একাত্তরের
মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলীর
ফাঁসির রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার ঘটনায় জাতি কলঙ্কমুক্ত হওয়ার পথে
আরও একটি ধাপ অতিক্রম করল। মীর কাসেম এমন একজন যুদ্ধাপরাধী, যাঁর পক্ষে
দেশ-বিদেশে বড় রকমের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা ছিল। তাই তাঁর
বিচার–প্রক্রিয়ার দিকে সচেতন মহলের সন্দিগ্ধ নজরদারি ছিল। ইসলামী
ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি কেবল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ
সংঘটনেই নন, তিনি সব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে বিচার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে
বিশাল অর্থনৈতিক ও মিডিয়া পরিমণ্ডল গঠনে মুখ্য কুশীলবের ভূমিকা রাখেন।মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়। এ ধরনের ঘাতকেরা বিশ্বমানবতার শত্রু। তাই আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শর্ত পূরণে তাঁদের শাস্তি হওয়া দরকার ছিল। সর্বোচ্চ আদালত তাঁর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় ইতিহাসের বোঝা আরও কিছুটা লাঘব হবে। এ রায়ে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগী স্বজনদের মনোবেদনাকে আরও কিছুটা প্রশমিত করবে। ন্যায়বিচার করা কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আইনবহির্ভূতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়।
চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এই দণ্ড অধিকতর তাৎপর্য বয়ে এনেছে। কারণ, একাত্তরে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো সেখানকার মানবতাবিরোধী অপরাধ, যার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন আলবদর নেতা মীর কাসেম আলী। সে কারণে তাঁর পরিচয় হয়েছিল ‘বাঙালি খান’।
মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন ‘প্রধান বিচারপতিকে মন্ত্রীদের হুমকি’ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। যদি কোনো তথ্য–প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটা তাঁরা নিশ্চয়ই আদালতের নজরে আনবেন। কিন্তু জামায়াত যথারীতি ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে, যা নিন্দনীয়। জামায়াতকে এই অমোঘ সত্য মানতে হবে যে তারা ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘোরাতে পারবে না।
No comments:
Post a Comment