![]() |
| চকরিয়া উপজেলা পরিষদ থেকে পৌরসভার ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন আনসার সদস্যরা। ছবিটি গতকাল বেলা আড়াইটায় তোলা l প্রথম আলো |
কক্সবাজারের
মহেশখালী ও চকরিয়া পৌরসভায় ভোট আজ। শুরু থেকে মেয়র পদপ্রার্থীদের
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—প্রচারণায় বাধা, কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি। তারপরও
সব ছাপিয়ে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী উচ্ছ্বাসই দেখা যাচ্ছে। নতুন মেয়র
নির্বাচনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। প্রশাসনও অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের সব
প্রস্তুতি শেষ করেছে।
তবে দুই পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মহেশখালী: মহেশখালী পৌরসভায় মেয়র পদে আছেন তিনজন—আওয়ামী লীগের মকছুদ মিয়া (নৌকা), আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ সরওয়ার আজম (নারকেলগাছ) ও বিএনপির মহিউদ্দিন (ধানের শীষ)।
ভোটাররা জানান, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এখানে মূলত লড়াই হবে গোরকঘাটা ও পুটিবিলা এলাকার মধ্যে। গোরকঘাটার বাসিন্দা মকছুদ মিয়া ও পুটিবিলার বাসিন্দা সরওয়ার আজম। আগের নির্বাচনেও তাঁদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।
পুুটিবিলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা ছিল উৎসবমুখর। আশা করি, ভোটকেন্দ্রেও সেই পরিবেশ বজায় থাকবে। আমরা সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নতুন মেয়র নির্বাচনে উন্মুখ হয়ে আছি।’
ঘোনারপাড়ার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘প্রশাসন তো বলছে কোনো ভয় নেই। তারপরও গন্ডগোল হলে কেন্দ্রেই যাব না।’
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রের বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। নয়টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভোটকেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকবে বিশেষ নজরদারি।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল চন্দ্র বণিক প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের সার্বিক দিক বিবেচনা করে নয়টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুটিবিলা ইসলামিয়া মাদ্রাসা, মহেশখালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, মহেশখালী কলেজ ও ঘোনারপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার মিলে ২০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে।
এদিকে ভোটের দিন কেন্দ্র দখল হতে পারে —এমন আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র পদপ্রার্থী সরওয়ার আজম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ প্রার্থী ভোটকেন্দ্র দখল করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন। ভোটের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে, প্রশাসনের কাছ থেকে এ আশা করছি।’
আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী মকছুদ মিয়া বলেন, ‘গতবার আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। এবারও নির্বাচিত হব। এটা বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তাঁর লোকজন সংখ্যালঘুর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এমনকি নৌকায় ভোট না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তারপরও আতঙ্কিত না হয়ে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
জানতে চাইলে পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য বিজিবির ৪০ জনের ও র্যাবের ১৬ জনের দুটি দল মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
চকরিয়া: চকরিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ও বিএনপির নুরুল ইসলাম হায়দার। প্রচারণায় বাধা ও সংঘর্ষের কারণে ভোটারদের ভীতি থাকলেও প্রশাসনের আশ্বাসে তা কেটে গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ভোটের আশা করছেন ভোটাররা।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মো. কালু বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে ভোটের উৎসব বিরাজ করছে। এখানে কোনো আতঙ্ক নেই। সব প্রার্থী আমাদের আপনজন। তবে বিপদে-আপদে যাঁকে কাছে পেয়েছি, তাঁকেই ভোট দেব।’ একই অবস্থা ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও। এখানকার ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা নেই।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ ভাষ্য, উন্নয়ন ও দুঃসময়ে যাঁদের কাছে পেয়েছেন তাঁদের ভোট দেবেন। সিকদারপাড়ার ভোটার নুরুল কাউছার (৩৬) বলেন, ‘এ ওয়ার্ডের লোকজন প্রতিনিধি নির্বাচনে ভুল করে না। যাঁরা সব সময় আমাদের কাছে থাকেন, তাঁদের আমরা নির্বাচিত করব।’
তবে ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী থেকে ভোটার সবাই শঙ্কিত। এ ওয়ার্ডের তরুণ ভোটার আহমদ রুবেল বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হবে কি না জানি না। যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়, তাহলে কালোটাকার মালিক ও সন্ত্রাসীদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।’
এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মিজাউল হক বলেন, ‘এক প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোট ডাকাতি করবে বলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন। এখন ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার চকরিয়া পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ১৮টি ভোটকেন্দ্রের ১২২টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৬ জন পুলিশ ও ১৪ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া চারটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, দুই প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের চারটি টিম ও পুলিশের ছয়টি ভ্রাম্যমাণ দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। তাদের পাশাপাশি চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা কমিশনার (ভূমি) নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে বিএনপির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষ পাঠিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনিতেই আমার ওপর হামলার পর থেকে সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শঙ্কিত। তারপরও ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা ভোটে আছি।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ।
আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট হবে। আমার কর্মী-সমর্থকেরা কাউকে হুমকি দেয়নি। কারও ওপর হামলাও করেনি। মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। সবাই যার যার অধিকার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়ে যোগ্য নেতা নির্বাচিত করে বাড়ি ফিরবে।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁরা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন। সব কেন্দ্রে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী সব সরঞ্জাম প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো হয়েছে। এক দিন আগে থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীরাও অবস্থান নিয়েছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে দুই পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মহেশখালী: মহেশখালী পৌরসভায় মেয়র পদে আছেন তিনজন—আওয়ামী লীগের মকছুদ মিয়া (নৌকা), আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ সরওয়ার আজম (নারকেলগাছ) ও বিএনপির মহিউদ্দিন (ধানের শীষ)।
ভোটাররা জানান, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এখানে মূলত লড়াই হবে গোরকঘাটা ও পুটিবিলা এলাকার মধ্যে। গোরকঘাটার বাসিন্দা মকছুদ মিয়া ও পুটিবিলার বাসিন্দা সরওয়ার আজম। আগের নির্বাচনেও তাঁদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।
পুুটিবিলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা ছিল উৎসবমুখর। আশা করি, ভোটকেন্দ্রেও সেই পরিবেশ বজায় থাকবে। আমরা সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নতুন মেয়র নির্বাচনে উন্মুখ হয়ে আছি।’
ঘোনারপাড়ার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘প্রশাসন তো বলছে কোনো ভয় নেই। তারপরও গন্ডগোল হলে কেন্দ্রেই যাব না।’
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রের বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। নয়টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ভোটকেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকবে বিশেষ নজরদারি।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল চন্দ্র বণিক প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের সার্বিক দিক বিবেচনা করে নয়টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুটিবিলা ইসলামিয়া মাদ্রাসা, মহেশখালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, মহেশখালী কলেজ ও ঘোনারপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার মিলে ২০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে।
এদিকে ভোটের দিন কেন্দ্র দখল হতে পারে —এমন আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র পদপ্রার্থী সরওয়ার আজম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ প্রার্থী ভোটকেন্দ্র দখল করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন। ভোটের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে, প্রশাসনের কাছ থেকে এ আশা করছি।’

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী মকছুদ মিয়া বলেন, ‘গতবার আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। এবারও নির্বাচিত হব। এটা বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তাঁর লোকজন সংখ্যালঘুর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এমনকি নৌকায় ভোট না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তারপরও আতঙ্কিত না হয়ে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
জানতে চাইলে পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য বিজিবির ৪০ জনের ও র্যাবের ১৬ জনের দুটি দল মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
চকরিয়া: চকরিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ও বিএনপির নুরুল ইসলাম হায়দার। প্রচারণায় বাধা ও সংঘর্ষের কারণে ভোটারদের ভীতি থাকলেও প্রশাসনের আশ্বাসে তা কেটে গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ভোটের আশা করছেন ভোটাররা।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মো. কালু বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে ভোটের উৎসব বিরাজ করছে। এখানে কোনো আতঙ্ক নেই। সব প্রার্থী আমাদের আপনজন। তবে বিপদে-আপদে যাঁকে কাছে পেয়েছি, তাঁকেই ভোট দেব।’ একই অবস্থা ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও। এখানকার ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা নেই।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ ভাষ্য, উন্নয়ন ও দুঃসময়ে যাঁদের কাছে পেয়েছেন তাঁদের ভোট দেবেন। সিকদারপাড়ার ভোটার নুরুল কাউছার (৩৬) বলেন, ‘এ ওয়ার্ডের লোকজন প্রতিনিধি নির্বাচনে ভুল করে না। যাঁরা সব সময় আমাদের কাছে থাকেন, তাঁদের আমরা নির্বাচিত করব।’
তবে ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী থেকে ভোটার সবাই শঙ্কিত। এ ওয়ার্ডের তরুণ ভোটার আহমদ রুবেল বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হবে কি না জানি না। যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়, তাহলে কালোটাকার মালিক ও সন্ত্রাসীদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।’
এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মিজাউল হক বলেন, ‘এক প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোট ডাকাতি করবে বলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন। এখন ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার চকরিয়া পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ১৮টি ভোটকেন্দ্রের ১২২টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৬ জন পুলিশ ও ১৪ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া চারটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, দুই প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের চারটি টিম ও পুলিশের ছয়টি ভ্রাম্যমাণ দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। তাদের পাশাপাশি চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা কমিশনার (ভূমি) নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে বিএনপির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষ পাঠিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনিতেই আমার ওপর হামলার পর থেকে সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শঙ্কিত। তারপরও ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা ভোটে আছি।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ।
আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট হবে। আমার কর্মী-সমর্থকেরা কাউকে হুমকি দেয়নি। কারও ওপর হামলাও করেনি। মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। সবাই যার যার অধিকার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়ে যোগ্য নেতা নির্বাচিত করে বাড়ি ফিরবে।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁরা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন। সব কেন্দ্রে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী সব সরঞ্জাম প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো হয়েছে। এক দিন আগে থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীরাও অবস্থান নিয়েছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

No comments:
Post a Comment