শারীরিক
ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির আজ মঙ্গলবারের
শুনানি থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের
(আরসিবিসি) বরখাস্ত শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো। বাংলাদেশ
ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইন থেকে পাচার
হওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে দেশটির সিনেট বিশেষ এ শুনানির
আয়োজন করেছে। মায়া সান্তোস অব্যাহতি চাইলেও ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত কিম ওয়ং
আজকের শুনানিতে অংশ নেবেন বলে আশা করছে সিনেট ব্লু রিবন কমিটি। ফিলিপাইনের
মাইডাস হোটেলের জাংকেট ক্যাসিনো অপারেটর কিম ওয়ং গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুর থেকে
ফিলিপাইনে ফিরেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ভিক্টর
ফার্নান্দেজ। কিম ওয়ংয়ের আইনজীবী আরও জানান, অর্থ পাচারের ঘটনায় তাঁর কাছে
যেসব তথ্য আছে সবই তিনি সিনেটকে জানাবেন। ফিলিপাইন সিনেটের ব্যাংক, আর্থিক
প্রতিষ্ঠান ও বৈদেশিক মুদ্রা-সম্পর্কিত কমিটির প্রধান সিনেটর সার্জি ওসমেনা
বলেন, রিজাল ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ক্যাসিনোর হাতে কীভাবে অর্থ গেল, সে
বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কিম ওয়ংয়ের কাছে আছে। এ ছাড়া চুরি হওয়া অর্থ কী
কারণে কিম ওয়ং ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর হিসাবে জমা দিয়েছিলেন, সে বিষয়েও জানতে
চাওয়া হবে। সিএনএন ফিলিপাইন এ তথ্য দিয়েছে। সিনেট শুনানি থেকে অব্যাহতি
পেতে মায়া সান্তোস দেগুইতো তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে সিনেট কমিটির প্রধান
তেওফিস্তো গুইংগোনার কাছে গতকাল সোমবার আবেদন করেন। এ আবেদনে বলা হয়েছে,
‘শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় আগামীকালের শুনানিতে আমার পক্ষে
উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। করজোড়ে আমার এ আবেদন বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি।’
মায়া সান্তোসের আইনজীবী রেনে সাগুইসাগ ফিলিপাইনের গণমাধ্যম র্যাপলারকে
বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা জেরা ও চাপের মধ্যে থাকায় শারীরিকভাবে
অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। ব্যাংকের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনায় মানসিক
চাপে তিনি অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। এর আগে ১৭ মার্চের শুনানি চলার সময়ও অসুস্থ
হয়ে পড়েন মায়া সান্তোস। চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইন থেকে পাচারে সরাসরি জড়িত
থাকার অভিযোগে ২২ মার্চ মায়া সান্তোস ও তাঁর সহকারী অ্যাঞ্জেলা তোরেসকে
বরখাস্ত করে আরসিবিসি কর্তৃপক্ষ। মায়া সান্তোসের আবেদনে আরও বলা হয়েছে,
স্বামী-সন্তানসহ জাপানগামী বিমান থেকে নামিয়ে আনার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষের
কঠিন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রথম পাতায়
অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর ছবি ছাপা হওয়া, জীবনের হুমকি, চাকরি হারানো, সর্বোচ্চ
শাস্তির ভয়—সব মিলিয়ে তীব্র শারীরিক ও মানসিক চাপ কাটাতে আগামী ৪ এপ্রিল
পর্যন্ত শুনানিতে অংশ নেওয়া থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন মায়া সান্তোস।
এ ছাড়া অর্থ পাচারের ঘটনার জন্য মায়া সান্তোস ও তাঁর সহকারী অ্যাঞ্জেলা তোরেসকে অভিযুক্ত করে ইতিমধ্যে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী উইলিয়াম সো গো। খুব শিগগির এই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করারও ঘোষণা দিয়েছেন গোর আইনজীবী। আজকের শুনানি প্রসঙ্গে সিনেটর তেওফিস্তো গুইংগোনা বলেন, ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যে অবৈধ উৎস থেকে এসেছে, বিষয়টি জানার পরও আরসিবিসি কেন সেই অর্থ যেতে দিল এবং স্থানীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করতে দিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে অর্থ গেল, সে বিষয়ে অনেক কিছু জানার বাকি আছে। অর্থ পাচারে আরসিবিসি ও ফিলরেমের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও জানতে চাইবে সিনেট।
আজকের শুনানিতে অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর সম্পৃক্ততার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। উইলিয়াম গোর মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিংয়ের নামে খোলা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেই আরসিবিসি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরানো হয়। অভিযুক্ত এই ব্যবসায়ীর বিষয়ে বর্তমানে আলাদা তদন্ত করছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) ও সিনেট ব্লু রিবন কমিটি।
এ ছাড়া অর্থ পাচারের ঘটনার জন্য মায়া সান্তোস ও তাঁর সহকারী অ্যাঞ্জেলা তোরেসকে অভিযুক্ত করে ইতিমধ্যে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী উইলিয়াম সো গো। খুব শিগগির এই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করারও ঘোষণা দিয়েছেন গোর আইনজীবী। আজকের শুনানি প্রসঙ্গে সিনেটর তেওফিস্তো গুইংগোনা বলেন, ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যে অবৈধ উৎস থেকে এসেছে, বিষয়টি জানার পরও আরসিবিসি কেন সেই অর্থ যেতে দিল এবং স্থানীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করতে দিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে অর্থ গেল, সে বিষয়ে অনেক কিছু জানার বাকি আছে। অর্থ পাচারে আরসিবিসি ও ফিলরেমের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও জানতে চাইবে সিনেট।
আজকের শুনানিতে অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর সম্পৃক্ততার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। উইলিয়াম গোর মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিংয়ের নামে খোলা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেই আরসিবিসি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরানো হয়। অভিযুক্ত এই ব্যবসায়ীর বিষয়ে বর্তমানে আলাদা তদন্ত করছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) ও সিনেট ব্লু রিবন কমিটি।

No comments:
Post a Comment