![]() |
| সোহাগী জাহান (তনু) |
তনুর
পোশাকি নাম সোহাগী জাহান। তনু নামটা কেমন ছোট্ট, ছায়াঢাকা, মায়া দিয়ে
ঘেরা। বাবা-মা, ভাইবোন, স্বজন-বন্ধুদের মুখে মুখে আদরের ডাকনাম। সোহাগী
নামের মধ্যেও অনেক মমতা। আর তার শেষের নাম ‘জাহান’ এখন আমাদের সুকীর্তিতে
গড়া এই দুনিয়াকে তীব্র বিদ্রূপ করছে। তাঁর নাম এখন আসলে শুধু আর তনু বা
সোহাগী নয়। প্রতিদিন নির্যাতন ও হত্যার শিকার আরও অনেক অনেক মেয়ের নাম এখন
তাঁরও নাম। নামের সেই অথই সমুদ্রে কত নাম কীভাবে খুঁজব? তাই আজকে মনের
মধ্যে তাঁদের সবার নাম মিলেমিশে হয়ে যাচ্ছে ‘সোহাগী’ বা ‘তনু’।
কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে নিরাপদ এলাকায় তাঁদের বাসার কাছে ২০ মার্চ রাতে বাবা মো. ইয়ার হোসেন তাঁর একমাত্র মেয়েটির রক্তাক্ত ক্ষত চিহ্নিত মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছিলেন। আজ (২৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত পুলিশ হত্যাকারী সন্দেহে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মৃতদেহটি জংলা জায়গায় পড়ে ছিল। ফেসবুকে আর দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে নানা জন অভিযোগ তুলেছেন, মেয়েটিকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। তবে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন কি না, সে কথা জানতে পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে। কাগজে তখনই পড়েছি, ময়নাতদন্ত হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিবেদন আসতে নাকি এক-দুই সপ্তাহ লেগে যাবে। কোথায় কে কী রিপোর্ট লিখবেন, কত দিনে আমরা এ বিষয়ে কী রায় জানতে পারব, তা তো জানি না। সোহাগীর বাবা ছিলেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ছোট কর্মচারী। সেই সুবাদে তাঁরা সেনানিবাসের নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতরকার কোয়ার্টারে থাকতেন। সোহাগী দুজন সেনাসদস্যের বাচ্চাদের পড়াতেন। সেদিন সন্ধ্যায় সেই টিউশনিতেই তিনি বেরিয়েছিলেন। পত্রিকায় রিপোর্টে যা পড়ছি, ঘটনা পুরোপুরি খোলাসা করে জানতে পারছি না। সত্যের চারপাশে স্বভাবত ধোঁয়াশা থাকে। স্পর্শকাতর সত্যের ধোঁয়াশা ঘনতর হয়। এমন ধোঁয়াশায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সত্যবাবু মারাও পড়তে পারেন বটে। এরই মধ্যে শোকাতুর বাবা-মা ও চাচাতো বোনকে র্যাবের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। সোহাগী জাহান কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়তেন। সোমবার ২৮ মার্চ প্রথম আলোর রিপোর্টে পড়লাম, এই তিনজনকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে মেয়েটির সঙ্গে কলেজের কোনো শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না। মা আনোয়ারা বেগম প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের বলেছেন, ‘এক কথা আশিবার জিজ্ঞেস করছে। কন ভিক্টোরিয়া কলেজের কার সঙ্গে তনুর সম্পর্ক আছল।’ মা-বাবা মেয়েকে কেন বিয়ে দেননি, তাঁদের বড় ছেলের সঙ্গে আত্মীয় কারও সম্পর্ক আছে কি না—এমন সব প্রশ্নও নাকি করা হয়েছে। মা কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ‘এইগুলা কী জিগাস করে? ক্যান করে? তনুর খুনের সঙ্গে এগুলার কী সম্পর্ক?’ তদন্ত হচ্ছে কেঁচো খোঁড়ার কাজ। কেঁচো খুঁড়তে কখনো সাপ বেরোয়। কখনো-বা সাপকে এড়াতে কেঁচো আমদানি করতে হতে পারে—এসব কথা মনে আপনা থেকে চলে আসছে। এ তদন্তের এসব প্রশ্ন বড় পরিচিত পথে হাঁটছে। মেয়ের আচার-আচরণ, চলন-বলনের মধ্যে দোষ খোঁজার এ পথ বড় বেশি চেনা। মেয়েটি হিজাব পরতেন। তাতে কী? তাঁর মরদেহে মাথার হিজাব খুলে ফেলা ছিল; লম্বা চুল ছিল কাঁচি দিয়ে কাটা। হিজাব মেয়েকে এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দিতে পারে না। তেমনি দোষারোপের হাত থেকেও বাঁচাতে পারে বলে মনে হয় না। তার ওপর তনু নাট্যকর্মী ছিলেন। পড়ালেখা শেষ হলে তিনি সেনানিবাসের স্কুলগুলোয় নাচ-গানের শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন। এসব তথ্য নিয়ে টানাহেঁচড়া হবে না, মনে সেই ভরসা পাচ্ছি কই? প্রথম আলোর প্রতিবেদক তনুর মা-বাবা ও চাচাতো বোনের সঙ্গে কথা বলেছেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অতিথিকক্ষে। তাঁরা সেনানিবাস এলাকা থেকে বেরিয়ে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে চাইছিলেন। কে জানে সে অনুমতি মিলবে কি না, নাকি তদন্তের জালে তাঁরাও আটকা পড়বেন! পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সেনানিবাসের ভেতরে ‘অন্য’দের ঢুকতে দেওয়া হোক। মায়ের কথাটা ছিল এ রকম: ‘অন্যদের ঢুকতে দিক। তারা দেখুক। ক্যামেরা চেক কইরা দেখুক কে খুন করছে।’ তদন্তকারীরা কী করছেন, তা তো আর জানি না। সাংবাদিকেরা অবাধ অনুসন্ধানের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, সেই খাটুনি আর সাহস করবেন কি না, তা-ও কি আর জানি?
তরুণেরা ফেসবুকে সোচ্চার হয়ে না উঠলে, জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে না পড়লে, এ ঘটনা পত্রিকার পাতায় কতটা স্থান পেত, কত দিন উজ্জীবিত থাকত, তা আমাকে ভাবায়। আমার গভীর দুঃখ ও লজ্জা হয়। নিজের ওপর রাগ হয়। নিশ্চেষ্ট নির্বিকারতার দায় আমিও তো এড়াতে পারব না। তাই অনেক মানুষের সঞ্চিত ক্ষোভ যখন দপ করে জ্বলে উঠে শিখায় শিখায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে, সে আগুন আমার মনে আশা জাগায়। কিছু প্রশ্নও কিন্তু মনে জাগে: নারী নির্যাতনের কোন ঘটনায় কেন অনেক মানুষ একসঙ্গে ক্ষোভে-প্রতিবাদে রাজপথে নামে? বিচার আর প্রতিকারের দাবিতে মানুষের বুকে কত দিন আগুন জ্বলে? ভারতের দিল্লিতে ২০১২ সালে ফিজিওথেরাপির ইন্টার্ন জ্যোতি সিং তথা ‘নির্ভয়া’র নৃশংস ধর্ষণ এবং তার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। সে দেশে নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা থেমে থাকেনি। তবে ওই মাত্রায় প্রতিবাদ কি আর হয়েছে? ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের দিনাজপুরে পুলিশের হাতে শিশু ইয়াসমিনের ধর্ষণ ও হত্যার কথা মনে পড়ে। সেটার প্রতিবাদে ক্রমে দেশজোড়া গণবিক্ষোভের কথা মনে পড়ে। সেই চাপেই পুলিশের তিনজন সদস্যের বিচার ও ফাঁসি হয়েছিল। কিন্তু ২০০৪ সালে সাভারে পোশাকশ্রমিক রাহেলা আখতারের গণধর্ষণ ও হত্যার কথাও আমার মনে পড়ে। ঘটনাটির প্রতিবাদে সংগঠিত টানা বিক্ষোভ তেমন হয়নি। অনেক পরে একজন মাত্র আসামির ফাঁসির দণ্ড হয়েছিল। পুলিশ তাঁকে আজও ধরে উঠতে পারেনি। আমি আরও মনে রাখি, এমন ঘটনা অসংখ্য, যেগুলো প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আগুন জ্বালতে পারে না, জ্বেলে রাখতে পারে না। আমার নিজের ছোট একটি মেয়ে আছে। প্রতিদিনের কাগজ পড়ি আর তার জন্য ভয় আমার বুককে খামচে ধরে। শুধু বিক্ষোভের আগুন আমার মেয়ের, আমার ‘তনু’র, নিরাপদে নির্ভয়ে বড় হওয়া আর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে পারবে না। আমি জানি যে সে জন্য আমাদের প্রত্যেককে নতুন করে মানুষ হতে শিখতে হবে। পরস্পরকে শেখাতে হবে। সেই আগুন মনের মধ্যে জ্বালতে হবে, অনেক যত্নে শিখাটি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জানি না, তনু হত্যার বিচার চেয়ে ছড়িয়ে পড়া আগুন ‘শিখা অনির্বাণ’ হয়ে উঠতে পারবে কি না। সেই আশা করতে খুব ইচ্ছা করছে।
কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে নিরাপদ এলাকায় তাঁদের বাসার কাছে ২০ মার্চ রাতে বাবা মো. ইয়ার হোসেন তাঁর একমাত্র মেয়েটির রক্তাক্ত ক্ষত চিহ্নিত মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছিলেন। আজ (২৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত পুলিশ হত্যাকারী সন্দেহে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মৃতদেহটি জংলা জায়গায় পড়ে ছিল। ফেসবুকে আর দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে নানা জন অভিযোগ তুলেছেন, মেয়েটিকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। তবে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন কি না, সে কথা জানতে পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে। কাগজে তখনই পড়েছি, ময়নাতদন্ত হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিবেদন আসতে নাকি এক-দুই সপ্তাহ লেগে যাবে। কোথায় কে কী রিপোর্ট লিখবেন, কত দিনে আমরা এ বিষয়ে কী রায় জানতে পারব, তা তো জানি না। সোহাগীর বাবা ছিলেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ছোট কর্মচারী। সেই সুবাদে তাঁরা সেনানিবাসের নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতরকার কোয়ার্টারে থাকতেন। সোহাগী দুজন সেনাসদস্যের বাচ্চাদের পড়াতেন। সেদিন সন্ধ্যায় সেই টিউশনিতেই তিনি বেরিয়েছিলেন। পত্রিকায় রিপোর্টে যা পড়ছি, ঘটনা পুরোপুরি খোলাসা করে জানতে পারছি না। সত্যের চারপাশে স্বভাবত ধোঁয়াশা থাকে। স্পর্শকাতর সত্যের ধোঁয়াশা ঘনতর হয়। এমন ধোঁয়াশায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সত্যবাবু মারাও পড়তে পারেন বটে। এরই মধ্যে শোকাতুর বাবা-মা ও চাচাতো বোনকে র্যাবের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। সোহাগী জাহান কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়তেন। সোমবার ২৮ মার্চ প্রথম আলোর রিপোর্টে পড়লাম, এই তিনজনকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে মেয়েটির সঙ্গে কলেজের কোনো শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না। মা আনোয়ারা বেগম প্রথম আলোর প্রতিবেদকদের বলেছেন, ‘এক কথা আশিবার জিজ্ঞেস করছে। কন ভিক্টোরিয়া কলেজের কার সঙ্গে তনুর সম্পর্ক আছল।’ মা-বাবা মেয়েকে কেন বিয়ে দেননি, তাঁদের বড় ছেলের সঙ্গে আত্মীয় কারও সম্পর্ক আছে কি না—এমন সব প্রশ্নও নাকি করা হয়েছে। মা কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ‘এইগুলা কী জিগাস করে? ক্যান করে? তনুর খুনের সঙ্গে এগুলার কী সম্পর্ক?’ তদন্ত হচ্ছে কেঁচো খোঁড়ার কাজ। কেঁচো খুঁড়তে কখনো সাপ বেরোয়। কখনো-বা সাপকে এড়াতে কেঁচো আমদানি করতে হতে পারে—এসব কথা মনে আপনা থেকে চলে আসছে। এ তদন্তের এসব প্রশ্ন বড় পরিচিত পথে হাঁটছে। মেয়ের আচার-আচরণ, চলন-বলনের মধ্যে দোষ খোঁজার এ পথ বড় বেশি চেনা। মেয়েটি হিজাব পরতেন। তাতে কী? তাঁর মরদেহে মাথার হিজাব খুলে ফেলা ছিল; লম্বা চুল ছিল কাঁচি দিয়ে কাটা। হিজাব মেয়েকে এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দিতে পারে না। তেমনি দোষারোপের হাত থেকেও বাঁচাতে পারে বলে মনে হয় না। তার ওপর তনু নাট্যকর্মী ছিলেন। পড়ালেখা শেষ হলে তিনি সেনানিবাসের স্কুলগুলোয় নাচ-গানের শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন। এসব তথ্য নিয়ে টানাহেঁচড়া হবে না, মনে সেই ভরসা পাচ্ছি কই? প্রথম আলোর প্রতিবেদক তনুর মা-বাবা ও চাচাতো বোনের সঙ্গে কথা বলেছেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অতিথিকক্ষে। তাঁরা সেনানিবাস এলাকা থেকে বেরিয়ে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে চাইছিলেন। কে জানে সে অনুমতি মিলবে কি না, নাকি তদন্তের জালে তাঁরাও আটকা পড়বেন! পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সেনানিবাসের ভেতরে ‘অন্য’দের ঢুকতে দেওয়া হোক। মায়ের কথাটা ছিল এ রকম: ‘অন্যদের ঢুকতে দিক। তারা দেখুক। ক্যামেরা চেক কইরা দেখুক কে খুন করছে।’ তদন্তকারীরা কী করছেন, তা তো আর জানি না। সাংবাদিকেরা অবাধ অনুসন্ধানের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, সেই খাটুনি আর সাহস করবেন কি না, তা-ও কি আর জানি?
