজ্ঞ পরিষদকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বয়স ৭৬ বছর। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে খামেনির দেহে অস্ত্রোপচার হয়। তার প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে এবং শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুব একটা স্থিতিশীল নেই বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর সেদিক থেকে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন বিশেষজ্ঞ পরিষদ সদস্যদের ভূমিকা থাকতে পারে। কারণ, সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারাই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। এক্ষেত্রে ইরানি জনগণের কণ্ঠস্বর প্রান্তিক থেকে যায়।
সর্বোচ্চ নেতার কী ক্ষমতা রয়েছে? : রুহুল্লাহ খোমেনির ইসলামি সরকারের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভূমিকা নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা উৎখাত না করলে আজীবন মেয়াদ পান সর্বোচ্চ নেতা। যদিও বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন, তারপরও বলা যায় তার বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারও কাছে জবাবদিহি করার ব্যাপারে তিনি দায়বদ্ধ নন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নানাবিধ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতার অধিকারী। এরমধ্যে আছে-বিচারিক প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের নেতৃত্ব ঠিক করে দেয়া এবং ১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ৬ জুরিকে নিয়োগ দেয়া। গার্ডিয়ান কাউন্সিল বা অভিভাবক পরিষদ ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীসহ সব প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করেন ও যাচাই-বাছাই করেন। অভিভাবক পরিষদ ইরানের পার্লামেন্টে পাস করা আইনগুলো পর্যালোচনা করে থাকে।
পার্লামেন্ট নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ? : নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চার বছরের জন্য মজলিশ বা পার্লামেন্ট সদস্যদের বেছে নেন ইরানিরা। মজলিশের সদস্যদের আইন প্রণয়নের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশের ক্ষমতা রয়েছে। ইরান সরকারের ওপর পার্লামেন্টের কী ভূমিকা রয়েছে তা পরিমাপ করা এক অর্থে খুব কঠিন। একদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়ন্ত্রণ আবার সরকারের মন্ত্রীদের নিয়োগের কাজটি করে থাকে পার্লামেন্ট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করার একটি অন্যতম ভেন্যুও পার্লামেন্ট। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুমোদনও পার্লামেন্ট থেকে নিতে হয়। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, দেশটির নীতিমালায় পরিবর্তন আসবে।
ইরানের এবারের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ফেরত যেতে শুরু করায় জীবন মানোন্নয়নে আশাবাদ বেড়েছে। সংস্কারবাদী এবং মধ্যপন্থীরা বিদেশী বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। আর তাদের ও প্রচারণা ইরানের তরুণদের আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ইরানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তরুণ হলেও দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ। তবে রক্ষণশীলদের দাবি, দেশের ভেতরকার উৎপাদনের মাধ্যমেই শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। ইরানের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদে এক দশকের রক্ষণশীল আধিপত্যের অবসানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সংস্কারবাদী দলের নেতারা।
জয়ের জন্য চেষ্টায় বিন্দুমাত্র কমতি রাখতে চান না তারা। আর সে কারণে দলের অনেকে প্রার্থিতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত না হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মিত্র বলে বিবেচিত মধ্যপন্থীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন সংস্কারপন্থীরা। অন্যদিকে ‘প্রিন্সিপলিস্টস’ বা রক্ষণশীলরাও গোলাম আলী হাদদাদ আদেলের নেতৃত্বে একটি জোট গঠন করেছে। গোলাম আলীর পরবর্তী পার্লামেন্টারি স্পিকার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, আলমন্টর, আলজাজিরা

No comments:
Post a Comment