Sunday, February 14, 2016

মায়ের প্রেমিকের লাশ ১০ টুকরা করে ক্ষোভ মেটাল আরিফ by ওমর ফারুক

মায়ের সাথে পরপুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি কিশোর আরিফ হোসেন (১৯)। এ কারণে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী নাবিক মোহাম্মদ মহসিনকে (৫১) খুন করে করাত দিয়ে লাশ ১০ টুকরা করে ক্ষোভ মেটাল ওই কিশোর। ‘সাগরকন্যা’ নামের লাইটার জাহাজের মাস্টার মহসিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার শরীর ১০ টুকরা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। খুনের দীর্ঘ এক মাস পর আরিফকে পুলিশ গ্রেফতার করলে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘আরিফ হোসেন গ্রেফতারের পর জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আরিফুলকে ১২ জানুয়ারি বিকেলে নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে ইপিজেড থানা পুলিশ আটক করেছে। মহসিন ঢাকার ডেমরা থানার মধ্যম সানার পাড়া এলাকার ফাতেমা ভিলা নামক একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়। আটক আরিফ হোসেন প্রিমিয়ার গার্মেন্টে চাকরি করত। সে তার মায়ের সাথে থাকত ইপিজেড থানার আব্বাস কলোনি এলাকায়। মোবাইল ফোনে রং নাম্বারে মহসিনের সাথে পরিচয় হয় তার মা নাজমার। এরপর প্রায় চার বছর ধরে নাজমার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন মহসিন। চট্টগ্রাম এলেই তিনি উঠতেন নাজমার বাসায়।
যেভাবে খুন
ঢাকার বাসিন্দা মহসিন এমভি সাগরকন্যা নামে একটি লাইটারেজ জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন। জাহাজটি তেল পরিবহন করত। জাহাজটি চট্টগ্রামে নোঙর করলে মোহাম্মদ মহসিন ইপিজেড এলাকায় পোশাককর্মী নাজমা বেগমের বাসায় থাকতেন। নাজমা বেগমের স্বামী প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে নাজমা বেগমের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক চলছিল। নাজমার ছেলে আরিফুলও পোশাক কারখানার কর্মী ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুল পুলিশকে জানিয়েছে, মায়ের সঙ্গে মহসিনের অবৈধ সম্পর্ক সে কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ১৫ জানুয়ারি দুপুরে মহসিন তাদের বাসায় যায়। এ সময় তার মা নাজমা বেগম তাকে কাজের কথা বলে বাইরে পাঠায়। বাইরে থেকে এসে তার মাকে মহসিনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এরপর সে মহসিনকে খুনের পরিকল্পনা করে। বিকেলে তার মা কারখানায় চলে যান। এ সময় মহসিন ঘুমিয়ে ছিলেন। মহসিন বুকের ওপর বসে মুখের ওপর বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে। এরপর লাশ খাটের নিচে দুই দিন রেখে দেয়। দুই দিন পর বাজার থেকে একটি করাত কিনে এনে তার মায়ের অবর্তমানে লাশ ১০ টুকরা করে আলাদা আলাদা করে বাজারের ব্যাগে ভরে রাখে। ১৭ জানুয়ারি রাতে মহসিনের লাশ ব্যাগে ভর্তি করে চার ভাগে ফেলা হয়। এর মধ্যে মাথা থেকে গলা পর্যন্ত দুই ভাগ করে কর্ণফুলী নদীতে এবং সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় একটি বড় নালায় ফেলে দেয়া হয়। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত ফেলা হয় হালিশহর থানার আনন্দবাজার এলাকায় নদীর পাড়ে। হাত-পা ফেলে দেয়া হয় একই এলাকায় আরেকটা বড় নালায়।
লাশ উদ্ধার ও মামলা
১৮ জানুয়ারি হালিশহর থানা পুলিশ আনন্দবাজার এলাকা থেকে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় দ-বিধির ৩০২, ২০১ /৩৪ ধারায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ২১ জানুয়ারি মহসিনের ভাই ও স্ত্রী ঢাকা থেকে এসে ইপিজেড থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন এবং নাজমা নামে একজনের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক থাকার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। পুলিশ নাজমা বেগমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নাজমা বেগম বর্তমানে জেলে আছে।
ওসি যা বললেন
ইপিজেড থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, মহসিনকে খুন করার পর তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয় আরিফ হোসেন। মোবাইলটি সে একটিভ করলে আমরা মোবাইলের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করি। শুক্রবার বিকেলে ইপিজেড থানার ওসির নেতৃত্বে সল্টগোলা ক্রসিং এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেফতার করি, তার কাছে থাকা মহসিনের মোবাইল ফোনসহ দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি। আরিফের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সল্টগোলা ট্্রলার ঘাট এলাকা থেকে লাশ কাটার করাতটি উদ্ধার করি।
তিনি আরো জানান, আরিফের মা নাজমা বেগমের সাথে নাবিক মহসিনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল যা আরিফ মেনে নিতে পারেনি। সে এ নিয়ে প্তি হয়ে নিজ বাসায় মহসিনকে পেয়েই খুন করে, পারে লাশ ১০ টুকরো করে।

No comments:

Post a Comment