![]() |
| ফিদেল কাস্ত্রো। |
কিউবার
জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘কোনো উপহারের প্রয়োজন নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন
দেশটির বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো। সম্প্রতি কিউবায়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঐতিহাসিক সফরের প্রতিক্রিয়ায় প্রথমবারের
মতো আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক হাজার ৫০০ শব্দের দীর্ঘ এক চিঠিতে
ফিদেল কাস্ত্রো এ মন্তব্য করেন। কিউবার সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্রানমা’য়
প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি কিউবায় মার্কিন আগ্রাসনের দীর্ঘ ইতিহাসও তুলে
ধরেন। ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর প্রথম মার্কিন ক্ষমতাসীন
প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা কিউবা সফর করেন। দীর্ঘ বৈরিতার অবসান
ঘটানোর অংশ হিসেবে ৮৮ বছর পর ওবামা গত সপ্তাহে কিউবা সফরে যান। তবে এ সময়
ওবামা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। চিঠিতে ফিদেল বলেন, ‘ওই
সাম্রাজ্য (মার্কিন) থেকে আমাদের কোনো উপহারের দরকার নেই।’ মতামতধর্মী ওই
লেখায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং তাঁর কথাবার্তার সমালোচনা করে ফিদেল
কাস্ত্রো বলেন, ‘আমার বিনয়ী পরামর্শ হবে, ওবামা যেন কিউবার রাজনীতি নিয়ে
তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা না করেন।’ ফিদেলের মন্তব্যে এটা বোঝা গেল যে,
বারাক ওবামার সফরে ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের জন্য অনেক পথ
পাড়ি দিতে হবে। ৮৯ বছর বয়সী কিউবার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তার
‘বিনয়ী প্রস্তাব’ ছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যেন ‘কিউবার
রাজনীতি সম্পর্কে তার তত্ত্ব ফলাতে চেষ্টা না করেন।’ কিউবা সফরকালে ওবামা
হাভানা গ্র্যান্ড থিয়েটারে লাইভ টিভি ভাষণে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, দুই
দেশের জন্য ‘আশার ভবিষ্যৎ’ তৈরি হবে। কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর
প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবামা বলেছিলেন, মার্কিনিদের পক্ষ থেকে কোনো হুমকিতে
এবং ‘কিউবার জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ভয় করার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি কিউবায়
মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন, যা পরে বেশ প্রশংসা
কুড়িয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন ও কিউবার মধ্যেকার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার
ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা
শুধুমাত্র মার্কিন কংগ্রেস প্রত্যাহার করতে পারে।

No comments:
Post a Comment