দ্বিতীয়
দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনার
মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেছেন, ভোটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির দায়
নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে না। তাঁর এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা,
নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তথা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার
দায়িত্ব ইসিরই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার হুকুমবরদার মাত্র।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন
কমিশনারের ভাষায় ‘দলের প্রতীক পাওয়া প্রার্থীরা’ সন্ত্রাস ও মাস্তানিতে
লিপ্ত হতে সাহস পেতেন না। ইসির নিষ্ক্রিয়তা ও নির্লিপ্ততাই তাঁদের বেপরোয়া
করে তুলেছে। দলের প্রতীক নিয়ে কারা সন্ত্রাসী কাজ করেছেন, কারা
প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের পদে পদে বাধা দিয়েছেন, সেসব ইসির অজানা নয়।
প্রতিদিনই গণমাধ্যমে এর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। প্রথম
দফায় অধিকাংশ কেন্দ্রে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রেই যেতে পারেননি। এ
অবস্থায় নির্বাচনের পর ইসি ভোটের যে পরিসংখ্যান হাজির করেছে, সেটিও
বিশ্বাসযোগ্য নয়। ইসি এখন দায় নিতে অস্বীকার করলেও মারামারির সুযোগ যে
তারাই করে দিয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। দলীয় প্রতীক পাওয়া যেসব প্রার্থী
সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিলেন, ইসি তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে
পারেনি বলেই এত মারামারি, অঘটন ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থীদের জন্য সমতল মাঠ তৈরি করা যে ইসির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, সেটি
সম্ভবত তারা ভুলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় শতাধিক
ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে যাতে কোনো প্রার্থীর
পক্ষের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না
পারে, সে জন্য ইসিকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটের নির্ভয় ও নির্বিঘ্ন
পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে হবে
না। ইসি মারামারির দায় না নিক, অন্তত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের
দায়িত্বটা নিক।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment