Monday, March 28, 2016

লাহোরে আত্মঘাতী বোমায় নিহত ৬৫

পাকিস্তানের লাহোরে গতকাল
বোমা বিস্ফোরণে আহত এক শিশুকে
হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন স্বজনেরা
পাকিস্তানের লাহোরে গতকাল রোববার আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৬৫ জন নিহত ও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। খ্রিষ্টানদের ইস্টার সানডে উৎসব উদ্যাপনকালে নগরীর ভিড়ে ঠাসা একটি পার্কের গাড়ি রাখার স্থানে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ হামলার দায় স্বীকার করে তালেবানের একটি পক্ষ জামাত–উল–আহরার বলেছে, খ্রিষ্টানরাই ছিল এ হামলার লক্ষ্য। লাহোরের শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘শহরের গুলশান-ই-ইকবাল পার্কে বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ খবরে বলা হয়, বোমা বিস্ফোরণের পর বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটতে দেখা যায়। যে স্থানে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেই পার্কটি নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। হতাহত ব্যক্তিদের অনেকেই নারী ও শিশু। মোহাম্মদ ওসমান বলেন, হামলার পর সেনাসদস্যদের ডাকা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও নিরাপত্তা রক্ষার কাজে সহায়তা করছেন তাঁরা।
শহরের জিন্নাহ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আশরাফ জানান, ৪০ জনের বেশি লোকের মরদেহ এ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত ব্যক্তির সংখ্যা দুই শতাধিক। তাদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের ভিড়ে হাসপাতালটিতে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে আশরাফ আরও জানান, হাসপাতালের মেঝে ও করিডরগুলোতেও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।
বিস্ফোরণস্থল পার্কের উল্টো দিকে একটি বাড়ির বাসিন্দা জাভেদ আলী হামলার প্রচণ্ডতার বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন, ‘এটা এত তীব্র ছিল যে, তাঁর বাড়ির জানালাগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি, কান্নাকাটি। ধুলায় ঢেকে যায় চারদিক।’ জাভেদ আলী আরও বলেন, ‘বিস্ফোরণের ১০ মিনিট পর আমি বাইরে বের হই। দেখি, আমাদের বাড়ির দেয়ালে লেগে আছে মানুষের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ।’ তিনি বলেন, ‘ইস্টার সানডে উপলক্ষে পার্কটি লোকে ঠাসা ছিল। সেখানে ছিলেন অনেক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোক। প্রচণ্ড ভিড় থাকায় আমি পরিবারের লোকজনকে বাইরে যেতে আগেই মানা করেছিলাম।’ ২০০৪ সাল থেকে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে পাকিস্তান সরকার। সরকারকে উৎখাতের অংশ হিসেবে দেশটিতে অনেকটা নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে আসছে পাকিস্তান তালেবান। তবে ভারত সীমান্তের কাছাকাছি নগর লাহোর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক শান্ত ছিল।
২০১৪ সাল থেকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। এরপর সার্বিকভাবে সহিংসতার মাত্রা কমে গেছে। এরই মধ্যে ভয়ানক এ হামলা হলো। এ ঘটনার আগে ১৬ মার্চ পেশোয়ারে একটি বাসে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় অন্তত ১৬ জন।

No comments:

Post a Comment