সুষ্ঠু ও প্রতিশ্রুতিশীল (honest) নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোট দেয়ার অধিকারকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি মুক্তভাবে কথা বলা, মুক্তভাবে ধর্ম চর্চা, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দু’দেশের মানুষের ডিএনএ’তেই রয়েছে গণতন্ত্রের বসবাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় এসব কথা বলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। এ কথা বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে। ২৯শে মার্চ ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ওই আলোচনা আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা, জেমস মরিয়ার্টি, রাষ্ট্রদূত তেজি, হাউয়ি শফার। আলোচনায় বক্তব্য রেখে নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিনি বলেন, ৪৫ বছর আগে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর বেশ কয়েক মাস পর সব বাধা পেরিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। এ সময় নিশা বাংলাদেেশর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে খাদ্য আমদানিকারক থেকে খাদ্য রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর অন্যতম এ দেশটি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা করছে। ২০ বছর ধরে প্রতি বছর এ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় শতকরা ৬ ভাগ। এর মধ্য দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে টেনে তোলা হয়েছে। শিশু জন্ম দিতে গিয়ে মায়েদের মৃত্যুর ঘটনা কমেছে। নবজাতকদের পরিণত বয়সে পৌঁছানোর সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের ভিতর সৃষ্টি হওয়া গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাকের মতো সংগঠন বাকি বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেলকে অনুসরণ করতে হবে। নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, বাংলাদেশের এসব সাফল্যের অনেকগুলোতে গর্বিত অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইড মিশন প্রতি বছর বাংলাদেশের মানুষকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া, দীর্ঘজীবি হওয়া ও আরও উৎপাদনমুখী জীবনযাপনের জন্য প্রায় ২০ কোটিপ ডলার বিনিয়োগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অন্য কোন দেশ বাংলাদেশী পণ্য বেশি কেনে না। প্রতি বছর ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থের পণ্য বাংলাদেশ থেকে কেনে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্য বাংলাদেশে তৈরি। এর ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবনমানের সহায়ক হয়। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। জঙ্গি ও সন্ত্রাস বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য অনেক সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এসব জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কর্মকা- মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো হরণ করছে। এর বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে আমরা বাংলাদেশের পাশে থাকবো। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামেও আমরা বাংলাদেশের পাশে থাকবো। জলবায়ুর পরিবর্তন উপকূলে কয়েক লাখ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, আগামী দশকগুলোতে আমাদের জন্য রয়েছে নতুন নতুন ক্রমবর্ধমান জটিল চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদেরকে ন্যায়নিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে ও সমস্যার সমাধান করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ৪৫ বছর ধরে একে অন্যের সঙ্গে আছে। আমি দৃঢ় আস্থাশীল যে, হাতে হাত ধরে আমাদের দু’দেশের মানুষ কাজ করার কারণে এমন কোন সমস্যা থাকবে না যার সমাধান করা যাবে না, আমরা সমাধান করতে পারবো না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment