Wednesday, March 30, 2016

এক বছরে ইয়েমেনে ৯০০ শিশু হত্যা

২০১৫ সালে ইয়েমেনে হত্যা করা হয়েছে প্রায় ৯০০ শিশুকে। এক রিপোর্টে এ কথা বলেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। এতে আরও বলা হয়েছে, ওই দেশটিতে এ সময়ে আহত হয়েছে ১৩০০ শিশু। মঙ্গলবার ইউনিসেফ ওই রিপোর্ট  প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ১৫৬০টি শিশুর প্রতি ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার ঘটনা তারা শনাক্ত করেছে। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে সাত গুন। প্রতিদিন গড়ে ৬ টি শিশুকে  হত্যা করা হয়েছে। শিশু হত্যা এবং নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে  তাইজ, সানা, সা’দা, এডেন এবং হাজ্জাহ এলাকায়। এ সব এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড ঘটেছে। ২০১৪  সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় শিয়াপন্থি হুতি গ্রুপ রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু হাদিকে নির্বাসনে পাঠায়। তাদেরকে সমর্থন দেয় ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহর অনুগতরা। এর ফলে দেশটির ভিতরের সার্বিক পরিস্থিতি ২০১৫ থেকে চরম আকার ধারণ করতে থাকে। একই সঙ্গে  ইসলামিক স্টেট (আইএস)  ইয়েমেনে প্রথম আক্রমণ চালালে সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের যৌথ বাহিনী হুতিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়ে মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা  প্রায় আশি ভাগ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে যায়।  ইউনিসেফ বলছে, আক্রান্তদের  মধ্যে অর্ধেকই শিশু।  যুদ্ধে  শিশুদের অংশগ্রহণের করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সব শিশুর বয়স দশ বছরের বেশি নয়। ইয়েমেনে  জাতিসংঘের মুখপাত্র ইসমাইল আউলদ শেখ আহমেদ জানান, আগামী ১০ই এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ইয়েমেনে বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। ১৮ই এপ্রিল এসব গ্রুপের মধ্যে শান্তি আলোচনা হতে যাচ্ছে কুয়েতে। আলোচনায় পাঁচটি প্রধান ইস্যু গুরুত্ব পাবে। সেগুলো হলÑ ইয়েমেন থেকে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের অপসারণ, রাষ্ট্রের কাছে ভারি অস্ত্রশস্ত্র ফেরত দেয়া, অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনঃস্থাপন ও সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সংলাপ শুরু, বন্দি এবং সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন।

No comments:

Post a Comment