প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না মিয়ানমারের শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী অং
সান সুচি। কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। সে লক্ষ্যে
তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) প্রেসিডেন্ট পদে দু’জন
প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। তারা হলেন হতিন কাইওয়া ও হেনরি ভ্যানটিউ। তবে
এর মধ্যে হতিন কাইওয়া নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবেন এমনটা জোর দিয়ে বলছে
বিভিন্ন মিডিয়া। এই মনোনয়নের ফলে সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ আপাতত রুদ্ধ
হয়ে গেল। তবে তিনি এর আগে বলেছেন, তিনি থাকবেন প্রেসিডেন্টের ওপরে। এটা
পরিষ্কার যে তার দল থেকে যিনিই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন না
কেন, ক্ষমতার লাটাই থাকবে তার হাতেই। মিয়ানমারের রাজধানী ন্যাপিড থেকে
বিবিসির সাংবাদিক জোনাহ ফিশার বলছেন, শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের জন্য লড়াই
করেছেন সুচি। কিন্তু তাতে সম্মতি আসে নি। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয়
নির্বাচনে তিনি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু তার গন্তব্য
যে প্রেসিডেন্ট হওয়া এ বিষয়ে তিনি প্রাধান্য বিস্তারকারী সেনা কর্তৃপক্ষকে
সমঝোতায় আনতে পারেন নি। মিয়ানমারের সংবিধানের ৫৯ এফ ধারা অনুযায়ী যেহেতু
তার স্বামী ও সন্তান বৃটিশ পাসপোর্টধারী তাই তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন
না। তার দল এনএলডি যে হতিন কাইওয়াকে মনোনয়ন দিয়েছে তিনি অক্সফোর্ডের
গ্রাজুয়েট। তিনি সু চির জীবন সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানেন। দলের প্রতি
তিনি নিবেদিত প্রাণ। ২০১০ সালে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে সুচি মুক্তি পাওয়ার
সময়ও তিনি ছিলেন সুচির পাশে। সরকার চালাবার মতো যথেষ্ট যোগ্যতার আছে তার।
তবে অং সান সুচি নির্বাচনের আগেই পরিষ্কার করেছেন যদিও তার প্রেসিডেন্ট
পদবী ব্যবহারের অনুমতি নেই, তবু তিনিই থাকবেন ইনচার্জ। প্রেসিডেন্ট
নির্বাচন আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। এ প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রার্থী মনোনীত
করে প্রথম কাজটি সারলো এনএলডি। নিম্ন কক্ষ থেকে এনএলডি মনোনয়ন দিয়েছে হতিন
কাইওয়াকে। অন্যদিকে উচ্চ কক্ষ থেকে মনোনয়ন দিয়েছে চীনা সংখ্যালঘু
সম্প্রদায়ের এমপি হেনরি ভ্যানত্রিউকে। উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ সব দল থেকে
দেয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচিত করা হবে। এরপর উভয়
কক্ষ থেকে বিজয়ী প্রার্থীদের ওপর হবে ভোট। পার্লামেন্টে এ ভোটে যিনি বিজয়ী
হবেন তিনিই হবেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট। মোট প্রার্থী থাকবেন তিনজন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যে দু’জন প্রার্থী থাকবেন তারা হবেন ভাইস
প্রেসিডেন্ট। মিয়ানমার পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই আধিপত্য রয়েছে এনএলডির।
তাই সংবাদকর্মীরা বলছেন, সুচির ঘনিষ্ট হলেন হতিন কাইওয়া। তিনি যে
প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন তা প্রায় নিশ্চিত।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment