![]() |
| মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, |
এশীয়
উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর শেষে ৬ দশমিক ৭
শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকে ‘অবাস্তব’ বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা এ বি আজিজুল ইসলাম। তাঁর মতে, ৬ দশমিক ৭
শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ‘অবাস্তব উচ্চাশা বা আনরিয়ালেস্টিক হাই’। মির্জ্জা
আজিজ বলেন, ‘প্রথমত, প্রবাসী-আয় বা রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিতে একটা বড়
ভূমিকা পালন করে। সেখানে গত আট মাসে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। সুতরাং বছর শেষে ৫
শতাংশ প্রবৃদ্ধি, এটিও অর্জনের কোনো সম্ভাবনা দেখি না। বর্তমানে
মধ্যপ্রাচ্যে যে অবস্থা চলছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই
প্রবাসী-আয়ের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রায় অসম্ভব। অন্য যেসব সূচক রয়েছে,
সেগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছি। কর
আদায় নির্ভর করে প্রধানত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর। বর্তমান কর আদায়
পরিস্থিতি যে বার্তা দিচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে
একধরনের শ্লথগতি রয়েছে।’ মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, ‘কাঁচামাল আমদানির
ক্ষেত্রে গত জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়কালে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তা-ও আগের
বছরের চেয়ে কম। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আমাদের দেশের যে উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে,
সেটি পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে না। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি
প্রবৃদ্ধিও গত অর্থবছরের তুলনায় কম। যদিও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির
হিসাবকে অতিরঞ্জিত বলে আমি বিভিন্ন সময়ে অভিহিত করেছি। এখন পর্যন্ত যে
তথ্য, তাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিটা ভালো আছে।’ এসব পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্তের
ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রবৃদ্ধি আগের বছরের চেয়ে বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে
যাবে, সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন না মির্জ্জা আজিজ। তিনি মনে করেন,
সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, এডিবি হয়তো তার ভিত্তিতে এসব প্রক্ষেপণ
করেছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।

No comments:
Post a Comment