Wednesday, March 30, 2016

মূসক নিয়েই যত আপত্তি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর)সম্মেলনকক্ষে
গতকাল এক প্রাক্–বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেন
(ডানে) সংস্থার চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান
মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ করুন। সমুদয় অর্থের ওপর ২০ বা ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন ধরে তার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক নিন। প্যাকেজ ভ্যাট চালু রাখুন। মূসক থেকে কয়েক বছর অব্যাহতি দিন। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চলমান প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ১৭ ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এভাবেই মূসক নিয়ে তাঁদের দাবিদাওয়ার কথা জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়োজনে গতকাল বুধবারের এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহ্মাদ। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনাটি হয়। শুরুতেই মাতলুব আহ্মাদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা শুল্ক ও কর দিতে চান। যদিও পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল। যত সহজ করা যাবে ব্যবসায়ীরা তত আগ্রহী হবেন। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের ব্যাপার।’ এটি বাস্তবায়নে এনবিআরকে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দিতে অনুরোধ করেন তিনি। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিনা শুল্কে গাড়ি ও নৌযান কেনা, পর্যটকদের খাবার মূসকমুক্ত করা, ট্যুর অপারেটরদের এক অঙ্কের সুদহারে ঋণ দেওয়াসহ কয়েকটি দাবি জানান ট্যুর অপারেটর সমিতির সহসভাপতি রাফিউজ্জামান। অন্যদিকে হোটেল সেবার ওপর পর্যটকদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ মূসক নেওয়ার বিরোধিতা করে সেটি এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার দাবি করে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন। সমিতির কোষাধ্যক্ষ আসিফ হোসেন পর্যটকদের জন্য আমদানি করা অ্যালকোহলের শুল্ক ২০৫-৩৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার দাবি জানান। এদিকে, ৩০ বছর ধরে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আসছেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব রেজাউল করিম। কথাটি জানিয়ে আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্মৃতিটা বড় তিক্ত। ব্যবসায়ীদের দাবি শোনে এনবিআর। তবে বাজেটে সেসবের কোনো প্রতিফলন হয় না।’ পাঁচ বছর ধরে একটি দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এনবিআরকে ‘ধন্যবাদ’ জানান অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ খান। তিনি বলেন, ‘এজেন্সি একটি বিজ্ঞাপনের বিল বিটিভিতে দিলে তারা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কর্তন করে রাখে। অন্যদিকে এজেন্সির গ্রাহক প্রতিষ্ঠানও একইভাবে বিল দেওয়ার সময় এআইটি কাটে। দ্বৈত করের ব্যবস্থাটি থেকে আমরা মুক্তি পেতে পাঁচ বছর ধরে বলে আসছি। তবে কাজ না হওয়ায় আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ কথাটি শুনে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সবাই হেসে ফেলেন। ভারত থেকে কাগজ আমদানি শুল্কমুক্ত করার দাবি জানায় বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি। সংগঠনের সভাপতি শহীদ সেনিয়াবাদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিয়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ পেলে ভারত থেকে কাগজ আমদানি করতে ৬১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। তবে ভারতীয় কোনো ব্যবসায়ী কাজ পেলে শূন্য শুল্কেই কাগজ দিতে পারে। এই বৈষম্য থেকে দেশের মুদ্রণশিল্পকে বাঁচাতে পাঠ্যপুস্তকের কাঁচামাল আমদানি শুল্কমুক্ত করুন।’ বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হক বন্ডের কাগজ এনে যাঁরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। সুপার মার্কেট মালিক সমিতির সহসভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ সুপারিশগুলোকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন। গতকালের আলোচনায় ৫১টি ব্যবসায়িক সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আসে মাত্র ১৭টি। শুরুতেই বিষয়টি আঁচ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘অনেকেই আসেননি। হয়তো তাঁদের মনে অনেক রাগ-ক্ষোভ আছে।’ সবশেষে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘মূসক নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা বন্ডের সুবিধা নিয়ে অপব্যবহার করেন তাঁরা জাতীয় শত্রু। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’

No comments:

Post a Comment