Sunday, March 20, 2016

পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে স্থপতিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি)
নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা
জমির স্বল্পতা ও ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থাপত্য হলো একটি সভ্যতার মাপকাঠি। প্রাচীন সভ্যতাকে চেনা বা জানার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থাপত্য শিল্প। আজ আমরা যা কিছু নির্মাণ করছি, কয়েক শ বছর পর যদি এগুলো টিকে থাকে, তাহলে এগুলো আমাদের সময়কে ধারণ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্থপতিদের এমন স্থাপত্য নির্মাণ করতে হবে, যা টেকসই ও মজবুতের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা কিছু নির্মাণ করি না কেন, সেগুলোকে যেমন একদিকে হতে হবে স্থায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব’ অন্যদিকে তেমনি দৃষ্টিনন্দন। নান্দনিক বলেই মানুষ এখনো পুরোনো রাজবাড়ি, মসজিদ, মন্দির দেখতে ছুটে যায়।
স্থাপত্য নির্মাণের আগে দেশি কনসালট্যান্টদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাইরের দেশের কনসালট্যান্টদের চেয়ে আমাদের দেশের কনসালট্যান্টরা দেশের আবহাওয়া সম্পর্কে ভালো জানেন বা ভালো বোঝেন। তাই তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াটা ভালো।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
একটা দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ—সবকিছু মাথায় রেখেই একটা স্থাপনা হওয়া উচিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন প্ল্যান করা হয় বা ডিজাইন করা হয়, আমাদের আর্কিটেক্টরাই তো ডিজাইন করেন, তাঁরা যদি একটু লক্ষ রাখেন খাল, নদী ভরাট না করে কীভাবে ডিজাইন করা যায়, তাহলে সত্যি আমাদের দেশটা রক্ষা পেতে পারে।’
আবাসন বা শিল্পকারখানা নির্মাণে যেন জলাধার ভরাট না হয়, সেদিকে সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রস্তাবিত এক শ-টি ইকোনমিক জোন নির্মাণের পাশাপাশি এগুলোর সঙ্গে স্থাপন করা হবে বর্জ্য শোধনাগারও।
প্রধানমন্ত্রী স্থপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট না করে আমাদের মাস্টার প্ল্যানের আওতায় উন্নয়নকাজ করতে হবে। নগরে ভবন নির্মাণে আপনাদের আরও যত্নবান হতে হবে।’
আমাদের দেশে বাড়িঘরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা খুবই দুর্বল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের দিকে লক্ষ রাখতে স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। এতে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহার কমিয়ে আনা যাবে বলে তিনি মনে করেন।
আজকের দিনে ভবন নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল মন্তব্য করে স্থপতিদের ইটের পরিবর্তে অন্য কিছু ব্যবহার করা যায় কি না এবং নির্মাণ ব্যয় আরও কমানো যায় কি না, সেদিকে লক্ষ রাখার আহ্বান জানান।
পুরোনো স্থাপত্যকলাকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ উল্লেখ করে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে স্থাপত্যবিদদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ যুগে তৈরি লাল দালানগুলো বাংলাদেশের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে ধারণ করে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন না থাকলে এসব ভেঙে ফেলা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটিশদের গোলামি করেছি দুই শ বছর। আর ব্রিটিশদের সব স্থাপনা আমাদের রক্ষা করতে হবে, এটা আমি মনে করি না। হয়তো প্রতীকী হিসেবে দু-চারটা রাখতে পারি। বাকিগুলো ভেঙে নতুন চিন্তা, নতুন চেতনায় ভালো ভালো ভবন নির্মাণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এ ছাড়া আর্কিটেক্ট রিজোনাল কাউন্সিল এশিয়ার সভাপতি সাথিরুত নুই টান্ডাহ্যান্ড, আইএবি সেন্টারের সভাপতি আবু সায়ীদ এম আহমেদ, আইএবির সাধারণ সম্পাদক কাজী এম আরিফ, কাজী গোলাম নাসির অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

No comments:

Post a Comment