Thursday, March 24, 2016

তুরস্কে সন্দেহভাজন তিন আইএস সদস্য গ্রেপ্তার- জার্মান স্বার্থে হামলার পরিকল্পনা

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক। এই জঙ্গিরা দেশটিতে জার্মানির কূটনৈতিক মিশন বা স্কুলে হামলার পরিকল্পনা করছিল। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার এ খবর দিয়েছে তুর্কি গণমাধ্যম। সংবাদপত্র হুররিয়েত ও সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-টার্ক জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন তুর্কি, একজন ইরাকি ও অপরজন সিরীয়। তুরস্ক ও জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য এবং তুরস্কে জার্মান স্বার্থে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছিলেন বলে খবরে বলা হয়। সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় তুরস্কে জার্মানির কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার ছয় দিনের মাথায় এই গ্রেপ্তার এল। জার্মানি গত বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় তাদের দূতাবাস, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট এবং দুটি শহরের কয়েকটি স্কুল বন্ধ করে দেয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার তখন বলেছিলেন, সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার ‘খুবই মারাত্মক’ ইঙ্গিত পেয়ে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে। ওই ঘটনার দুই দিনের মাথায় ইস্তাম্বুলের একটি ব্যস্ততম বিপণিবিতান সড়কে আত্মঘাতী হামলায় তিন ইসরায়েলি ও একজন ইরানি নিহত এবং অনেকে আহত হয়। এ ঘটনায় আইএস জড়িত বলে তুরস্ক দাবি করে। আইএসের সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সন্দেহভাজন তিন সদস্য তুরস্কে আরও হামলার পরিকল্পনা করছে, এমন আশঙ্কার ভিত্তিতে তুর্কি পুলিশের অব্যাহত অভিযানের মধ্যে মঙ্গলবারের এই গ্রেপ্তারের খবর এল। একই দিন তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী একটি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১০ আইএস সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে কর্মকর্তারা জানান। স্থানীয় গাজিয়ানটেপ প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনের মধ্যে ১ জনের দেহে বিস্ফোরক লুকানো ছিল। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে আহত হয় দুজন। এ ছাড়া তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গত আট মাসে তুরস্কে যে ছয়টি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার চারটির জন্যই আইএসকে দায়ী করা হয়। অন্য দুটি ঘটনার দায় স্বীকার করে তুরস্কের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)।

No comments:

Post a Comment