বিএনপির
নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের সময় গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপে
যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা দু’টি
হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে
চার্জশিট গ্রহণের জন্য আগামী ২ মার্চ পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
চার্জশিটে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩১ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। ২ মার্চ মামলার
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা
জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন আদালত। বিএনপির কাউন্সিল
সামনে রেখে এ দু’টি মামলার চার্জশিট আদালত গ্রহণ করলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে
পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।
আইনজীবী মোহাম্মদ পি কে আব্দুর রব নয়া দিগন্তকে বলেন, সিআরপিসির ৫৪ ধারায় আমলযোগ্য অপরাধের জন্য বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা পুলিশকে দেয়া হয়েছে। গত বছর ১ জুলাই সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৯টি কারণে পুলিশকে ওই ক্ষমতা প্রয়োগের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যদিও এগুলোর কোনো একটি কারণও গত বছরের অবরোধ চলাকালে গ্লোরি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়। তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার এখতিয়ার ৫৪ ধারায় নেই। সিআরপিসির ১৫৪ ধারায় এফআইআর করার জন্য পুলিশের প্রতি যে নির্দেশনা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তা অনুসরণ করা হয়নি। কেননা সিআরপিসি ৫৪ ধারায় মৌখিকভাবে কোনো ঘটনার সংবাদ দেয়ার যেমন বিধান রয়েছে, তেমনি বিধান রয়েছে তা লিখে সংবাদদাতার স্বাক্ষরসহ গ্রহণের। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নুরুজ্জামান উল্লেখ করেনÑ রাত অনুমান ৯টার সময় মৃধা বাড়ি অবস্থানকালে সংবাদ পাই যে ঢাকার ডেমরা রোডে মাতুয়াইলে পাকা রাস্তার ওপর দুষ্কৃতকারীরা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং আরো গাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে।
অথচ এফআইআরের ফরমে সংবাদদাতার কলামে এসআই নূরুজ্জামানের নাম-ঠিকানা প্রমাণ করার অবকাশ থাকে যে এসআই নুরুজ্জামান কোনো সংবাদ পাননি। তিনি নিজ উদ্যোগে এজাহার করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো দুষ্কৃতকারী আটক হয়নি। মামলা দায়েরের পর পুলিশ যাকে খুশি আটক করেছে এবং মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ঘটনাস্থলে বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন না, তারা ঘটনা ঘটাতে সাহায্য করেননি, এমনকি তাদের ষড়যন্ত্রের কোনো চাক্ষুস কিংবা প্রত্যক্ষ শোনা সাক্ষী নেই। অত্র মামলার কোনো ধারাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। কারণ তিনি প্রকাশ্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, ষড়যন্ত্র করেননি। সে কারণে তাকে কথিত অপরাধের দায়ে বিচারের সম্মুখীন করা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রবীণ সাংবাদিক মো: আবদুল হক ভূঁইয়া (বাচ্চু) বলেন, অতীতে দেখা গেছে একই কায়দায় বিরোধী পক্ষকে মামলার ফাঁদে ফেলে পলাতক দেখিয়ে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। বাস্তবে দেখা যায়, ক্ষমতাসীনরা যদি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে মামলায় হয়রানি করতে চায় তাহলে ওই মামলায় চার্জশিট দেয়ার পর তা গ্রহণ করে কিংবা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি খড়গ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিএনপি নেতা মো: তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, মামলার এজাহার এবং চার্জশিট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী নেই। মামলার ঘটনার সাথে তিনি জড়িত আছেন সে কথাও উল্লেখ নেই। পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে চার্জশিটে তাকে ১ নং আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেগম খালেদা জিয়া এ মামলা আসামি হতেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ মামলায় তাকে জড়িত করেছে। যা আইনত ও ন্যায়ত সঠিক হয়নি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসান বলেন, এজাহার অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া মামলায় বর্ণিত ঘটনার সাথে জড়িত নন। তারপরও পুলিশ এ মামলায় তাকে জড়িত করে চার্জশিট দিয়েছে। চার্জশিটটি মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি কিভাবে সমর্থন করে তাতে স্বাক্ষর করেন তা ভাবতে অবাক লাগে। পুলিশ চার্জশিট দিলেই তা সমর্থন করা যায় না। পিপি যদি বুঝতেন তবে এ মামলার চার্জশিটে তিনি কখনই স্বাক্ষর দিতেন না। একজন নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়াটা সমীচীন হয়নি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মো: আব্দুল্লাহ আবু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। সেজন্য চার্জশিটে স্বাক্ষর করেছি। এখন আদালত আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আইনজীবী হাতেমুল আলম বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার চারটি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ। কিন্তু মামলায় এটা প্রমাণ হয় না যে, বেগম খালেদা জিয়া ঘটনার সাথে জড়িত। তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেগম খালেদা জিয়ার নাম চার্জশিটে আসত না। পুলিশের অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজটি করা সমীচীন হয়নি।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি চার্জশিটটি গ্রহণের জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম মো: মারুফ হোসেনের আদালতে জিআরও এসআই হুমায়ুন কবির উপস্থাপন করেন। আদালত চার্জশিটটি পর্যালোচনা করে ২ মার্চ পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। যাত্রাবাড়ী থানায় ২ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা এবং এম কে আনোয়ারসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি বিস্ফোরক দ্রব্যের আইনের মামলা রয়েছে। গত মাসের ২৮ তারিখে এসব মামলার চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় সাী করা হয় ৮১ জনকে।
অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সাবেক ছাত্রনেত্রা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ৩৮ জন।
গত বছর ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিপে করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম নুরুজ্জামান। ১৯৭৪ সালের বিশেষ মতা আইনের ১৫/২৫ (ঘ) ধারায় দায়ের করা মামলায় পেট্রলবোমা নিেেপর পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
আইনজীবী মোহাম্মদ পি কে আব্দুর রব নয়া দিগন্তকে বলেন, সিআরপিসির ৫৪ ধারায় আমলযোগ্য অপরাধের জন্য বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা পুলিশকে দেয়া হয়েছে। গত বছর ১ জুলাই সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৯টি কারণে পুলিশকে ওই ক্ষমতা প্রয়োগের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যদিও এগুলোর কোনো একটি কারণও গত বছরের অবরোধ চলাকালে গ্লোরি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়। তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার এখতিয়ার ৫৪ ধারায় নেই। সিআরপিসির ১৫৪ ধারায় এফআইআর করার জন্য পুলিশের প্রতি যে নির্দেশনা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তা অনুসরণ করা হয়নি। কেননা সিআরপিসি ৫৪ ধারায় মৌখিকভাবে কোনো ঘটনার সংবাদ দেয়ার যেমন বিধান রয়েছে, তেমনি বিধান রয়েছে তা লিখে সংবাদদাতার স্বাক্ষরসহ গ্রহণের। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নুরুজ্জামান উল্লেখ করেনÑ রাত অনুমান ৯টার সময় মৃধা বাড়ি অবস্থানকালে সংবাদ পাই যে ঢাকার ডেমরা রোডে মাতুয়াইলে পাকা রাস্তার ওপর দুষ্কৃতকারীরা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং আরো গাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে।
অথচ এফআইআরের ফরমে সংবাদদাতার কলামে এসআই নূরুজ্জামানের নাম-ঠিকানা প্রমাণ করার অবকাশ থাকে যে এসআই নুরুজ্জামান কোনো সংবাদ পাননি। তিনি নিজ উদ্যোগে এজাহার করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো দুষ্কৃতকারী আটক হয়নি। মামলা দায়েরের পর পুলিশ যাকে খুশি আটক করেছে এবং মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ঘটনাস্থলে বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন না, তারা ঘটনা ঘটাতে সাহায্য করেননি, এমনকি তাদের ষড়যন্ত্রের কোনো চাক্ষুস কিংবা প্রত্যক্ষ শোনা সাক্ষী নেই। অত্র মামলার কোনো ধারাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। কারণ তিনি প্রকাশ্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, ষড়যন্ত্র করেননি। সে কারণে তাকে কথিত অপরাধের দায়ে বিচারের সম্মুখীন করা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রবীণ সাংবাদিক মো: আবদুল হক ভূঁইয়া (বাচ্চু) বলেন, অতীতে দেখা গেছে একই কায়দায় বিরোধী পক্ষকে মামলার ফাঁদে ফেলে পলাতক দেখিয়ে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। বাস্তবে দেখা যায়, ক্ষমতাসীনরা যদি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে মামলায় হয়রানি করতে চায় তাহলে ওই মামলায় চার্জশিট দেয়ার পর তা গ্রহণ করে কিংবা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি খড়গ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিএনপি নেতা মো: তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, মামলার এজাহার এবং চার্জশিট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী নেই। মামলার ঘটনার সাথে তিনি জড়িত আছেন সে কথাও উল্লেখ নেই। পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে চার্জশিটে তাকে ১ নং আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেগম খালেদা জিয়া এ মামলা আসামি হতেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ মামলায় তাকে জড়িত করেছে। যা আইনত ও ন্যায়ত সঠিক হয়নি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসান বলেন, এজাহার অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া মামলায় বর্ণিত ঘটনার সাথে জড়িত নন। তারপরও পুলিশ এ মামলায় তাকে জড়িত করে চার্জশিট দিয়েছে। চার্জশিটটি মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি কিভাবে সমর্থন করে তাতে স্বাক্ষর করেন তা ভাবতে অবাক লাগে। পুলিশ চার্জশিট দিলেই তা সমর্থন করা যায় না। পিপি যদি বুঝতেন তবে এ মামলার চার্জশিটে তিনি কখনই স্বাক্ষর দিতেন না। একজন নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়াটা সমীচীন হয়নি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মো: আব্দুল্লাহ আবু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। সেজন্য চার্জশিটে স্বাক্ষর করেছি। এখন আদালত আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আইনজীবী হাতেমুল আলম বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার চারটি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ। কিন্তু মামলায় এটা প্রমাণ হয় না যে, বেগম খালেদা জিয়া ঘটনার সাথে জড়িত। তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেগম খালেদা জিয়ার নাম চার্জশিটে আসত না। পুলিশের অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজটি করা সমীচীন হয়নি।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি চার্জশিটটি গ্রহণের জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম মো: মারুফ হোসেনের আদালতে জিআরও এসআই হুমায়ুন কবির উপস্থাপন করেন। আদালত চার্জশিটটি পর্যালোচনা করে ২ মার্চ পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। যাত্রাবাড়ী থানায় ২ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা এবং এম কে আনোয়ারসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি বিস্ফোরক দ্রব্যের আইনের মামলা রয়েছে। গত মাসের ২৮ তারিখে এসব মামলার চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় সাী করা হয় ৮১ জনকে।
অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সাবেক ছাত্রনেত্রা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ৩৮ জন।
গত বছর ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিপে করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম নুরুজ্জামান। ১৯৭৪ সালের বিশেষ মতা আইনের ১৫/২৫ (ঘ) ধারায় দায়ের করা মামলায় পেট্রলবোমা নিেেপর পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

No comments:
Post a Comment