Sunday, March 20, 2016

তাসকিন-সানির টি-​টোয়েন্টি বিশ্ব​কাপ শেষ

সানির টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ
আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি থাকতে পারে, তা অনুমিতই ছিল। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি—তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশনও নাকি অবৈধ! আজ দুপুরে আইসিসি থেকে এই দুঃসংবাদই জানানো হয়েছে বিসিবিকে। এর কিছু সময় আগে সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে জানায় আইসিসি।
বিসিবির একাধিক সূত্র বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। পরে আইসিসির ওয়েবসাইটেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আরাফাত সানির সঙ্গে তাসকিনের অ্যাকশন নিয়েও সন্দেহ তোলেন আম্পায়াররা। পরে গত ১২ মার্চ স্পিন কোচ রুয়ান কালপাগের সঙ্গে সানি ও ১৫ মার্চ পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের সঙ্গে তাসকিন চেন্নাইয়ে গিয়ে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন। আজ সেগুলোরই চূড়ান্ত রিপোর্ট এসেছে।
বোলিং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের এই দুই বোলারের জন্যই শেষ হয়ে গেল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অ্যাকশন শুদ্ধ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বোলিং করতে পারবেন না তাঁরা। আইসিসির সদস্য দেশগুলোর ঘরোয়া ক্রিকেটেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে বিসিবি চাইলে পুনর্বাসন–প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের বোলিংয়ের সুযোগ দিতে পারে।
বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশনকেও আজ সকালেই অবৈধ বলে জানিয়েছে আইসিসি। তাঁর বিকল্প মোটামুটি ঠিক করাই ছিল। সানির জায়গা নিতে আজ রাতেই বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার সাকলাইন সজীব। রাজশাহী থেকে ইতিমধ্যেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। বিসিবির নির্বাচক কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশার মুঠোফোনে বলেছেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আমাদের জানানো হয়েছে আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়েছে। তার বিকল্প পাঠাতে হবে। আমরা সাকলাইন সজীবকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তাসকিনের বিকল্প কে, সেটা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঠিক হয়নি। প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন বলে এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, হাবিবুল ও আরেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত—চারজনের স্ট্যান্ডবাই তালিকা থেকেই পাঠানো হবে তাসকিনের বিকল্প খেলোয়াড়। সেটা যেকোনো পেসারই হবেন তা নয়, হতে পারেন একজন ব্যাটসম্যান কিংবা স্পিনারও।
আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সানির বেশির ভাগ বলেই কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকা হয়ে যায়। তবে তাসকিনের সব বলে সমস্যাটা হয় না। কিছু কিছু ডেলিভারিতে হয়।
নিয়ম অনুযায়ী তাসকিন-সানিকে এখন বিসিবির অধীনে বোলিং অ্যাকশন শুদ্ধ করার কাজ করে আবারও পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকে না। বোলিং অ্যাকশন শুদ্ধ করে কখন পরীক্ষা দেওয়া যাবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন সানি-তাসকিন ও তাঁদের কোচরাই।

No comments:

Post a Comment