তরুণেরা ফেসবুকে সোচ্চার হয়ে না উঠলে, জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে না পড়লে, এ ঘটনা পত্রিকার পাতায় কতটা স্থান পেত, কত দিন উজ্জীবিত থাকত, তা আমাকে ভাবায়। আমার গভীর দুঃখ ও লজ্জা হয়। নিজের ওপর রাগ হয়। নিশ্চেষ্ট নির্বিকারতার দায় আমিও তো এড়াতে পারব না। তাই অনেক মানুষের সঞ্চিত ক্ষোভ যখন দপ করে জ্বলে উঠে শিখায় শিখায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে, সে আগুন আমার মনে আশা জাগায়। কিছু প্রশ্নও কিন্তু মনে জাগে: নারী নির্যাতনের কোন ঘটনায় কেন অনেক মানুষ একসঙ্গে ক্ষোভে-প্রতিবাদে রাজপথে নামে? বিচার আর প্রতিকারের দাবিতে মানুষের বুকে কত দিন আগুন জ্বলে? ভারতের দিল্লিতে ২০১২ সালে ফিজিওথেরাপির ইন্টার্ন জ্যোতি সিং তথা ‘নির্ভয়া’র নৃশংস ধর্ষণ এবং তার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। সে দেশে নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা থেমে থাকেনি। তবে ওই মাত্রায় প্রতিবাদ কি আর হয়েছে? ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের দিনাজপুরে পুলিশের হাতে শিশু ইয়াসমিনের ধর্ষণ ও হত্যার কথা মনে পড়ে। সেটার প্রতিবাদে ক্রমে দেশজোড়া গণবিক্ষোভের কথা মনে পড়ে। সেই চাপেই পুলিশের তিনজন সদস্যের বিচার ও ফাঁসি হয়েছিল। কিন্তু ২০০৪ সালে সাভারে পোশাকশ্রমিক রাহেলা আখতারের গণধর্ষণ ও হত্যার কথাও আমার মনে পড়ে। ঘটনাটির প্রতিবাদে সংগঠিত টানা বিক্ষোভ তেমন হয়নি। অনেক পরে একজন মাত্র আসামির ফাঁসির দণ্ড হয়েছিল। পুলিশ তাঁকে আজও ধরে উঠতে পারেনি। আমি আরও মনে রাখি, এমন ঘটনা অসংখ্য, যেগুলো প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আগুন জ্বালতে পারে না, জ্বেলে রাখতে পারে না। আমার নিজের ছোট একটি মেয়ে আছে। প্রতিদিনের কাগজ পড়ি আর তার জন্য ভয় আমার বুককে খামচে ধরে। শুধু বিক্ষোভের আগুন আমার মেয়ের, আমার ‘তনু’র, নিরাপদে নির্ভয়ে বড় হওয়া আর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে পারবে না। আমি জানি যে সে জন্য আমাদের প্রত্যেককে নতুন করে মানুষ হতে শিখতে হবে। পরস্পরকে শেখাতে হবে। সেই আগুন মনের মধ্যে জ্বালতে হবে, অনেক যত্নে শিখাটি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জানি না, তনু হত্যার বিচার চেয়ে ছড়িয়ে পড়া আগুন ‘শিখা অনির্বাণ’ হয়ে উঠতে পারবে কি না। সেই আশা করতে খুব ইচ্ছা করছে।

No comments:
Post a Comment