পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে দুর্নীতি
পানি
উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চলমান এক প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ার দুর্নীতির
অভিযোগ এনেছে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ
গ্রহণসহ অবিলম্বে দুর্নীতির অর্থ ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। একই
সঙ্গে বারবার সংশোধনী আনার কারণে ওই প্রকল্প থেকে ১৪০ কোটি টাকার
প্রতিশ্র“তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে অপর দাতা দেশ নেদারল্যান্ডস। পরিকল্পনা
কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, অর্থ
প্রত্যাহারের ঘটনায় নতুন করে এই প্রকল্পে সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
২০০৪ সালে বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় ৯৭৫ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত ‘পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর আগে দু’বার সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরিই প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্তকরণ এবং ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে যৌথভাবে প্রকল্পটিতে ৬৮৪ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেয় বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডস। এর বাইরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১১ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৪ সালের জুন নাগাদ মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী আনা হয়। ওই সময় জিওবি অর্থায়নের ব্যয় কমলেও দাতা সংস্থা দুটি ১০৯ কোটি টাকা বাড়তি সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর প্রকল্পেও মোট ব্যয় আরও বাড়িয়ে বিশেষ সংশোধনী আনা হয়। এ সময় প্রকল্পের নতুন অঙ্গ হিসেবে কৌশলগত সমীক্ষা, অডিট ও রিভিও এবং কন্টিনজেন্সি ও বন্যা পুনর্বাসন কম্পোনেন্ট বাতিল করা হয়। কিন্তু বাড়ানো হয় পরামর্শক ব্যয়। এতে প্রকল্পের অঙ্গ বা কম্পোনেন্টের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। এ সময় যথাযথ সমন্বয়ে নতুন করে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে সংশোধনী আনা হয়। কিন্তু তাতেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয়বার সংশোধন করা হয়। এর ফলে দাতা সংস্থাগুলোর ব্যয় বেড়ে ৮৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এই প্রকল্পটির কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০০৪ সালে বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় ৯৭৫ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত ‘পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর আগে দু’বার সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরিই প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্তকরণ এবং ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে যৌথভাবে প্রকল্পটিতে ৬৮৪ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেয় বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডস। এর বাইরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১১ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৪ সালের জুন নাগাদ মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী আনা হয়। ওই সময় জিওবি অর্থায়নের ব্যয় কমলেও দাতা সংস্থা দুটি ১০৯ কোটি টাকা বাড়তি সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর প্রকল্পেও মোট ব্যয় আরও বাড়িয়ে বিশেষ সংশোধনী আনা হয়। এ সময় প্রকল্পের নতুন অঙ্গ হিসেবে কৌশলগত সমীক্ষা, অডিট ও রিভিও এবং কন্টিনজেন্সি ও বন্যা পুনর্বাসন কম্পোনেন্ট বাতিল করা হয়। কিন্তু বাড়ানো হয় পরামর্শক ব্যয়। এতে প্রকল্পের অঙ্গ বা কম্পোনেন্টের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। এ সময় যথাযথ সমন্বয়ে নতুন করে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে সংশোধনী আনা হয়। কিন্তু তাতেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয়বার সংশোধন করা হয়। এর ফলে দাতা সংস্থাগুলোর ব্যয় বেড়ে ৮৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এই প্রকল্পটির কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সূত্র
জানায়, এই ঘটনার পর নেদারল্যান্ডস সরকার প্রতিশ্রুত দুই কোটি ডলারের মধ্যে
১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ
দাঁড়ায় ১৪০ কোটি টাকা। নতুন করে পাঠানো প্রস্তাবনায় ব্যয় কমলেও চলতি বছরের
ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে
চাইলে বর্তমান প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এএইচএম ফখরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,
প্রকল্পের মূল অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংকের তদন্তে ক্রয় প্রক্রিয়ার অনিয়মের
বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ
অর্থ পরিশোধে প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে (ডিপিপি) বরাদ্দ রাখা হবে। তিনি
বলেন, প্রকল্পে অঙ্গ পরিবর্তন হওয়ার কারণে নেদারল্যান্ডস তার প্রতিশ্রুতির
মধ্যে ১৪০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই জন্য প্রকল্পের তৃতীয়
সংশোধনী এনে এর ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের
কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এজন্য
একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের সুপারিশের আলোকে দায়ীদের বিরুদ্ধে
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)
সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধীনে বাঁধ নির্মাণসংক্রান্ত এ প্রকল্পে একটি
গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজে বিশ্বব্যাংকের ক্রয় প্রক্রিয়ার অনিয়ম হয়েছে বলে
জানিয়েছে সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি থেকে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা
ফেরত চেয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও
আহ্বান জানিয়েছে দাতা সংস্থাটি।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা প্যাকেজের ৩ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বিশ্বব্যাংককে ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় দুটি হিসাবের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দিতে ইআরডির পক্ষ থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে মেটানো হবে।
এর আগে গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১০টি প্রকল্পে অনিয়ম ধরা পড়ে। অর্থও ফেরত দিতে বাধ্য হয় সরকার। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা প্যাকেজের ৩ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বিশ্বব্যাংককে ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় দুটি হিসাবের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দিতে ইআরডির পক্ষ থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে মেটানো হবে।
এর আগে গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১০টি প্রকল্পে অনিয়ম ধরা পড়ে। অর্থও ফেরত দিতে বাধ্য হয় সরকার। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment